ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কৃষিতে টিস্যু কালচার প্রযুক্তি

রোগমুক্ত চারায় দ্বিগুণ ফলন, বাড়ছে চাহিদা

রোগমুক্ত চারায় দ্বিগুণ ফলন, বাড়ছে চাহিদা
×

টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পের বগুড়ার ল্যাব থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আলুর চারা বিক্রি হয়েছে

জাহিদুর রহমান

প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩৪ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

একটু একটু করে বাংলাদেশের কৃষি পুরোনো খোলস ছাড়ছে। মাঠে এখন শুধু অভ্যাসে চলা চাষাবাদ নয়; বিজ্ঞান, প্রযুক্তি আর কৃষকের হাতে-কলমে শেখা দক্ষতা মিলেই তৈরি হচ্ছে এক নতুন পথ। এই পথচলায় বড় ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্প।

দেশে টিস্যু কালচার নিয়ে আগে যতটা কথা হতো, তার বেশিটাই গবেষণা আর সম্ভাবনার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন ছড়িয়ে পড়েছে মাঠে। মাদারীপুর, বগুড়ার বনানী আর ময়মনসিংহের কেওয়াটখালী হর্টিকালচার সেন্টারের ল্যাবে প্রতিদিনই জন্ম নিচ্ছে রোগমুক্ত, উচ্চফলনশীল চারা। জি-৯ কলা, এমডি-২ আনারস, স্ট্রবেরি, জারবেরা, অর্কিড, স্টিভিয়া, আলু এবং আরও কিছু জাত উৎপাদিত হচ্ছে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত পরিবেশে, নিয়ন্ত্রিত আর্দ্রতা-তাপমাত্রার মধ্যে।

উদ্ভিদকে তার স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধির ঝুঁকি আর সীমাবদ্ধতা থেকে সরিয়ে এনে কোষ-টিস্যু থেকে নতুন চারা গড়ে তোলা হয়। ফলে চারা হয় রোগবালাইহীন, আর বাড়ে দ্রুত। জি-৯ কলাই তার উদাহরণ। সাধারণ জাতের তুলনায় এই কলার ফলন প্রায় দ্বিগুণ। গাছ রোগে কম পড়ে, ফল আসে সামঞ্জস্য রেখে এবং বাজারে দামটাও থাকে ভালো।

কিছুদিন আগেও জারবেরা ফুলের চারা নিয়ে কৃষকদের পুরোপুরি নির্ভর করতে হতো ভারতের ওপর। এমডি-২ আনারসের সাকার আসত ফিলিপাইন থেকে। সেই নির্ভরতা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। ল্যাবে উৎপাদিত চারাগুলো শুধু সহজলভ্যই হয়নি, মানের দিক থেকে কৃষকদের ভরসা জুগিয়েছে। 

প্রকল্পের তিনটি সক্রিয় ল্যাব ইতোমধ্যে লাখের বেশি অনুচারা তৈরি করেছে। এর মধ্যে আলু ২৫ হাজার, জারবেরা ৮৩০০, জি-৯ কলা ৭২৫০, আনারস ১৪ হাজার, অর্কিড ৯ হাজার, স্ট্রবেরি ১০ হাজার ২০০, স্টিভিয়া ৮০০ চারা উৎপাদন হয়েছে। চলতি মাসে শুধু আলুর অনুচারা বিক্রিতেই সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। ডিসেম্বর থেকে প্রতিটি ল্যাবের মাসিক বিক্রির লক্ষ্য ৩০-৪০ হাজার টাকা। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুরু মাত্র। বান্দরবানের বালাঘাটা, সাভারের রাজালা ও টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি হর্টিকালচার সেন্টারের ল্যাব পুরোপুরি চালু হলে চারা উৎপাদন আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন

×