হিজড়া জনগোষ্ঠীর ন্যায্য হিস্যা চাই
রানী চৌধুরী/ হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকারকর্মী ও সমাজকর্মী
রানী চৌধুরী
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ০৭:০৩ | আপডেট: ০৭ জুন ২০২৬ | ১৭:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশের অন্যতম প্রান্তিক হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেটের রূপরেখা বরাবরই চরম হতাশার। জনশুমারি ২০২২-এর তথ্যানুযায়ী, দেশে হিজড়া জনগোষ্ঠীর সংখ্যা মাত্র ১২ হাজার ৬২৯ জন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এনজিওগুলোর মতে, এই সংখ্যা দুই থেকে তিন লাখ। সরকারি খাতায় জনসংখ্যা কম দেখানোর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে বাজেটে। গত অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে তাদের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ১৩ কোটি ৫ লাখ টাকা। তার ওপর এটি দেওয়া হয় ‘থোক বরাদ্দ’ হিসেবে, যেখানে প্রতিবন্ধী বা বিধবা নারীদের সঙ্গে হিজড়াদের মিলিয়ে ফেলা হয়।
হিজড়া জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে হলে বাজেটে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট খাতে বিশেষ নজর ও বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন–
পারিবারিক সুরক্ষা ও শিক্ষা: একজন হিজড়া শিশুর জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি শুরু হয় তার নিজের পরিবার থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মাধ্যমে। তাই বাজেটে এমন একটি তহবিল থাকা উচিত, যা প্রান্তিক পরিবারগুলোকে সচেতন করতে এবং আর্থিক প্রণোদনা দিতে ব্যবহৃত হবে, যাতে তারা তাদের সন্তানকে রাস্তায় ফেলে না দেয়। পাশাপাশি হিজড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষাবৃত্তি ও কারিগরি শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে। শিক্ষা না থাকলে তারা বাধ্য হয়েই পথে নামবে।
কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরি: শুধু কারিগরি প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, তাদের স্বাবলম্বী করতে সিটি করপোরেশন ও সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে জামানতবিহীন ‘উদ্যোক্তা সহায়তা তহবিল’ গঠন করতে হবে। কেউ যদি ছোট একটি দোকান বা ব্যবসা দিতে চায়, তাকে মূলধন দিতে হবে এবং সেই ব্যবসা যেন তারা সফলভাবে পরিচালনা করতে পারে, সে জন্য তদারকি বা মনিটরিংয়ের ব্যবস্থাও বাজেটের আওতাভুক্ত থাকতে হবে।
স্বাস্থ্য ও মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা: সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা। পরিবার ও সমাজ থেকে বিতাড়িত হয়ে তারা যে চরম মানসিক ট্রমার ভেতর দিয়ে যায়, তা কাটিয়ে উঠতে সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং ও চিকিৎসার জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
আবাসন: বাসস্থানের অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। বাজেটে এ জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি উদ্যোগে নিরাপদ আবাসন বা আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকা প্রয়োজন।
লেখক: হিজড়া জনগোষ্ঠীর অধিকারকর্মী ও সমাজকর্মী
- বিষয় :
- হিজড়া
- জেন্ডার বাজেট
- রানী চৌধুরী
