ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ক্যানভাসের রং যখন গহনার নকশায়

ক্যানভাসের রং যখন গহনার নকশায়
×

রেনসিয়া খান

আফরোজা চৈতী

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:১১ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

রেনসিয়া খান এমন একজন নারী, যিনি শিল্পচর্চাকে জীবনের ছন্দে ছন্দে গেঁথে নিয়েছেন। কিন্তু জীবনের রূঢ় বাস্তবতা হলো, কেবল শিল্পের আরাধনা দিয়ে সবসময় জীবনযুদ্ধ জয় করা যায় না, মেটে না জাগতিক প্রয়োজনও। তবে হার মানার পাত্রী রেনসিয়া নন। শিল্পের প্রতি তাঁর যে তৃষ্ণা আর জীবনের যে বাস্তব তাগিদ–এই দুইয়ের অপূর্ব সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি পা রাখলেন এক নতুন উদ্যোক্তা জীবনে। জন্ম নিল তাঁর স্বপ্নের উদ্যোগ ‘কারুনগরী’।

রেনসিয়া খানের এই চিত্রশিল্পী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথটি মসৃণ ছিল না মোটেও। পুরান ঢাকার এক রক্ষণশীল পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা। পারিবারিক নানা প্রতিবন্ধকতায় প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চশিক্ষার পথ থমকে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাঁর ভেতরের শিল্পীসত্তা কখনও দমে যায়নি। 

কারুনগরীর গহনায় চামড়া থেকে শুরু করে কাপড়, সুতাসহ নানা রকম দেশীয় উপাদানের চমৎকার ব্যবহার দেখা যায়। নিপুণ হাতের সেলাই, প্রাচীন বাংলার আভিজাত্য এবং লোকজ শিল্পের মোটিফকে তিনি অত্যন্ত সুচারুভাবে আধুনিক গহনায় ফুটিয়ে তোলেন। দেশীয় লোকাল বা স্থানীয় কাঁচামালকে কেন্দ্র করে তাঁর তৈরি গহনার ডিজাইনে একইসঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক এক অপূর্ব মেলবন্ধন চোখে পড়ে।

রেনসিয়া শুধু নিজের জন্যই স্বপ্ন দেখেননি, তিনি চেয়েছেন পেছনের সারিতে থাকা নারীদেরও এগিয়ে নিতে। কারুনগরীর চমকপ্রদ দিক হলো এর কারিগররা। রেনসিয়া বেছে নিয়েছেন গ্রামবাংলার সুবিধাবঞ্চিত মধ্যবয়স্ক নারী এবং কিশোরী কারিগরদের।

রেনসিয়া বলেন, ‘পৃথিবীতে যে কোনো উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হলো ধৈর্য এবং সহনশীলতা। নিজের উদ্যোগের প্রতি সৎ থাকতে হবে এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে।’ তাঁর এই আত্মবিশ্বাস আজ আর বৃথা যায়নি। আজ কারুনগরীর গহনা শুধু দেশের মাটিতেই নয়, বরং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও সমাদৃত হচ্ছে।

রেনসিয়া খান প্রমাণ করেছেন–সদিচ্ছা, সততা আর শিল্পের প্রতি ভালোবাসা থাকলে যে কোনো শূন্য থেকেই পূর্ণতার পথে হাঁটা যায়। এই নারী উদ্যোক্তা স্বপ্ন দেখেন, একদিন কারুনগরীর কাজ আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও বিশাল স্বীকৃতি লাভ করবে।

আরও পড়ুন

×