অপরূপ অরণ্য অনন্ত অপেক্ষা!
আসলাম হোসাইন
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বর্ষার প্রথম মেঘ নামলেই নদীর বুক যেন নতুন করে শ্বাস নিতে শুরু করে। দূর আকাশে জমে ওঠা কালো মেঘ দেখে কেউ বলে, বৃষ্টি আসছে আর নদীপারের মানুষ নিঃশব্দে ভাবে, ভাঙনও কি আসছে?
নদীর ঘাটে বাঁধা ছোট্ট নৌকাটিতে মাঝি চুপচাপ বসে থাকে কেউ এপারে এলে ওপারে পৌঁছে দেবে বলে। নৌকাটি শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, এটি একটি পরিবারের ভাতের হাঁড়ি, সন্তানের স্কুলের খাতা, বৃদ্ধ মায়ের ওষুধ আর অগণিত স্বপ্নের ভার বহন করে। মাঝির হাতে বৈঠা, চোখে অনিশ্চয়তার ছায়া। আরও একটু দূরে নদীর পারে বড়শি হাতে বসে আছে এক জেলে। পানির দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সে। বড়শিতে মাছ উঠবে কিনা, সেই অপেক্ষার চেয়েও বড় তার ভয় আগামীকাল সকালে ঘুম ভাঙলে ঘরটুকু কি আর থাকবে? নদী কেন মানুষের বসতভিটা কেড়ে নেওয়ার খবর আগেভাগে জানায় না? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতেই নদীপারের মানুষের জীবন কেটে যায়।
তবু জীবন থেমে থাকে না। চর-জমির পাট কেটে কেউ নদীর তীরে আঁটি বেঁধে স্তূপ করছে, কেউ সারাদিনের ধরা অল্প কয়েকটি মাছ বাজারে বিক্রি করে চাল-ডাল কিনে ঘরে ফিরছে। কেউ আবার আকাশের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টির গন্ধে নতুন আশার স্বপ্ন বুনছে। নদী যেমন কেড়ে নেয়, তেমনি জীবনও দেয়। তার ঢেউয়ে ভেসে আসে জীবিকার সম্ভাবনা, আবার সেই ঢেউই ভাসিয়ে নিয়ে যায় অনেক বছরের গড়ে তোলা স্মৃতি।
প্রকৃতি এখানে একই সঙ্গে নির্মম ও অপরূপ। মেঘে ঢাকা আকাশ, সবুজে মোড়া তীর আর শান্ত জলের আয়নায় পৃথিবীকে দেখে মনে হয় একজন শিল্পী যেন যত্ন করে এঁকেছেন বাংলার ছবি। অথচ ছবির প্রতিটি রঙের আড়ালে লুকিয়ে থাকে নদীভাঙন, কান্না। নদীর মানুষ জানে, অপেক্ষাই তাদের নিয়তি বৃষ্টির অপেক্ষা, মাছের অপেক্ষা, সহায়তার অপেক্ষা। সূর্য ডুবে। নৌকাটি ঘাটে ফেরে। শোনা যায় এক চিরন্তন সত্য– নদী শুধু পানি নয়, নদী মানুষের জীবন। নদীপারের মানুষ শুধু বেঁচে থাকে না। জীবন জয় করে।
সাধারণ সম্পাদক, সুহৃদ সমাবেশ, বগুড়া
- বিষয় :
- সুহৃদ সমাবেশ