ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

দেশে সবজি বীজের বাজার ৩ হাজার কোটি টাকার

দেশে সবজি বীজের বাজার ৩ হাজার কোটি টাকার
×

.

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩১

দেশে সবজির উৎপাদন বাড়ার বড় কারণ দেশি ও বিদেশি নতুন নতুন উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশে বার্ষিক সবজি বীজের চাহিদা তিন হাজার ৬০ টন। এর মধ্যে শীতকালে এক হাজার ৭২৩ টন এবং গ্রীষ্মে এক হাজার ৩৩৭ টনের চাহিদা থাকে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সরবরাহ করা হয় মাত্র ১১৪ টন। বেসরকারি কোম্পানি সরবরাহ করে দুই হাজার ৪৮৫ টন। বাকি ৪৬১ টন বীজ কৃষক নিজেদের ফলন থেকে সংগ্রহ করেন।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের সবজি বীজের বাজার আনুমানিক তিন হাজার কোটি টাকার। লালতীর, সুপ্রিম, এসিআই, মেটাল, মাসুদ, এআর মালিক, ইউনাইটেড, ব্র্যাক সিড, ইস্পাহানি ও জামালপুর সিড প্রাধান্য রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোই বাজারের ৭০-৭৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।
সবজিবীজ সরবরাহে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান লালতীর। ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই কোম্পানি ৩৫টি সবজির ২১৬টি জাত সরবরাহ করছে। লালতীর ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে বীজ রপ্তানি করছে এবং দেশের বাজারে ৩০ শতাংশ হিস্যা দখল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আওয়াল মিন্টু বলেন, ‘আগে বিদেশে গিয়ে দেখতাম তাদের সবজি সুন্দর আকৃতির। আমাদের সবজি থাকত বাঁকা ও পোকায় খাওয়া। পরে আমরা সবজি নিয়ে কাজ শুরু করি।’ তিনি বলেন, ‘দেশে ২০০০ সালে মাথাপিছু সবজি গ্রহণের হার ছিল মাত্র ৭০ গ্রাম। এখন তা বেড়ে ১৭০ গ্রামে পৌঁছেছে। তবে এফএও মানদণ্ডে এটা একজন মানুষের জন্য ২৫০ গ্রাম হতে হবে। আশা করছি, আগামী কয়েক বছরে আমরা সে অবস্থানে চলে যাব।’ 
এসিআই সিড ১৯৯৮ সালে ব্যবসা শুরু করে এবং ১৩টি ফসলের ৪০টি জাত বাজারে আনে। লাউবীজের ৪০ শতাংশ বাজার তাদের দখলে। প্রতিষ্ঠানটির এগ্রিবিজনেসেস বিভাগের প্রেসিডেন্ট এফ এইচ আনসারী বলেন, ‘বিশ্বে বীজের প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে চাই আমরা। আমাদের বীজ এখন শ্রীলঙ্কা ও মধ্যপ্রাচ্যে রপ্তানি হচ্ছে।’ 
সুপ্রিম সিড কোম্পানি ৩০টি সবজির ১৫০টি জাত নিয়ে কাজ করছে। এআর মালিক সিডস প্রাইভেট লিমিটেড ২৬টি সবজির ১৩৫টি জাত উৎপাদন করছে। সুপ্রিম সিড কোম্পানির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোহা. মাহতাব উদ্দীন বলেন, ‘আমাদের ক্যাপসিকাম ও ব্রোকলি বীজ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ বছর আমরা বিট রুট, চেরি টমেটো ও চায়নিজ ক্যাবেজের বীজ বাজারে ছাড়তে যাচ্ছি।’ স্বাধীনতার আগে থেকেই বীজ আমদানি ও সরবরাহ করছে এআর মালিক সিডস প্রাইভেট লিমিটেড। এখন তারা নিজেরাই বীজ উৎপাদন করছে। দিনাজপুরে গড়ে তুলেছে নিজস্ব গবেষণা কেন্দ্রও।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান জানান, প্রায় ৩০ শতাংশ বীজ এখনও আমদানি করা হয়, যেখানে কিছু নিম্নমানের বীজ ও রোগবালাই থাকে; যা কৃষকের ক্ষতির কারণ হতে পারে। 
বাংলাদেশ সিড অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক বলেন, ২০০০ সালের আগে দেশে বীজের বাজার কৃষক ও আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন দেশেই অনেক নতুন জাত উদ্ভাবন হচ্ছে। ভালো বীজ ব্যবহার করলে উৎপাদন ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন

×