প্রয়োজনে স্টাইলে
টোট ব্যাগ
সহজ ডিজাইনের টোট ব্যাগগুলো সবার কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে
রোজী আরেফিন
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
একসময় টোট ব্যাগ ছিল মূলত বাজার করা বা বই বহনের একটি সাধারণ ব্যাগ। সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলে গেছে। বর্তমানে এটি ফ্যাশন, স্বাচ্ছন্দ্য এবং সচেতন জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, কেনাকাটা, ছোট ভ্রমণ কিংবা দৈনন্দিন ব্যস্ত রুটিন–সব ক্ষেত্রেই টোট ব্যাগ নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। বিশেষ করে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় পুনর্ব্যবহারযোগ্য টোট ব্যাগ অনেকের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে।
টোট ব্যাগ কী
টোট ব্যাগ (Tote Bag) হলো–দুটি লম্বা হাতলযুক্ত অপেক্ষাকৃত বড় এবং সাধারণ কাপড়ের ব্যাগ। ইংরেজি ‘টোট’ (tote) শব্দটির অর্থ বহন করা। সাধারণত কাপড়, ক্যানভাস বা চামড়ার তৈরি এই ব্যাগগুলো খোলা মুখের হয়।
কেন টোট ব্যাগ এত জনপ্রিয়
আজকাল রাস্তায় কিংবা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, অনেক শিক্ষার্থীর কাঁধে ঝুলছে টোট ব্যাগ। অফিসগামীদের কাছেও এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সারাদিন কিংবা দীর্ঘ সময় বহন করা হলেও তুলনামূলকভাবে এই ব্যাগ অনেক আরামদায়ক। এ প্রসঙ্গে অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কালিন্দী’র প্রতিষ্ঠাতা মুনিয়া জামান বলেন, এই ব্যাগের জনপ্রিয়তার সবচেয়ে বড় কারণ হলো এটি স্টাইলিশ, ব্যবহারিক, একই সঙ্গে আরামদায়ক। টোট ব্যাগ খুবই সহজ ডিজাইনের একটি ব্যাগ। এতে সাধারণত একটি বড় কম্পার্টমেন্ট থাকে, সেখানে পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায়। এ কারণে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস সহজেই বহন করা যায়। কেউ চাইলে একটি মাঝারি বা বড় টোট ব্যাগে মোবাইল, মানিব্যাগ, পানির বোতল, ছাতা, বই, প্রসাধনসামগ্রীসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় অনেক কিছু সহজেই রাখতে পারেন। তিনি জানান, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী; বিশেষ করে যাদের প্রতিদিন অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতে হয়, তাদের কাছে টোট ব্যাগের গ্রহণযোগ্যতা বেশি।
কোন ধরনের টোট ব্যাগ চলছে এখন
ক্যানভাস, কটন, জুট, ম্যাক্রামে, লেদার, ক্রোশেটের তৈরি টোট ব্যাগ এখন সহজে পাওয়া যায়। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ক্যানভাস টোট ব্যাগ। কারণ, এটি মজবুত কাপড়ের তৈরি হওয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। কটন টোট ব্যাগ হালকা ও আরামদায়ক। তাই প্রতিদিনের সাধারণ কাজে এটি বেশ সুবিধাজনক। জুট টোট ব্যাগ প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি হওয়ায় পরিবেশবান্ধব এবং দেশীয় পোশাকের সঙ্গে বিশেষভাবে মানিয়ে যায়। ম্যাক্রামে টোট ব্যাগ সম্পূর্ণ হাতে গিঁটের কাজ করে তৈরি হওয়ায় প্রতিটি ব্যাগেই আলাদা শিল্প সৌন্দর্য থাকে। এটি মূলত একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হিসেবে জনপ্রিয়। অন্যদিকে লেদার টোট ব্যাগ অফিস, মিটিং বা আনুষ্ঠানিক পরিবেশের জন্য বেশ মানানসই। কারণ এই ব্যাগ দেখতে বেশ পরিপাটি এবং এগুলোকে লম্বা সময় ধরে রাফ ইউজ করা যায়। অন্যদিকে ক্রোশেট বা হাতেবোনা টোট ব্যাগ সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। ক্রোশেটের বিভিন্ন ডিজাইনের টোট ব্যাগগুলো হালকা ও নান্দনিক হওয়ায় অনেকেই এটি বহন করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী টোট ব্যাগ
অফিসের জন্য ল্যাপটপ, ফাইল ও প্রয়োজনীয় জিনিস বহনের উপযোগী মাঝারি বা বড় আকারের স্ট্রাকচার্ড ক্যানভাস কিংবা লেদার টোট ব্যাগ সবচেয়ে ভালো। কালো, বাদামি, নেভি বা বেইজের মতো রং ফরমাল পোশাকের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। তবে নিয়মিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেমন–ক্লাসে যাওয়া, বাজার করা বা দৈনন্দিন কাজে হালকা ও মজবুত ক্যানভাস বা কটনের টোট ব্যাগ সবচেয়ে সুবিধাজনক। এগুলো সহজে পরিষ্কারও করা যায়। ক্যাজুয়াল আড্ডা বা ঘোরাঘুরিতে প্রিন্টেড, রঙিন, ম্যাক্রামে বা জুটের টোট ব্যাগ পোশাকে আলাদা মাত্রা যোগ করে। প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার পাশাপাশি এই ব্যাগগুলো স্টাইলও বজায় রাখে। ঈদ, পূজা, পহেলা বৈশাখ, মেলা কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মতো বিশেষ দিনগুলোয় ব্যবহারের জন্য তাঁত, জামদানি, খাদি বা হ্যান্ডলুম পোশাকের সঙ্গে ম্যাক্রামে বা কারুকাজ করা জুটের টোট ব্যাগ দারুণ মানিয়ে যায়।
পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে
মুনিয়া জামানের মতে, বহুমাত্রিক ব্যবহারই টোট ব্যাগের আসল সৌন্দর্য। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, জিন্স, পশ্চিমা ধাঁচের সব ধরনের পোশাকের সঙ্গেই এই ব্যাগ দারুণ মানিয়ে যায়। সঠিক ডিজাইন নির্বাচন করলে একই ব্যাগ অফিস, ক্যাজুয়াল আউটিং বা ভ্রমণ–সব জায়গাতেই ব্যবহার করা যায়। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, জিন্স, টি-শার্ট বা শার্টের সঙ্গে সাদামাটা ক্যানভাস টোট ব্যাগ সবসময়ই মানানসই। কুর্তি, কটন ড্রেস কিংবা সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে জুট বা ব্লক প্রিন্টের টোট ব্যাগ সুন্দর লাগে। শাড়ির সঙ্গে ম্যাক্রামে, জুট বা হ্যান্ডক্রাফটেড টোট ব্যাগ দেশীয় সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। অন্যদিকে ব্লেজার, ট্রাউজার কিংবা ফরমাল পোশাকের সঙ্গে সলিড রঙের লেদার টোট ব্যাগ সবচেয়ে মানানসই।
দেশীয় বাজারে টোট ব্যাগের বৈচিত্র্য
দেশীয় ফ্যাশন জগতে টোট ব্যাগের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
মুনিয়া জামান বলেন, আমাদের লক্ষ্য থাকে এমন ব্যাগ তৈরি করা, যা দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য এবং পরিবেশের জন্যও সহায়ক। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। ফলে আমাদের টোট ব্যাগের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও ডিজাইনারও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন নকশা ও উপকরণ নিয়ে কাজ করছেন। ক্যানভাস, জুট, খাদি, তাঁত, ডেনিম থেকে শুরু করে চামড়া বিভিন্ন উপাদানে তৈরি টোট ব্যাগ এখন সহজেই পাওয়া যায়। টোটব্যাগের ক্ষেত্রে ‘কালিন্দী’ শতভাগ পাটের কাপড়েই প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে জানান মুনিয়া জামান। এ ছাড়া কটন ক্যানভাস এবং ভেজিটেবল-ট্যানড লেদারের ব্যাগ তৈরিতেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের শপিং মল, বুটিক, ফ্যাশন হাউস এবং হস্তশিল্পের দোকানে টোট ব্যাগ সহজেই পাওয়া যায়। পাশাপাশি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামভিত্তিক অসংখ্য অনলাইন উদ্যোগেও মিলছে নান্দনিক ও কাস্টমাইজড ডিজাইনের সংগ্রহ। এর মধ্যে কালিন্দী, ব্লম ব্যাগস, অগ্রি, তটিনী বিডি, ভাইব্রান্ট, ওটিক্রম উল্লেখযোগ্য।
দরদাম কেমন
টোট ব্যাগের দামের বিষয়টি মূলত ব্যবহৃত উপাদান, ডিজাইন ও আকারের ওপর নির্ভর করে। ‘কালিন্দী’-তে সাধারণত ৫০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের টোট ব্যাগ পাওয়া যায়। এ ছাড়া এগ্রিতে টোট ব্যাগ মিলবে ২৯০ টাকায়। ব্লুম ব্যাগে টোট ব্যাগ পাওয়া যাবে ৩৫০-৪০০ টাকায় আর সারা লাইফস্টাইলে টোট ব্যাগ পাবেন ৬০০ টাকায়। এ ছাড়া হাতে তৈরি ম্যাক্রামে, ক্রোশেট বা বিশেষ কারুকাজ করা টোট ব্যাগ কিনতে গেলে দাম পড়বে দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা বা তারও বেশি।
যত্ন নেবেন যেভাবে
আসলে টোট ব্যাগে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওজন বহন করা উচিত নয়। এতে ব্যাগের হাতল ও সেলাই দ্রুত নষ্ট হতে পারে। ক্যানভাস বা কটনের ব্যাগ মৃদু সাবান দিয়ে হাতে ধুয়ে ছায়ায় শুকানো ভালো। জুটের ব্যাগ দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখা ঠিক নয়। ম্যাক্রামের ব্যাগ ধোয়ার সময় জোরে ঘষাঘষি না করে আলতোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।
লেদারের ব্যাগে নিয়মিত শুকনো কাপড় দিয়ে ধুলো মুছে রাখতে হবে। আর্দ্রতা ও সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখতে হবে। ব্যবহার না করলে ব্যাগের ভেতরে কাগজ বা নরম কাপড় ভরে রাখুন। এতে ব্যাগের আকৃতি দীর্ঘদিন ঠিক থাকবে। পাশাপাশি একটা ন্যাপথলিন ব্যাগের মধ্যে রেখে ব্যাগটা ভালো করে প্যাকেট করে রেখে দেবেন। তাহলে যেদিন প্যাকেট থেকে বের করে ব্যবহার করতে শুরু করবেন, ব্যাগে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ হবে না।
- বিষয় :
- ব্যাগের দাম