ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পাঠচক্র

হুমায়ূন মানবমনের রসায়নবিদ

হুমায়ূন মানবমনের রসায়নবিদ
×

রাজবাড়ীর সমকাল কার্যালয়ে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জীবন-কর্ম নিয়ে পাঠচক্রে অতিথি ও সুহৃদরা

সৌমিত্র শীল চন্দন

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

তিনি ল্যাবরেটরির টেস্টটিউব ছেড়েছিলেন একদিন, কিন্তু মানুষের অবিনাশী হৃদয়ের যে জটিল রসায়ন–তা তিনি চিনেছিলেন এক অদ্ভুত জাদুকরী দক্ষতায়। তিনি আর কেউ নন, বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ হুমায়ূন আহমেদ। মধ্যবিত্তের চিরায়ত আনন্দ-বেদনা, চাতক পাখির মতো জোছনাবিলাস কিংবা নাগরিক জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা তীব্র একাকিত্বকে যিনি বুনেছিলেন পরম মমতায়। তাঁর সেই কালজয়ী সৃষ্টি আর জীবনসংগ্রামের প্রতিচ্ছবি নতুন করে মূর্ত হয়ে উঠল রাজবাড়ীর এক অনন্য সাহিত্যবাসরে।
রাজবাড়ী সমকাল কার্যালয়ে হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাজবাড়ী সুহৃদ সমাবেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশেষ পাঠচক্র ও আলোচনা। সুহৃদরা বিনম্র শ্রদ্ধায় ও গভীর ভালোবাসায় স্মরণ করেন এই অনন্য জীবনশিল্পীকে। আলোচনায় বারবার প্রতিধ্বনিত হয়েছে একটি ধ্রুব সত্য–হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে এমন এক জ্যোতিষ্ক; যার আলো কোনোদিন ম্লান হওয়ার নয়। তিনি বাঙালি পাঠককে বইমুখী করেছিলেন এবং এক অভূতপূর্ব জাগরণ সৃষ্টি করেছিলেন।
পাঠচক্রের মুখ্য আলোচক, রাজবাড়ী সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজভী জামান তাঁর গভীর ও তথ্যসমৃদ্ধ বক্তৃতায় হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টির অন্তর্নিহিত শক্তিকে উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ মূলত ছিলেন রসায়নের শিক্ষক। কিন্তু প্রকৃতি ও মানবমনের রসায়নটাই তিনি সবচেয়ে নিপুণভাবে বুঝতে পেরেছিলেন। সে কারণেই তাঁর লেখা প্রতিটি গল্প, উপন্যাস বা নাটক হয়ে উঠেছে আমাদের নিজেদের জীবনেরই একেকটি নিখুঁত আলোকচিত্র। তিনি বিজ্ঞান সাধনা চালিয়ে গেলেও একজন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী হতে পারতেন, কিন্তু কেবলই সাহিত্যের অমোঘ টানে, লেখার ভেতরের তীব্র তাগিদে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিশ্চিত ও মর্যাদাপূর্ণ চাকরি অবলীলায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। এই অসীম আত্মবিশ্বাস ছিল বলেই তিনি মধ্যবিত্তের দুঃখ-কষ্ট আর ছোট ছোট সুখকে এত প্রাঞ্জল ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
রাজবাড়ী একাডেমির সভাপতি সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান এবং মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি সংসদের সভাপতি কবি সালাম তাসির তাঁর প্রারম্ভিক জীবনের আর্থিক অনটন ও কঠিন সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন। হুমায়ূন আহমেদ  তীব্র আর্থিক কষ্ট ও দিনবদলের আবেগঘন মুহূর্তগুলোকে তাঁর সৃষ্টির অনুসঙ্গ করেছেন এবং সাহিত্যকে করেছেন মাটির কাছাকাছি।
কবি সালাম বলেন, জোছনা, নদী ও উত্তাল সমুদ্র হুমায়ূন আহমেদকে এক অপার্থিব জাদুতে আকর্ষণ করত। কবি-সাহিত্যিকরা যখন প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে যান, তখন তাদের লেখনী যেন আরও তীব্রভাবে জেগে ওঠে। হুমায়ূনের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। 
সুহৃদ সভাপতি আহসান হাবিবের সঞ্চালনায় পাঠপ্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন সুহৃদ উপদেষ্টা কমল কান্তি সরকার, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, অধ্যক্ষ খায়রুল হাসান মিন্টু, অধ্যাপক অপূর্ব দাস, প্রবীণ শিক্ষক অলিউল আজম তৈমুরসহ জেলার অগ্রগণ্য সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা। শুরুতে হুমায়ূন আহমেদের বহুমাত্রিক জীবন ও সাহিত্যকর্ম পাঠ উপস্থাপন করেন রাজবাড়ী সুহৃদ সহসভাপতি রবিউল রবি ও নিষ্ঠাবান সদস্য ইয়াকুব ইসলাম। 
সমন্বয়ক, সুহৃদ সমাবেশ, রাজবাড়ী

আরও পড়ুন

×