ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সাগরের সঙ্গে নদীর সখ্য

সাগরের সঙ্গে নদীর সখ্য
×

অলংকরণ :: শেখ শাহাদ

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

মায়ার টান
আশতাব হোসেন

নদী করে না যুদ্ধ পাহাড়ের সঙ্গে,  
সাগরের সঙ্গে নদীর সখ্য।  
ভাঙে-গড়ে একূল-ওকূল,  
বদলায় গতি, ভোলে না সাগরের সঙ্গে প্রেম।  

নেচে নেচে চলে, কণ্ঠে তোলে গান,  
আবার জীর্ণ দেহে ছুটে সাগর পানে।  
তবুও যায় না ভুলে, ছোটে মায়ার টানে–  
নেই কৃপণতা, শেখেনি প্রতারণা।  

আঁধারে গোপনে, জ্যোৎস্নার হাসিতে,  
হয় না পথচ্যুত, মানে না কারও মানা।  
বদলায় না নীতির খোলস–  
মানুষের মতো সুযোগের স্রোতে।  

মানুষই পারে এসে আবার ভুলে যেতে,  
রূপে লাগিয়ে গোধূলির রং ছিঁড়ে এনে।  
নানা রূপে নানা শহরে আবির্ভূত হতে,  
বদল করে গতিপথ, ভঙ্গ করে অঙ্গীকার।

 

জাগতিক বিস্ময় 
মাসুদুর রহমান মাসুদ

লুব্ধক সময়ের সঙ্গে ভাসে প্রজন্ম, 
জাগতিক বিস্ময় ও দীর্ঘশ্বাসের পাথরে 
প্রতিনিয়ত যে ধ্বনি, 
বাতাসের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়, 
আমরা অনন্ত মিথ্যার করপোরেট সাজাই
পৃথিবীর ভ্রূণে জন্ম নেয় আগুন হাত, 

অথচ মৃত্যুর পসরা টানে, 
আলো ও অন্ধকারের দ্যুতি;

পরাবাস্তব কাঠিন্যের আড়ালে দেখি বিস্ময়!
কাক ও শকুনের বিশ্বস্ত যোগ।
 

 

শুভ্রকাশের দিন 
বজলুর রশীদ

সাদা মেঘে ভেসে বেড়াই
শুভ্রকাশের দিন,
শ্রাবণও বুঝল না  
অবুঝ মনটা গন্তব্যের ট্রেনে
অবাধে প্রেমিক হতে চায়।
সেখানে তালপাকা গরমের 
হিসাব বুঝি নাই 
জেনেছি কেবল অস্বস্তির নিয়তে
কর্মযজ্ঞের বিভোরে পুড়ে যাই। 

অথচ নিয়ম হয়ে আছে 
বর্ষায় তলিয়ে যাব 
কান্নায় শ্রাবণের স্নাত অনুবাদ! 
যেখানে চলেছি পথ
সেইখানে লুকিয়ে আছে ভরাট গন্তব্যে
হতাশার জীবন মানেই 
এ পথেই বর্ষাকাব্য বরাবর।

 

তোমার মন পাড়ায় ভ্রমণ
শারমিন নাহার ঝর্ণা

যখন বিষাদ এসে বাসা বাঁধে
মনের গহিন কুঠুরিতে,
বিকেলের লালচে সূর্য দেখেও
মন থাকে বিষণ্নতায় ভরা,
মন অজান্তে ছুটে তোমার মন পাড়ায়।

ঝাঁকে ঝাঁকে বিহঙ্গ উড়ে যায় নীড়ে 
শেষ বিকেলে সূর্য হারায় যৌবন,
অম্বরের বুকে ক্ষণিকের শূন্যতা,
নক্ষত্র ঘোমটা সরিয়ে ঝিকমিক করে–
পূর্ণতায় ভরিয়ে দেয় অবশেষে জোছনার আলো।

তোমার মন পাড়ায় ক্ষণিকের পড়শি 
রাত পোহালেই প্রভাতের আলোয়
হারিয়ে যাই জোছনার মতো,
পদচিহ্ন রেখে যাই নক্ষত্র শত শত।
 

 

শ্রাবণের পল্লি
চন্দনা চক্রবর্তী

শ্রাবণের ভেজা ভোরে
কদম হাসে ডালে,
ধানের ক্ষেতে দোলে হাওয়া
নরম সবুজ তালে।
আলপথ জুড়ে কাদামাটি,
পায়ের ছাপে গান,
মেঘের কোলে বাজে যেন
রাখাল বাঁশির টান।
টাপুরটুপুর বৃষ্টিধারা
খড়ের চালার পরে,
গাভি ফেরে সন্ধ্যাবেলা
কৃষকেরই ঘরে।
পুকুরজলে শাপলা হাসে,
বকের সারি দূরে।
নদীর বুকে নৌকা ভাসে
মাঝির মধুর সুরে।
তালগাছ মাথা নোয়ায়
বর্ষার স্নেহ পেয়ে,
মাটির গন্ধ বুক ভরিয়ে
মনটি যায় যে ছেয়ে।

 

নিঃসঙ্গ জীবন
রকিবুল ইসলাম

আঁক যার ছবি!
তব মানস ভূমি,
উর্বর যার লাগি।

খোঁজনি তারে তুমি!
আছে যথারীতি,
হতে তোমার সাথি।

সে জন অভাগা অতি!
ঘটিয়ে ভ্রমের ইতি,
বোঝেনি তোমার প্রীতি।

আমিও দুর্ভাগা আজি!
পাইনি তোমারে সাথি,
নিঃসঙ্গ জীবন যাপি।

আরও পড়ুন

×