জ্বরের পর রুচি ফেরাতে
পানিশূন্যতা দূর করতে বেশি করে তরল খাবার খাওয়া জরুরি
ইসরাত জাহান প্রিয়ানা
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
জ্বর সেরে যাওয়ার পর অনেকের মধ্যেই খাবারে অনীহা এবং অরুচি দেখা দেয়। জ্বরের সময় শরীরে সৃষ্ট প্রদাহ আমাদের স্বাদ ও গন্ধ অনুভূতির পরিবর্তন করে। এমনকি ওষুধের প্রভাব এবং দুর্বলতার কারণে ক্ষুধা কমে যায় স্বাভাবিকভাবেই। এ সময় সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বর-পরবর্তী সময়ে প্রথমেই জোর করে বেশি খাবার খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে বমিও হতে পারে। এ সময় অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই স্মার্ট উপায়।
জ্বরের সময় শরীর থেকে প্রচুর পানি ও ইলেকট্রোলাইট অপচয় হয়ে যায়। তাই জ্বর-পরবর্তী পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশুদ্ধ পানি, ডাবের পানি, স্যালাইন, লেবুর শরবত, পাতলা চিকেন স্যুপ, পাতলা ডাল, মাঠা শরীরের পানির ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
শরীরের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন নিশ্চিত করা এ সময় খুবই জরুরি। কারণ প্রোটিন জ্বরে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নত করতে এবং শক্তি ফিরিয়ে আনতে বিশেষভাবে সহায়তা করে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিম, মাছ, মুরগির মাংস, দুধ, দই, মিক্সড ডাল, বাদাম, ছোলা বা সয়াজাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন। এ ছাড়া দেহের শক্তি ফিরে পেতে সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেট যেমন–নরম ভাত, সবজি খিচুড়ি, আলু, ওটস, সুজি বা নরম রুটি খেতে পারেন। এসব খাবার শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। সব ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণে প্রতিদিন বিভিন্ন রঙের মৌসুমি শাকপাতা, সবজি মিক্সড ও মৌসুমি ফল বিশেষ করে টক ফল খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে। ভিটামিন-সিসমৃদ্ধ ফল যেমন– পেয়ারা, কমলা, মাল্টা, আমলকী, করমচা, জাম্বুরা, লটকন বা লেবু রোগ প্রতিরোধক্ষমতা উন্নতিতে সহায়ক। পাশাপাশি কলা, পেঁপে বা আপেলের মতো সহজপাচ্য ফলও উপকারী। এ ছাড়া আনারস গ্রহণ রুচি উন্নত করে।
জ্বরের পর অনেকের মুখে তিতা স্বাদ অনুভূত হয়। এ ক্ষেত্রে রান্নার পদ্ধতি পরিবর্তন করে খাবারের স্বাদ ও বৈচিত্র্য বাড়ানো যেতে পারে। যেমন– হালকা লেবুর রস যোগ করা, ধনিয়া পাতা, পুদিনা পাতা বা আদা ব্যবহার করলে খাবারে বাড়তি স্বাদ আসে ও আকর্ষণীয় লাগতে পারে।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামও রুচি ফিরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। যদি জ্বর সেরে যাওয়ার পরও দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রুচি না ফেরে, ওজন কমতে থাকে, বারবার বমি হয়, শরীরে তীব্র দুর্বলতা থাকে অথবা জ্বর পুনরায় ফিরে আসে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পাশাপাশি একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।
লেখক: পুষ্টিবিদ, ড্রিম ফার্টিলিটি কেয়ার এবং হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটাল
- বিষয় :
- পানি