ব্লেন্ডার ও জুসারের খুঁটিনাটি
দৈনন্দিন অনেক কাজ সহজ করছে আধুনিক পণ্য
শারমিন রহমান
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৭:১৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ব্যস্ত জীবনে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে ও কাজকে সহজ করতে বাজারে নতুন নতুন সব পণ্য আসছে। এসব পণ্যের মধ্যে পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে ব্লেন্ডার ও জুসার। এসব যন্ত্র দৈনন্দিন অনেক কাজকে করেছে সহজ ও দ্রুত। মসলার গুঁড়া, স্মুদি, মিল্কশেক তৈরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের জুস তৈরির কাজে এসব আধুনিক যন্ত্র ব্যবহৃত হচ্ছে। অনেকেই ব্লেন্ডার ও জুসারের পার্থক্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখেন না। তাই প্রয়োজন ও ব্যবহার বুঝে সঠিক যন্ত্রটি বেছে নেওয়া জরুরি।
ব্লেন্ডার: ফল, সবজি, দুধ, বরফ কিংবা অন্যান্য উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে মসৃণ মিশ্রণ তৈরি করতে ব্লেন্ডার বেশ কার্যকর। মসলা গুঁড়া করতেও এর জুড়ি নেই। এর ধারালো ব্লেড দ্রুত ঘুরে উপকরণগুলোকে গুঁড়া বা তরল করে দেয়। স্মুদি, মিল্কশেক, স্যুপ, সস, চাটনি কিংবা শিশুখাদ্য তৈরিতে ব্লেন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। ব্লেন্ডারে ফল বা সবজির আঁশও থাকে। ফলে এতে পুষ্টিগুণ তুলনামূলক বেশি বজায় থাকে।
জুসার
জুসার মূলত ফল ও সবজি থেকে রস আলাদা করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি ফলের শাঁস ও আঁশ আলাদা করে শুধু তরল অংশ বের করে দেয়। যারা আঁশবিহীন ফলের রস পান করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য জুসার বেশ উপযোগী। গাজর, আপেল, কমলা, বিট কিংবা বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফলের রস তৈরিতে জুসার ব্যবহৃত হয়। গরমের দিনে টাটকা ফলের বা সবজির রস তৈরি করতে পারেন ঘরে বসেই।
ধরন অনুযায়ী জুসার মূলত তিন প্রকারের হয়ে থাকে–
সেন্ট্রিফিউগাল জুসার: সবচেয়ে সাধারণ ও দ্রুতগতির জুসার। উচ্চগতিতে ফল বা সবজি কেটে রস বের করে।
কোল্ড প্রেস বা ম্যাস্টিকেটিং জুসার: ধীরে ধীরে ফল পিষে রস বের করে; যার ফলে পুষ্টিমান ও স্বাদ সবচেয়ে ভালো থাকে।
সাইট্রাস জুসার: লেবু বা কমলা জাতীয় ফলের জন্য বিশেষভাবে তৈরি।
ব্লেন্ডার না জুসার–কোনটি বেশি উপযোগী?
স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ব্লেন্ডার অনেক ক্ষেত্রে বেশি উপকারী। কারণ এতে ফলের ফাইবার নষ্ট হয় না। শুধু ফলের রস খেতে চাইলে জুসার ভালো বিকল্প। বহুমুখী ব্যবহার চাইলে ব্লেন্ডার সাধারণত বেশি কার্যকর ও সাশ্রয়ী।
গরমে ব্লেন্ডার ও জুসারের উপকারিতা
দ্রুত ঠান্ডা পানীয় তৈরি–ফলের জুস, স্মুদি, শরবত, মিল্কশেক বা লাচ্ছি তৈরি করা যায়।
শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সাহায্য করে। তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, লেবু ইত্যাদি দিয়ে পানীয় বানিয়ে পানিশূন্যতা কমানো যায়।
পুষ্টি গ্রহণ সহজ হয়–বিভিন্ন ফল ও সবজি একসঙ্গে ব্লেন্ড করে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণ করা যায়।
ফাইবার সংরক্ষণ–ব্লেন্ডারে তৈরি স্মুদিতে ফলের খাদ্যআঁশ (ফাইবার) থাকে, যা হজমের জন্য উপকারী।
স্বাস্থ্যকর বিকল্প–বাজারের কোমল পানীয়ের পরিবর্তে ঘরে কম চিনি বা চিনি ছাড়া পানীয় তৈরি করা যায়।
সময় ও শ্রম সাশ্রয়–অল্প সময়ে পরিবারের জন্য একসঙ্গে বেশি পরিমাণ পানীয় প্রস্তুত করা সম্ভব।
বিভিন্ন রেসিপি তৈরির সুবিধা–ঠান্ডা স্যুপ, ফলের পিউরি, আইসড ড্রিংক এবং শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা যায়।
কোথায় পাবেন
বর্তমানে দেশের প্রায় সব বড় ইলেকট্রনিক্স শোরুম, সুপারশপ এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসে ব্লেন্ডার ও জুসার পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন শপিং মল ও ইলেকট্রনিক্স মার্কেটে দেশি-বিদেশি নানা ব্র্যান্ডের পণ্য মিলছে।
সিঙ্গার বাংলাদেশ, ওয়ালটন বাংলাদেশ, ভিশন ইলেকট্রনিক্স, যমুনা ইলেকট্রনিক্সের শোরুমগুলোয় বিভিন্ন ধরনের ব্লেন্ডার ও জুসার পাওয়া যায়। এ ছাড়া রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের বিভিন্ন দোকানেও মিলবে নানা ব্র্যান্ডের ব্লেন্ডার ও জুসার। অনলাইনে দারাজ বাংলাদেশে বিভিন্ন দামের ও মডেলের পণ্য পাওয়া যায়।
দরদাম
সাধারণ ব্লেন্ডার পাওয়া যাবে ২ থেকে ৫ হাজার টাকায়, মাল্টিফাংশন ব্লেন্ডার পাবেন ৫-৮ হাজার টাকায়, প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ব্লেন্ডার মিলবে ১০-২০ হাজার টাকা বা তার বেশিতে। সাধারণ জুসার কিনতে পারবেন ৩-৬ হাজার টাকায়, সেন্ট্রিফিউগাল জুসার কিনতে পাওয়া যাবে ৬-১২ হাজার টাকায়, কোল্ড-প্রেস বা স্লো জুসার কিনতে খরচ পড়বে ১২ হাজার টাকা বা তার বেশি।
- বিষয় :
- জুস
