ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নারীবিদ্বেষী মনস্তত্ত্বের নেপথ্যে

স ম সা ম য়ি ক

নারীবিদ্বেষী মনস্তত্ত্বের নেপথ্যে
×

অধ্যাপক কামাল চৌধুরী

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৭:২৩ | আপডেট: ২৪ মে ২০২৬ | ১২:৫১

| প্রিন্ট সংস্করণ

শিশুর মনস্তত্ত্ব গঠনে প্রাথমিকভাবে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে তার পরিবার, পরিবারের আশপাশের মানুষজন এবং পরবর্তী সময়ে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক এবং বন্ধু-বান্ধব। শৈশবকালে পাওয়া অভিজ্ঞতাগুলো থেকেই শিশুর দৃষ্টিভঙ্গি, বিশ্বাস, পৃথিবী এবং মানুষ সম্পর্কে তাদের ধারণা তৈরি হয়; যা তাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা যখন বড় হচ্ছে, প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছে তাদের এই বিশ্বাস, দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারাই তারা কিন্তু পরিচালিত হয়। তারা নিজেদের আশপাশের মানুষদের মধ্য থেকে রোল মডেল তৈরি করে নেয়। এই রোল মডেল হতে পারে তার বাবা, মা, শিক্ষক, বন্ধু-বান্ধব বা আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তি।

একটি সমাজে যখন পরিবার এবং শিক্ষাঙ্গনে অব্যাহতভাবে নারীর প্রতি তীব্র অবমাননামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করা হয়, নারীর মানব পরিচয়কে অগ্রাহ্য করে শুধু যৌন সম্ভোগের বস্তু হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়, তাকে শুধু পুরুষের যৌন আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থের একটি বস্তু হিসেবে দেখানো হয়, তখনই সেই সমাজে সেই পরিবারের শিশুরা নারীর প্রতি তীব্র এক ধরনের নেতিবাচক ধারণা নিয়ে বড় হয়।

এই ধরনের পরিবারে বা সমাজে বড় হওয়া ব্যক্তিদের কাছে নারী মানেই সম্ভোগের বস্তু; নারী মানে যৌন আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার বস্তু। সেখানে নারীর বয়স, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক অবস্থানের চেয়ে নারীকে পুরুষের যৌন চাহিদা এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার বাহন–এই পরিচয়ই মুখ্য হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ধারণা বা বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় যখন তারা তাদের সমাজে বা পরিবারে এই বিষয়ে একটা মৌন বা পরোক্ষ সমর্থন তৈরি হতে দেখে। তাদের যারা রোল মডেল তাদের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ইতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করতে দেখে। তখন এ ধরনের ধারণাকে অন্যায় মনে না করে তাদের বিশ্বাসের বৈধ অংশ হিসেবে মনে করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বড় হওয়া ব্যক্তিদের মাঝে পরবর্তী সময়ে নারীর প্রতি বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক আচরণে অভ্যস্ততা তৈরি করে, যা সময়ের সঙ্গে নারীর প্রতি জিঘাংসামূলক বা ভায়োলেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে একটা ভূমিকা রাখতে পারে। 

লেখক: অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও পড়ুন

×