রংপুরে চ্যাম্পিয়ন জিলা স্কুল
রংপুর নগরীর শিশু নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে উৎসব উদ্বোধন করেন অতিথি, সুহৃদ ও অংশগ্রহণকারী আট জেলা চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা
স্বপন চৌধুরী
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৮টা। বিভাগীয় নগরী রংপুরের শিশু নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক তখনও খোলা হয়নি। অথচ সময়ের আগেই দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে তিন শিক্ষার্থী এসে হাজির। বিএফএফ-সমকাল ১১তম জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্কের বিভাগীয় উৎসবে অংশ নেবে তারা। এরপর একে একে রংপুর বিভাগের আট জেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগীরা চলে আসে। তাদের সঙ্গে উৎসবে যোগ দেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক ও সহপাঠী বন্ধুরা। দিনব্যাপী এ আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় শিশু নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে। এর আগে নিজ নিজ জেলায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ওই দলগুলো।
‘বিতর্ক মানেই যুক্তি বিজ্ঞানে মুক্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ৯ অক্টোবর রংপুরে বিএফএফ-সমকাল ১১তম জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক বিভাগীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী চলা এই বিতর্ক উৎসবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে রংপুর জিলা স্কুল। রানার্সআপ হয়েছে দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়েছে রংপুর জিলা স্কুল দলের ভাস্কর রায় নিগম।
সকাল ১০টায় শিশু নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বেলুন উড়িয়ে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমুখী ও যুক্তিবাদী মানস গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত উৎসবের উদ্বোধন করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার আব্দুর রশিদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী এবং তাদের মধ্যে যুক্তিবাদী একটি মানস গড়ে দিতে পারে বিজ্ঞানবিষয়ক বিতর্ক। সে কাজটিই করছে সমকাল। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে সমকালের বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।’ সমকাল রংপুর অফিসপ্রধান স্বপন চৌধুরীর সঞ্চালনায় বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসবে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন রংপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, বীরউত্তম শহীদ সামাদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক জিয়াউর রহমান ও স্বপ্নচূড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক শেখ ফরিদ অভি। এ সময় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন শিশু নিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হামীম।
বিএফএফ-সমকাল ১১তম জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক বিভাগীয় উৎসবে রংপুর বিভাগের আট জেলার আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো–পঞ্চগড় সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নীলফামারীর আল ফারুক একাডেমি, রংপুর জিলা স্কুল, লালমনিরহাট সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুড়িগ্রামের থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ।
বিকেলে উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক তাবিউর রহমান প্রধান। এ সময় তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানমুখী মানবিক সমাজ আমাদের সব ধরনের কুসংস্কার, হিংসা, কূপমণ্ডূকতা থেকে মুক্ত করে দিতে পারে আলোর সন্ধান। এতে সবার অধিকার যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি ঘটবে প্রকৃত উন্নয়ন। পত্রিকা প্রকাশনার পাশাপাশি সমকাল গত ১১ বছর ধরে তরুণ প্রজন্মের জন্য এ বিতর্ক উৎসবের আয়োজন করছে; যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান শিক্ষাকে আরও ভালোভাবে জানতে পারবে।’ এ সময় সমকালের পঞ্চগড় প্রতিনিধি সফিকুল আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি সামসুজ্জোহা, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সুজন মোহন্ত, চিলমারী সংবাদদাতা রিয়াদুল ইসলামসহ সমকাল সুহৃদ হুমায়ুন কবির মানিক, রেজাউল করিম জীবন, শুভ রায় চৌধুরী, শীতল কুমার রায়, শাকিলা জামান, সিফাত আশরাবী, আমরানুল হক, সাদেকুল ইসলাম ও অন্য বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।
সমন্বয়ক, সুহৃদ সমাবেশ, রংপুর
- বিষয় :
- স্কুলে ভর্তি
