যুক্তিতর্কের প্রাণবন্ত উৎসব শুরু
বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবের রংপুর জেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল। শিশুনিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চ্যাম্পিয়ন রংপুর জিলা স্কুল দল এবং রানার্সআপ আরসিসিআই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতার্কিকদের সঙ্গে অতিথি ও সুহৃদরা
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:১০ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৪:২২
‘বিতর্ক মানেই যুক্তি, বিজ্ঞানে মুক্তি’–প্রতিপাদ্যে আবারও দেশজুড়ে শুরু হলো বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব। বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (বিএফএফ) ও সমকালের যৌথ উদ্যোগে সমকাল সুহৃদ সমাবেশের আয়োজনে ১১তম আসরের পাওয়ার্ড বাই হিসেবে রয়েছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। প্রথম দফায় শনিবার রংপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, পাবনা, নীলফামারী ও পঞ্চগড়ে দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার মধ্য দি য়ে অনুষ্ঠিত হয় জেলা পর্যায়ের উৎসব
যুক্তি পাল্টা যুক্তিতে জেলায় জেলায় জমে ওঠে বিতর্কের আসর। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, অতিথি, সুহৃদ ও বিতর্কপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় আয়োজন। সংশ্লিষ্ট অফিস, প্রতিনিধির পাঠানো খবর ও ছবিতে সাত জেলায় প্রথম পর্বে অনুষ্ঠিত উৎসব নিয়ে আয়োজন।
রংপুর
রংপুরে শিশুনিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন রংপুর জিলা স্কুল এবং রানার্সআপ হয় আরসিসিআই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা হয় জিলা স্কুল দলের সানিমুন আশফাক। সকালে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল।
বিতর্কে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষক জিয়াউর রহমান, শেখ ফরিদ অভি ও নাছিমা হক। মডারেটর ছিলেন মো. হামীম। প্রতিযোগিতায় রংপুর জেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে– রংপুর জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শিশুনিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়, আরসিসিআই পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, শিক্ষা অঙ্গন উচ্চ বিদ্যালয়, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ইন্টারন্যাশনাল গ্রামার স্কুল।
রাজশাহী
রাজশাহীর সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। রানার্সআপ হয় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের দল। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয় জয়ী দলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ড্যানিয়েল মুসাব্বির। অন্য দলগুলো হলো—শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিরোইল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ নজমুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজিয়েট স্কুল, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি প্রমথনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
অতিথি ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে কুলসুম শম্পা। বিচারক ছিলেন রাবি শিক্ষক আমিরুল ইসলাম, সুমিত হাসান, নূর মোহাম্মদ, অনুপ বৈদ্য, প্রিয়ন্তি প্রিয়া, সৈকত হাসান, নেছার উদ্দিন, আর রাফি সিরাজী, আবু নাইম, শিশির দে, জুবায়ের আহমেদ, নবায়েদ, আদিল আহনাফ, জিমহা ও ওমর ফারুক।
পঞ্চগড়
পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় দল চ্যাম্পিয়ন এবং মাগুরা প্রধানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় রানার্সআপ হয়। বিজয়ী দলের নাঈমা তাসনিম সেরা বক্তা নির্বাচিত হয়। টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ সামছুজ্জামান বিপ্লব বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন। প্রধান অতিথি ছিলেন ভজনপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সফিকুল ইসলাম। শিক্ষক আবু তালেব, আফজাল হোসেন, ফজলে রাব্বী, আমিন ইসলাম, রাবেয়া জাহান, জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম আজম রানা বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সবুজ ইসলামসহ সুহৃদরা।
পঞ্চগড় বিষ্ণুপ্রসাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মাগুরা প্রধান পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, ব্যারিস্ট্রার জমিরউদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিটিউট, মাঘই পানিমাছ পুকুরী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, হান্নান শেখ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পঞ্চগড় চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয় ও দেওয়ানহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় উৎসবে অংশ নেয়।
পাবনা
পাবনা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় পাবনা স্কয়ার হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ হয় কালেক্টরেট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয় চ্যাম্পিয়ন দলের মুরসালাত আদিয়াত অয়ন। পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পুলিশ লাইনস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ পাবনা, ছিদ্দিক মেমোরিয়াল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গোপাল চন্দ্র ইনস্টিটিউশন (জিসিআই) ও আমজাদ হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
উদ্বোধন করেন পাবনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় কুমার বীর। বিতর্কে মডারেটর ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. মনছুর আলম। বিচারক ছিলেন শিক্ষক রাজু আহমেদ, সুমনা ঘোষ, কবি আজিজা পারভীন। উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক উৎপল মির্জা, রানা গ্রুপের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বিশ্বাস রানাসহ সাংবাদিক ও অতিথিরা।
জয়পুরহাট
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় কালাই ময়েন উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ হয় পাঁচবিবি নছির মণ্ডল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শ্রেষ্ঠ বক্তা হয় চ্যাম্পিয়ন দলের মাফরুহা আকতার মোহনা। প্রধান অতিথি ছিলেন আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবিদা খানম বৈশাখী।
অংশ নেওয়া দলগুলো হলো–আর.বি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালয়, শান্তিনগর উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচবিবি লাল বিহারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, তিলকপুর উচ্চ বিদ্যালয় এবং সোনামুখী উচ্চ বিদ্যালয়। বিতর্কের দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক ও সাবেক বিতার্কিক মীর মোহাম্মদ আলী, ইমরান হোসেন, রুহুল আমিন, সিদ্দিকুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, আবু রায়হান, জাকারিয়া হোসেন, রানা কুমার প্রমুখ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ
সরকারি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত উৎসব উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আফাজ উদ্দিন। নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এবং রানার্সআপ হয় আলিনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। চ্যাম্পিয়ন দলের মোবাশ্বেরা সুলতানা শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়।
অতিথি ছিলেন–চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল মতিন, নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মাজহারুল ইসলাম তরু প্রমুখ। বিচারক ছিলেন গোলাম ফারুক মিঠুন, এনামুল হক তুফান, আকিব হোসাইন, আকতার আকাশ এবং মাহদি হাসান মাহিন।
অংশ নেওয়া অন্য দল–সরকারি মডেল হাই স্কুল, শিবগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নয়ালাভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কানসাট হামিদুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মোবারকপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়, রহনপুর রাবেয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চৌডালা দাখিল মাদ্রাসা, রহনপুর আহমদী বেগম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফুলকুড়ি ইসলামী একাডেমি ও গ্রিনভিউ উচ্চ বিদ্যালয়।
নীলফামারী
সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন আলফারুক একাডেমি এবং রানার্সআপ হয়েছে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা হয় চ্যাম্পিয়ন দলের আবদুল্লাহ দানিয়ান। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– আলফারুক একাডেমি, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তুলশীরাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন সুহৃদ সমাবেশের সভাপতি বিআই বাধান। বিচারক ছিলেন শিক্ষক মামুনুর রহমান, শিউলী বেগম, শিহাবুজ্জামান চঞ্চল ও সাংবাদিক রেজা মাহমুদ।
nসুহৃদ সমাবেশ ডেস্ক
