ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

ঐতিহাসিক স্থাপনা

অবহেলায় শরীয়তপুরের সুলতানি স্থাপত্যশৈলী

অবহেলায় শরীয়তপুরের সুলতানি স্থাপত্যশৈলী
×

নুসরাত কাদ্রি শুভ্রা

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ০৬:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

শরীয়তপুর পৌরসভার ধানুকা এলাকার ৬০০ বছরের ঐতিহাসিক স্থাপনা মনসাবাড়ি। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘ময়ূর ভট্টের বাড়ি’ নামেও পরিচিত। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে স্থাপনাটি এখনও বহন করছে সুলতানি ও মোগল আমলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য।
জানা যায়, তেরো শতকের  দিকে ভারত থেকে কৃষ্ণানন পঞ্চানন ভট্টাচার্য নামের এক ব্যক্তি প্রায় জনমানবশূন্য ধানুকায় বসতি স্থাপন করেন। বসবাসের উপযোগী পরিবেশের জন্য তিনি নানা উদ্যোগ নেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিবার শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কারণে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করে। তাঁর বংশধর ময়ূর ভট্ট আনুমানিক চৌদ্দ শতকে মনসা দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে এটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়। মনসা পূজা ঘিরে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্তরা আসতেন। সেই থেকেই এটি মনসাবাড়ি নামে পরিচিত। মনসাবাড়িতে বর্তমানে পাঁচটি প্রধান স্থাপনার অস্তিত্ব রয়েছে। এগুলো হলো–মনসা মন্দির, দুর্গা মন্দির, টোলঘর বা পাঠাগার, নহবতখানা ও আবাসিক ভবন। ইট, চুন-সুরকির তৈরি এসব স্থাপনায় প্রাচীন স্থাপত্যকলার নিখুঁত কারুকাজ, খিলান ও অলংকরণের ছাপ এখনও স্পষ্ট। স্থানীয়দের দাবি, একসময় এখানে একটি ছোট জাদুঘরও ছিল, যেখানে সংরক্ষিত থাকত প্রাচীন ধর্মীয় নথি ও মূল্যবান পুঁথি। মুক্তিযুদ্ধে বাড়িটি বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭৯ সালে কিছু অংশ পরিষ্কার ও নথিভুক্ত করা হলেও জনবল ও বাজেট সংকটের কার্যক্রম এগোয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বৈজ্ঞানিকভাবে খনন করলে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যেতে পারে। তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কোনো স্থায়ী সংরক্ষণ বা খনন প্রকল্প গ্রহণ করেনি। সীমানা নির্ধারণ ও নিরাপত্তার অভাবে দখল হুমকিতেও রয়েছে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি।
মনসাবাড়ির বংশধর স্বপ্নিল চক্রবর্তী বলেন, ‘আমরা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে ইতিহাস শুনে আসছি। আমরা চাই সরকার এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিক।’
জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর প্রসাদ চৌধুরী বলেন, ‘ধানুকার মনসাবাড়িতে ভারতবর্ষের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও শিক্ষার্থীরা আসতেন। এটি দখলের চেষ্টা হয়েছে বারবার। দ্রুত সংরক্ষণ জরুরি।’
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির এবং এর নিজস্ব পরিচালনা কমিটি রয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ কোনো সহায়তা চাইলে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমরা আন্তরিক।’ 
স্থানীয়দের দাবি, মনসাবাড়িকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে খনন, পুনর্নির্মাণ ও সংরক্ষণ কার্যক্রম শুরু করে স্থায়ী সীমানা নির্ধারণ, নিরাপত্তা এবং পর্যটন সুবিধা বাড়ানোর। 
সুহৃদ, শরীয়তপুর

আরও পড়ুন

×