ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এডাস্টে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি

রক্তদানে বাঁচুক জীবন

রক্তদানে বাঁচুক জীবন
×

রাজধানীর অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুহৃদ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি ও সুহৃদদের একাংশ

মারুফ আহমেদ ফাহাদ

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ | ০৬:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

অধিকাংশ ক্ষেত্রে মুহূর্তে মুমূর্ষু রোগীর জন্য এক ব্যাগ রক্ত জোগাড় করতে ভুক্তভোগী পরিবারকে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যান্টি ড্রাগ কমিটি ও সমকাল সুহৃদ সমাবেশ আয়োজন করে তিন দিনব্যাপী থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা ও রক্তদান কর্মসূচি। গত ২২ থেকে ২৪ মে সুহৃদদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় কর্মসূচি

এক ব্যাগ রক্ত থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কোনো শিশু কিংবা মুমূর্ষু রোগীর মুখে ফুটিয়ে তুলতে পারে অনাবিল হাসি। সেই হাসির জন্য আমাদের প্রয়াস তিন দিনব্যাপী ‘থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা কার্যক্রম ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি’। যৌথ কর্মসূচিটি আয়োজন করে ‘এডাস্ট সমকাল সুহৃদ সমাবেশ’ ও ‘এডাস্ট অ্যান্টি ড্রাগ কমিটি’। এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয় ‘বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন’। সেমিনার, আলোচনা, শিক্ষার্থীদের সচেতনতা ও রক্তদানের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানানোর পাশাপাশি ছিল স্বেচ্ছায় রক্তদান।
আয়োজনের শেষ দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শুভ্র চত্বর হয়ে ওঠে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীর মিলনমেলার কেন্দ্র। তবে এই মিলনমেলা কোনো সাধারণ উৎসবের নয়, বরং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত মুমূর্ষু শিশুদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জীবন প্রদীপ সচল রাখার এক তীব্র তাগিদ। তারুণ্যের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ক্যাম্পাসজুড়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। রক্তদাতাদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে রক্ত সংগ্রহের কাজটি নিখুঁতভাবে পরিচালনা করে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞ মেডিকেল টিম।
উৎসবমুখর আয়োজনের বিভিন্ন সেশনে এবং সমাপনী দিনে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের রক্তদানে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করেন অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটির উপাচার্য, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সম্মানিত সদস্য, শিক্ষকরা এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তস্বল্পতাজনিত রোগ। এই রোগে আক্রান্তদের বেঁচে থাকার জন্য প্রতি মাসে নিয়মিত রক্ত নিতে হয়। আমাদের তরুণ প্রজন্মের এমন দূরদর্শী ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ এই অসহায় রোগীদের বেঁচে থাকার নতুন আলো দেখাবে। বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আমরা নিয়মিত কাজ করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। তিন দিনব্যাপী এই মহতী উদ্যোগ প্রমাণ করে এডাস্টের শিক্ষার্থীরা শুধু একাডেমিক পড়াশোনাতে নয়, সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গায়ও সক্রিয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন স্পেশালিস্ট ড. রাজিয়া সুলতানা, 
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সচিব মো. কামরুজ্জামান লিটু, পরিচালক (অর্থ) সৈয়দা সারাহ্ আনওয়ার, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দা মাসুমা রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
ড. রাজিয়া সুলতানা বলেন, প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনা, থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সা কিংবা প্রসবকালীন জটিলতায় হাজার হাজার মানুষের জন্য জরুরি রক্তের প্রয়োজন হয়, যার একমাত্র উৎস সচেতন মানুষের স্বেচ্ছায় রক্তদান। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতির পরও মানবদেহের রক্তের কোনো কৃত্রিম বিকল্প তৈরি হয়নি। রক্তের সংকট দূরীকরণে এবং জনসচেতনতা বাড়াতে এমন ছোট ছোট উদ্যোগ সুস্থ ও সুরক্ষিত সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। সুন্দর মানবিক সমাজ গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রত্যেকে প্রত্যেকের পাশে দাঁড়ালে, একটু সচেতন হলে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে সক্ষম হব।

সুহৃদের প্রধান উপদেষ্টা ও সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান শারমিন আকতার বলেন, থ্যালাসেমিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে থাকা অজ্ঞতা দূর করা, তরুণদের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো এবং তীব্র রক্তের সংকট মোকাবিলা করাই ছিল এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুহৃদরা সামাজিক-সাংস্কৃতিক কাজের পাশাপাশি মানবিক কাজেও সক্রিয় থাকবে– এটিই প্রত্যাশা।
সুহৃদরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আজকের তরুণ সমাজ যদি সচেতন হয় এবং বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করার মানসিকতা তৈরি করে, তবে থ্যালাসেমিয়ার মতো নীরব ঘাতককে সমাজ থেকে চিরতরে রুখে দেওয়া সম্ভব। সমঝোতা চুক্তির ফলে এখন থেকে ক্যাম্পাসে এই সচেতনতা কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রয়োজনে এবং সামাজিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মানবিক সংকটে এডাস্ট সমকাল সুহৃদ সমাবেশ ভবিষ্যতেও এ ধরনের জীবনমুখী ও কল্যাণকর কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে–এটিই আমাদের প্রত্যাশা।
আয়োজনে উল্লেখযোগ্য ছিল অতীশ দীপঙ্কর ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এডাস্ট) এবং বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর। এ চুক্তির মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধ, শিক্ষার্থীদের মাঝে নিয়মিত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক নানা কার্যক্রমে উভয় প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ মেয়াদে যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ফাউন্ডেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ভবিষ্যতে থ্যালাসেমিয়ামুক্ত সমাজ গঠনে একটি যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এ সময় সুহৃদরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তারুণ্যের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা, রক্তদানের মহৎ মানসিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক এই চুক্তি শুধু একটি সফল আয়োজন নয়; বরং সুস্থ, সুন্দর ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণের এক শক্তিশালী  অনুপ্রেরণা হিসেবে দীর্ঘকাল টিকে থাকবে। 
সুহৃদ, অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

×