ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বানভাসি মানুষের পাশে

বানভাসি মানুষের পাশে
×

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের সোলায়মান বলিপাড়ায় বন্যাদুর্গতদের শুকনো ও রান্না করা খাবার পৌঁছে দেন পটিয়ার সুহৃদরা

আহমদ উল্লাহ

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সুহৃদ সমাবেশ পটিয়া ও আরএস ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার ছনুয়া ইউনিয়নে খাবার সংকটে থাকা তিন শতাধিক পরিবারের জন্য শুকনো খাদ্যসামগ্রী এবং সাত শতাধিক দুর্গত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার বিতরণ করেন সুহৃদরা

‘তিন দিন ধরে চুলায় আগুন জ্বলেনি। ঘরের চাল-ডাল সব পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। বাচ্চাদের মুখে কী তুলে দেব, সেটাই বুঝে উঠতে পারছিলাম না। আজ যে খাবার আর শুকনো খাদ্যসামগ্রী পেলাম, অন্তত কয়েকটা দিন চিন্তামুক্ত থাকতে পারব।’ কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজি সোলায়মান বলিপাড়ার বন্যাদুর্গত গৃহবধূ রহিমা বেগম। সাম্প্রতিক বন্যায় সবকিছু হারিয়ে ভয়ানক বিপাকে পড়েছিলেন তিনি।
রহিমা বেগমের মতোই অসহায়ত্ব প্রকাশ করলেন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুর মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। কয়েকদিন কাজ করতে পারিনি। হাতে কোনো টাকা ছিল না। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছিল। এই সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় ভরসা।’ দুর্গত এলাকার বয়ঃজ্যেষ্ঠ আবদুল করিমের কণ্ঠেও ঝরে পড়ল একই আকুতি। তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক দুর্যোগ দেখেছি, কিন্তু এবারের বন্যায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়েছে। ঘরের চাল, খাবার সব শেষ। এমন সময় কেউ পাশে দাঁড়াবে, সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।’
এমন শত শত অসহায় মানুষের মুখে অল্প সময়ের জন্য হলেও হাসি ফোটাতে বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সমকাল সুহৃদ সমাবেশ পটিয়া এবং আরএস ফাউন্ডেশন। যৌথ এ মানবিক 
উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পটিয়া থেকে ৬০ কিলোমিটারের অধিক পথ পাড়ি দিয়ে সুহৃদরা পৌঁছান ছনুয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজি সোলায়মান বলিপাড়া এলাকায়। সেখানে বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে রান্না করা খাবার ও জরুরি খাদ্যসামগ্রী নিজেরাই বিতরণ করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে।
কর্মসূচির আওতায় সাত শতাধিক মানুষের মধ্যে পুষ্টিকর রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী সংকট মোকাবিলায় তিন শতাধিক পরিবারের হাতে চাল, ডাল, চিড়া, পেঁয়াজ, আলু, বিশুদ্ধ পানির বোতল, লাচ্ছা সেমাই, বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়।
সমকালের পটিয়া প্রতিনিধি আহমদ উল্লাহর তত্ত্বাবধানে কার্যক্রমে যুক্ত হন–আরএস ফাউন্ডেশনের সভাপতি কেএম সাফাত হোসেন, সহসভাপতি তাজ উদ্দিন ইসমাইল, সংবাদকর্মী রাফিদুল আকরাম আলভী, সুহৃদ সমাবেশ পটিয়া উপজেলার সংগঠক ইরফান হোসেন, কেএম সামাম হোসেন, নাজিম উদ্দিন, ইফতেখার ফাহিম, কেএম ইকরাম, আলী মোর্তজা আদিল, সেফাতুল্লাহ সাদিলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
কেএম সাফাত হোসেন বলেন, ‘মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের সামর্থ্য সীমিত হলেও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’
তাজ উদ্দিন ইসমাইল বলেন, ‘দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব। সুহৃদ হিসেবে মানুষের দুর্ভোগ ও মানবিক সংকটে সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের পাশে দাঁড়ানোও আমাদের সবার দায়িত্ব ও কর্তব্যের অংশ। আমরা আশা করি, সুহৃদদের মতো সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষ বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াবেন।’
সুহৃদ ইরফান হোসেন বলেন, ‘বন্যার্ত মানুষের কষ্ট কাছ থেকে দেখে আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আরএস ফাউন্ডেশনের মতো অন্য সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে আমরা একত্র হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। সামর্থ্য অনুযায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনগুলোও যদি এগিয়ে আসে, তাহলে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, বন্যার পানি নেমে গেলেও অনেক পরিবার এখনও স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এমন মানবিক উদ্যোগ দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 
সমন্বয়ক, সুহৃদ সমাবেশ, পটিয়া (চট্টগ্রাম) 

আরও পড়ুন

×