ফেস মিস্টে সতেজ
আফরিনা আক্তার
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফেস মিস্ট একটি পানি বা জলভিত্তিক স্কিনকেয়ার পণ্য, যা ত্বককে দ্রুত সতেজ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ত্বককে তাৎক্ষণিক ময়েশ্চারাইজ রাখতে সাহায্য করে
এ সময়ের ভ্যাপসা গরমে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি। এই আবহাওয়ায় কখনও হঠাৎ বৃষ্টি, আবার কখনও তীব্র গরমে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। পানিশূন্যতার কারণে ত্বকে জ্বালাপোড়া, শুষ্কতা, রোদের উত্তাপে ত্বক লালচে হয়ে যাওয়া কিংবা র্যাশ বের হওয়া এ সময়ের অন্যতম সমস্যা। পাশাপাশি চোখের ক্লান্তি এবং চোখের চারপাশে কালো দাগের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে ফেস মিস্ট।
ফেস মিস্ট কী?
ফেস মিস্ট একটি পানি বা জলভিত্তিক স্কিন কেয়ার পণ্য, যা ত্বককে দ্রুত সতেজ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।
উপকারিতা
প্রাকৃতিক ফেস মিস্ট ত্বকের জ্বালাপোড়া কমিয়ে ত্বকে প্রশান্তি ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। আর্দ্র আবহাওয়ায় অনেকের ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে ফেস মিস্ট কার্যকরভাবে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন-সি, হায়ালুরোনিক এসিড এবং এএইচএর মতো উপাদান ত্বকে পুষ্টি জোগায়। এ ছাড়া ঋতু পরিবর্তনের ফলে ত্বকে যে পরিবর্তন আসে, তা সামঞ্জস্য রাখতে ফেস মিস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফেস মিস্ট কীভাবে এবং কখন ব্যবহার করবেন
মুখ পরিষ্কার করার পর ময়েশ্চারাইজার দেওয়ার আগে বা পরে ফেস মিস্ট ব্যবহার করা যায়। দিনের যে কোনো সময় এটি ব্যবহার করা সম্ভব। যখনই ত্বক স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি শুষ্ক মনে হবে, তখন ফেস মিস্ট ব্যবহার করতে পারেন। মেকআপ থাকলেও তার ওপর থেকে এটি ব্যবহার করা যায়। মুখ থেকে প্রায় ৬-৭ ইঞ্চি দূরে বোতলটি ধরে দুই-তিনবার স্প্রে করলেই যথেষ্ট।
ঘরোয়া উপকরণে ফেস মিস্ট তৈরি
শসা ও অ্যালোভেরার ফেস মিস্ট
শসা ও অ্যালোভেরার ফেস মিস্ট তৈরি করতে কয়েকটি শসা ছোট টুকরো করে ব্লেন্ড করুন। এরপর এতে এক-তৃতীয়াংশ কাপ বিশুদ্ধ পানি, এক চা চামচ অ্যালোভেরা জেল এবং এক চা চামচ উইচ হ্যাজেল মিশিয়ে ভালোভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। চাইলে উইচ হ্যাজেল বাদও দিতে পারেন। মিশ্রণটি এক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে পরে ব্যবহার করুন। গরমে ত্বকের অস্বস্তি দূর করতে জ্বালাভাব কমাতে শসা ও অ্যালোভেরার ফেস মিস্ট কার্যকর।
আরামদায়ক গোলাপের ফেস মিস্ট
আধা কাপ গোলাপ জল, তিন ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েল, এক চা চামচ গোলাপের নির্যাস এবং তিন ফোঁটা রোজ জেরানিয়াম অয়েল ভালোভাবে মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে সংরক্ষণ করুন।
গ্রিন টি ফেস মিস্ট
একটি গ্রিন টি-ব্যাগ আধা কাপ পানিতে ৩-৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর টি-ব্যাগটি সরিয়ে মিশ্রণটি ঠান্ডা করে স্প্রে বোতলে ভরে সংরক্ষণ করুন।
মধুর ফেস মিস্ট
আধা কাপ পানিতে দুই চা-চামচ মধু ও দুই চা-চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে রাখুন। এই মিশ্রণ ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং শুষ্ক ত্বককে দ্রুত সতেজ করতে সহায়তা করে।
গোলাপের পাপড়ি ও পুদিনা পাতার ফেস মিস্ট
গোলাপের পাপড়ি ও পুদিনা পাতা ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একটি পাত্রে পানি ফুটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে তাতে দুটি মাঝারি আকারের গোলাপের পাপড়ি এবং ১০-১৫টি পুদিনা পাতা দিয়ে ঢেকে রাখুন। পানি সম্পূর্ণ ঠান্ডা হলে ছেঁকে একটি স্প্রে বোতলে সংরক্ষণ করুন।
বাড়িতে তৈরি ফেস মিস্ট কীভাবে সংরক্ষণ করবেন
বাড়িতে তৈরি ফেস মিস্ট রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করলে প্রায় সাত দিন ব্যবহার করা যায় আর এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা হলে রুম টেম্পারেচারেও তুলনামূলক বেশি সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব।
দৈনন্দিন ব্যবহারে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা এবং আবহাওয়ার সঙ্গে ত্বকের ভারসাম্য রক্ষায় ফেস মিস্ট কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে ভ্যাপসা গরমে ফেস মিস্ট ব্যবহারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা
জরুরি।
- বিষয় :
- সতেজ ত্বক