ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

জীবাণুমুক্ত ঘর

জীবাণুমুক্ত ঘর
×

নিয়ম মেনে ঘর জীবাণুমুক্ত রাখা নিশ্চিত করা জরুরি

শৈলী ডেস্ক 

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভ্যাপসা গরমে বৃষ্টি অনেকটা স্বস্তি দেয়। তবে মেঘমেদুর আবহাওয়ায় ঘরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বিরাজ করে। এতে ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও মশার উৎপাত বাড়ে। টানা বৃষ্টিতে ঘরের আর্দ্রতা বেড়ে গেলে দুর্গন্ধ, দেয়ালে ফাঙ্গাস, রান্নাঘরে জীবাণুর বিস্তার ঘটে। এতে নানা ধরনের অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ে। তাই এ সময় ঘর যেমন পরিষ্কার রাখতে হবে, তেমনি নিয়ম মেনে জীবাণুমুক্ত রাখার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।

ঘরে বাতাস চলাচলের সুযোগ রাখুন 
ঘর জীবাণুমুক্ত রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট জানালা-দরজা খুলে রাখুন। যদি খুব বেশি রোদ কিংবা তুমুল বৃষ্টি না থাকে, তাহলে দিনের অধিকাংশ সময় জানালা-দরজা খোলা রাখতে পারেন। এতে ঘরের আর্দ্রতা কমে এবং ভেতরের দূষিত বাতাস বের হয়ে যায়। যদি সরাসরি সূর্যের আলো ঘরে আসে, তাহলে সেটি ঢুকতে দিন। সূর্যালোক অনেক ধরনের জীবাণুর বাড়বাড়ন্ত কমাতে সাহায্য করে।

ভেজা জায়গা দ্রুত শুকিয়ে ফেলুন
মেঝে, বাথরুম কিংবা বারান্দায় পানি জমে থাকলে দ্রুত মুছে ফেলুন। দীর্ঘ সময় ভেজা পরিবেশে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবিস্তার করে। গাছের টবে পানি জমে থাকলে তা ফেলে দিন। কারণ জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে।  

রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতায় 
রান্নাঘরের সিঙ্ক, কাটিং বোর্ড, স্পঞ্জ ও ডিশক্লথ নিয়মিত পরিষ্কার করুন। ভেজা স্পঞ্জ দীর্ঘদিন ব্যবহার না করে নির্দিষ্ট সময় পরপর বদলে ফেলুন। খাবার খোলা অবস্থায় রাখবেন না। নয়তো পেটে সংক্রমণ বাড়বে। 

বাথরুম নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করুন
টয়লেট, বেসিন, কলের হাতল, দরজার নব–এসব জায়গা প্রতিদিন পরিষ্কার করা উচিত। কারণ এগুলো সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করা হয় এবং জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকিও বেশি।

ফাঙ্গাস দেখা দিলে অবহেলা নয়
দেয়াল, আলমারি বা জানালার কোণে কালো বা সবুজ দাগ দেখা দিলে দ্রুত পরিষ্কার করুন। ফাঙ্গাস শুধু ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করে না, শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও ত্বকের সমস্যাও তৈরি করতে পারে।

বিছানাপত্র শুকনো রাখুন
চাদর, বালিশের কভার, তোয়ালে ও কম্বল নিয়মিত ধুয়ে রোদে শুকানো সবচেয়ে ভালো। রোদ না থাকলে ভালোভাবে শুকিয়ে তবেই ব্যবহার করুন। ভেজা কাপড় আলমারিতে রাখবেন না।
আবর্জনা জমতে দেবেন না
ডাস্টবিন প্রতিদিন খালি করুন এবং ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিন ব্যবহার করুন। আবর্জনা জমে থাকলে মাছি, তেলাপোকা ও দুর্গন্ধের পাশাপাশি জীবাণুও বাড়ে।

মশা ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে
বৃষ্টির সময়ে ঘরে পোকামাকড়, পিঁপড়ার উপদ্রব বেড়ে যায়। বেড়ে যায় মশার উপদ্রব। তাই  ঘরের আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কিনা খেয়াল করুন। নিজে সুস্থ থাকতে এবং শিশুদের সুস্থ রাখতে মশারি ব্যবহার করুন। প্রয়োজন হলে নিরাপদ কীটনাশক বা মশা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। পোকামাকড় তাড়াতে ঘর মোছার সময় পানিতে নিম তেল মেশাতে পারেন। এ ছাড়া একটি স্প্রে বোতল সমপরিমাণ পানি ও নিম তেল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে রাখতে পারেন। প্রতিদিন ঘরে মিশ্রণটি স্প্রে করুন। এতে বর্ষায় ঘরের ভ্যাপসা গন্ধ দূর হবে। সেই সঙ্গে ঘর থাকবে জীবাণুমুক্ত। 
ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে বেকিং সোডাও ব্যবহার করতে পারেন। গরম পানিতে এক চামচ বেকিং সোডা এবং ৩-৪ ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। এই মিশ্রণটি দিয়ে দুবার ঘর মুছলে ঘর জীবাণুমুক্ত হবে। 

প্রাকৃতিক সুগন্ধ ব্যবহার 
লেবু, নিমপাতা বা টি-ট্রি অয়েলের মতো কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ঘরের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এগুলো জীবাণুনাশকের বিকল্প নয়; নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি ব্যবহার করা যেতে পারে। 

আরও পড়ুন

×