ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুলের যত্নে কেরাটিন মাস্ক

চুলের যত্নে কেরাটিন মাস্ক
×

আফরিনা আক্তার

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বর্ষায় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। তাই চুল শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে চুল মাঝখান থেকে ভেঙে যায়। চুলে জট বাঁধা এবং চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই এ সময় চুলের স্বাভাবিক গঠন ও সৌন্দর্য বজায় রাখতে কেরাটিন হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি চুলের নমনীয়তা ও মসৃণতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। 

কেরাটিন কী
কেরাটিন হলো একটি প্রোটিন; যা চুল, ত্বক ও নখের প্রধান উপাদান। আবহাওয়া, ব্লো ড্রাইং, হিট স্টাইলিং এবং বিভিন্ন রাসায়নিক হেয়ার ট্রিটমেন্টের মতো বাহ্যিক প্রভাবের কারণে চুল ধীরে ধীরে তার স্বাভাবিক কেরাটিন হারাতে থাকে। ফলে চুলের কোমলতা, নমনীয়তা ও উজ্জ্বলতা কমে যায়। তাই একটি কেরাটিন হেয়ার মাস্ক চুলের স্বাভাবিক গঠন রক্ষা করার পাশাপাশি এর সৌন্দর্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

কেরাটিন হেয়ার মাস্ক যেভাবে কাজ করে
কেরাটিন মাস্ক মূলত একটি ডিপ কন্ডিশনিং হেয়ার মাস্ক। সাধারণত এতে হাইড্রোলাইজড কেরাটিন, অ্যামাইনো এসিড এবং বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজিং উপাদান থাকে। এটি চুলের বাইরের স্তর বা কিউটিকলকে মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। যাদের চুল ব্লিচ, কালার বা পার্ম করা, তাদের চুলের গঠন আণুবীক্ষণিক ছিদ্র তৈরি হয়। কেরাটিন হেয়ার মাস্ক সেখানে একটি ফিলারের মতো কাজ করে। এটি ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো পূরণ করার পাশাপাশি চুলে গভীর আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ঘরেই তৈরি করুন কেরাটিন হেয়ার মাস্ক
ডিমের কুসুম, মধু ও আমন্ড অয়েলের প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্ক: পাত্রে একটি ডিমের কুসুম, এক টেবিল চামচ মধু এবং এক টেবিল চামচ আমন্ড অয়েল নিন। ২-৩ মিনিট ভালোভাবে মেশান। এরপর মিশ্রণটি চুলে লাগিয়ে ১০-২০ মিনিট রেখে দিন। কয়েক মিনিট আলতোভাবে ম্যাসাজ করে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োজনে একটি মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এই মাস্ক সপ্তাহে সর্বোচ্চ একবার বা দুবার ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডিমের কুসুম প্রোটিন ও ফ্যাটি এসিডে সমৃদ্ধ, যা মাথার ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ পুনর্জীবিত করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া আমন্ড অয়েলে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদান চুলকে সতেজ করে তোলে। পাশাপাশি মধু চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
কলা ও অ্যাভোকাডোর প্রাকৃতিক হেয়ার মাস্ক: একটি পাকা কলা, একটি পাকা অ্যাভোকাডো, এক চা চামচ রোজ অয়েল এবং এক টেবিল চামচ নারকেল তেল ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি শুকনো চুলে লাগিয়ে ৩০-৪৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এই হেয়ার মাস্ক সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলে অল্প সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান ফলাফল পাওয়া যেতে পারে।
এই হেয়ার মাস্কে থাকা কলায় প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো এসিড রয়েছে, যা মাথার ত্বকের প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে অ্যাভোকাডোতে থাকা ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-ই চুলের গোড়াকে পুষ্টি জোগায় এবং প্রতিকূল আবহাওয়ায় চুলকে রুক্ষ ও নিস্তেজ হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
সেদ্ধ ভাত, নারকেলের দুধ ও অ্যালোভেরা জেলের মাস্ক: ৪-৫ টেবিল চামচ সেদ্ধ ভাত এবং আধা কাপ নারকেলের দুধ ব্লেন্ডারে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর এতে দুই টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল যোগ করে মিশিয়ে নিন। এবার চুলকে ছোট ছোট ভাগ করে গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত মাস্কটি ব্যবহার করুন। ৩০-৪০ মিনিট রেখে প্রথমে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। এরপর একটি মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করুন। ভালো ফল পেতে সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করতে পারেন।
এই মাস্কে থাকা সেদ্ধ ভাতে প্রচুর অ্যামাইনো এসিড রয়েছে, যা চুলের কিউটিকল মসৃণ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া নারকেলের দুধে থাকা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে যাওয়া অংশগুলোকে পূরণ করতে সহায়তা করে। ফলে চুল ভেতর থেকে শক্তিশালী হয় এবং চুলের কিউটিকল মসৃণ হয়ে ওঠে।
ডিম ও টক দইয়ের প্রোটিন মাস্ক: একটি আস্ত ডিম ও দুই টেবিল চামচ টক দই ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটি মাথার ত্বক ও চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ২৫-৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ঠান্ডা পানি ও একটি মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ডিম ও টক দই উভয়ই প্রোটিনে সমৃদ্ধ, যা চুলের গোড়া মজবুত করে এবং রুক্ষ ও নিষ্প্রাণ চুলে আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এ ছাড়া দইয়ে থাকা ল্যাকটিক এসিড মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং খুশকি কমাতে সহায়ক।

কেরাটিন মাস্ক ব্যবহারে সতর্কতা
ঘরোয়া উপাদান দিয়ে কেরাটিন হেয়ার মাস্ক তৈরির সময় কিছু সাধারণ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। ডিম বা টক দইয়ের মাস্ক ব্যবহার করার পর কখনোই গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়া উচিত নয়। এতে ডিম চুলে জমে যেতে পারে। তাই সবসময় ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করুন।
যাদের ডিম, আমন্ড অয়েল বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক উপাদানে অ্যালার্জি রয়েছে, তারা পুরো মাথায় মাস্ক ব্যবহার করার আগে প্যাচ টেস্ট করুন। এ জন্য কনুইয়ের ভেতরের অংশ বা কানের পেছনে অল্প পরিমাণে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিন। কোনো ধরনের অস্বস্তি বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে সেই মাস্ক ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এ ছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘন ঘন মাস্ক ব্যবহার না করে নির্দেশিত সময় ও নিয়ম মেনে ব্যবহার করাই ভালো। 
সূত্র: হেলথশট

আরও পড়ুন

×