উত্তাল সেই দিনের কথা
কোলাজ :: দেওয়ান আতিকুর রহমান
রণিত রায়হান রাহী
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | ১২:৪১
কোটা বৈষম্যের প্রতিবাদে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু হলে সবাই যার যার অবস্থান থেকে একাত্মতা প্রকাশ করে। আমিও এতে অংশ নিই। এখনও চোখের সামনে ভেসে উঠে সে দিনের ভয়াল চিত্র। ভয়াবহ এ আন্দোলনে আমরা কাছের অনেককেই হারিয়েছি। আগস্টের তৃতীয় দিন মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনারে। শপথ নেন হাজারো আন্দোলনকারী। ৪ আগস্ট মিরপুরে চোখের সামনে দেখলাম কীভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ নেমে এসেছে রাস্তায়।
প্রায় প্রতিটি মোড়ে কিংবা দোকানের সামনে ছাত্র-জনতার জমায়েত। সেখানেই একটার পর একটা কাঁদানে গ্যাস এবং ফাঁকে ফাঁকে গুলি ছুড়তে থাকে পুলিশ। বারবার ধাওয়া করে আমাদের। আশপাশের বেশ কিছু ভবনের ওপরে উঠে যায় পুলিশ ও ফ্যাসিস্ট সমর্থিত সংগঠনের বেপোরোয়া কর্মীরা। সেখান থেকে আক্রমণ চালায় আমাদের ওপর। কেউ হতাহত হলে অন্যরা সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
এদিকে আমরাও তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করি। আপামর জনতা একসঙ্গে হওয়ায় তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। একপর্যায়ে মিরপুর-১০ এলো আমাদের দখলে। পুরো মিরপুর-১০ জুড়ে তখন যেন উৎসবের প্রস্তুতি। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের পতন ঘটেছিল ৫ আগস্ট কিন্তু আগের দিন রাতেই বুঝে গিয়েছিলাম বিজয়ের খুব কাছাকাছি আমরা।
স্বৈরাচার সরকারের পতন হলেও থেমে থাকিনি আমরা। রাজধানীসহ সারাদেশের সব থানা পুলিশশূন্য হয়ে পড়ে। নিরাপত্তাহীনতায় কর্মবিরতি ঘোষণা করে বসেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এমন পরিস্থিতিতে শৃঙ্খলার দায়িত্ব নেন শিক্ষার্থীরা। রাজধানী ঢাকার পাশাপাশি সারাদেশের ট্রাফিক পরিচালনার দায়িত্ব নেন তারা। এ ছাড়া সন্ত্রাস এবং ডাকাতি ঠেকাতে রাত জেগে এলাকার অলিগলিতে পাহারাও দেয় ছাত্র-জনতা। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে। রাস্তায় দায়িত্ব পালন করা এসব ছাত্রকে দুপুরের খাবার, রাতের খাবার, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে পাশে ছিলেন নানা শ্রেণির মানুষ। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছিল সমকাল সুহৃদ সমাবেশ। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাজধানীর মৎস্য ভবন থেকে শুরু হয় এ কার্যক্রম।
পরে ১১ আগস্ট তিব্বত, নাবিস্কো, গুলশান লিংকরোড, আহ্ছানউল্লা ইউনিভার্সিটি মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, চিত্রাঙ্কনে ব্যস্ত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের হাতে সুহৃদরা পৌঁছে দেন দুপুরের খাবার। এ ছাড়া ১৪ আগস্ট মিরপুর-১০ থেকে ১৪ নম্বরে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার দেন মিরপুরের সুহৃদরা। শিক্ষার্থীদের এমন কাজে পাশে ছিল সুহৃদ সমাবেশ। আগামীতেও যে কোনো সংকটে মানুষের পাশে থাকবেন সুহৃদরা।
সদস্য, সুহৃদ সমাবেশ, মিরপুর
- বিষয় :
- জুলাই গণহত্যা
- সুহৃদ সমাবেশ
- অভ্যুত্থান
