ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ট্রাভেল এজেন্সির মালিকানা হতে হবে দেশীয়

ট্রাভেল এজেন্সির মালিকানা হতে হবে দেশীয়
×

জসিম উদ্দিন বাদল

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসার নিয়মে নানা পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়ে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করেছে সরকার। অধ্যাদেশের খসড়া অনুসারে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা করতে হলে শতভাগ দেশীয় মালিকানা হতে হবে। এ ছাড়া নীতিমালা লঙ্ঘন করার ক্ষেত্রে শাস্তি আগের চেয়ে ছয় গুণ এবং অর্থদণ্ড ১০ গুণ পর্যন্ত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে এতে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া প্রকাশ করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। খসড়া অধ্যাদেশটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে এ বিষয়ে অংশীজনের মত চাওয়া হয়েছে।  
ট্রাভেল এজেন্সি মালিকদের কারও কারও মতে, ট্রাভেল এজেন্সির মতো ছোটখাটো ক্ষেত্রে বিদেশিদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ না রাখার সিদ্ধান্ত খুবই ইতিবাচক। এর ফলে দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গ্রাহক হয়রানি রোধ করতেও ভূমিকা রাখবে এটি। আবার কেউ কেউ বলছেন, এ অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসায় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গ্রাহক হয়রানি রোধ ও আকাশপথে সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ ও সংশোধনী আইন, ২০২১ পুনঃসংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়। অংশীজনের মতামত ও প্রতিবেশী দেশের আইন বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। 
খসড়া অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, এখন থেকে ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসার লাইসেন্স নবায়ন করার সময় প্রতিবছরের আর্থিক বিবরণীসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না। অন্য ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে টিকিট কেনাবেচা ও ট্রাভেল এজেন্সির ভৌত ঠিকানায় রিক্রুটিং এজেন্ট হিসেবে ব্যবসা করলে, সরকার নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যমে লেনদেন না করলে, যে কোনো উপায়ে মজুতদারি, কালোবাজারিসহ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে টিকিটের অস্বাভাবিক দাম বাড়ালে এবং অতিরিক্ত মূল্যছাড়, চটকদার প্রলোভন, ক্যাশব্যাক ও ইনসেনটিভ প্রদান সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অগ্রিম অর্থ আদায় করলে ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হবে। 

এতে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ জন্য তাঁকে অনধিক তিন বছর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এতদিন এই শাস্তি ছিল অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। 

অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব) সূত্রে জানা যায়, দেশে সাড়ে ছয় হাজারের মতো ট্রাভেল এজেন্সি প্রতিষ্ঠান আছে। এ ব্যাপারে আটাবের সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম আরেফ সমকালকে বলেন, ২০১৩ সালের আইনেও বলা ছিল বিদেশিরা ট্রাভেল এজেন্সির মালিক হতে পারবে না। এরপরও গত কয়েক বছর পাঁচ-ছয়টি বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে ট্রাভেল এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করেছে।

অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারা সেবাভোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনলাইনভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এভাবে সুযোগ নিয়ে অনলাইনভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান লাপাত্তা হয়ে গেছে। এখনও দেশে ৮-১০টি অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বড় প্রকল্পে বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু ট্রাভেল এজেন্সির মতো ছোটখাটো ক্ষেত্রে বিদেশিদের বিনিয়োগের সুযোগ রাখা পুরোপুরি অযৌক্তিক। মালিকানা হবে দেশীয়– এমন শর্তের ফলে দেশে উদ্যোক্তা বাড়বে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রসারিত হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে এক এজেন্সি অন্য এজেন্সির সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না– এমন শর্ত রাখা ঠিক হয়নি।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান সমকালকে বলেন, দু-একটি বিষয় দ্বিমত করার মতো থাকলেও প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের বেশির ভাগই ইতিবাচক। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশীয় মালিকানাধীন ট্রাভেল এজেন্সিগুলো বিকশিত হবে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে।
তবে শেয়ার ট্রিপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া হক বলেন, বাংলাদেশে শেয়ারট্রিপ, গোযায়ান, সহজসহ ভ্রমণ-প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রায় আড়াই কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে। নতুন অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা যাবে। পাশাপাশি ট্রাভেল ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

আরও পড়ুন

×