র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
সারাবিশ্বে র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট বর্তমানে বড় পরিসরে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের নির্মাণসামগ্রী খাতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট। গত কয়েক বছরে কিছু প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এই ধরনের সিমেন্ট বাজারজাতের পর এর কার্যকারিতার কারণে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বল্প সময়ে অধিক দৃঢ়তা অর্জনের সক্ষমতার কারণে আধুনিক নির্মাণ ব্যবস্থায় এই বিশেষ ধরনের সিমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে। বিশেষ করে ফাউন্ডেশন, কলাম, বিম ও ছাদ ঢালাইয়ের কাজে, সময়সীমানির্ভর প্রকল্পে এবং জরুরি নির্মাণকাজে এই ধরনের সিমেন্টের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।
নির্মাণখাত সংশ্লিষ্টদের মতে, র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট হচ্ছে এমন এক বিশেষ ধরনের সিমেন্ট, যা দ্রুত শক্ত হয় এবং সাধারণ সিমেন্টের তুলনায় প্রাথমিকভাবে ও দীর্ঘ মেয়াদে দ্রুত ও অধিক শক্তি অর্জন করে। এ ছাড়া র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট প্রথম তিন দিনেই অন্যান্য সিমেন্টের সাত দিনের শক্তি এবং ১৪ দিনেই কংক্রিটের ডিজাইন স্ট্রেন্থ অর্জন করতে পারে। এর রাসায়নিক গঠন এবং সূক্ষ্ম কণার জন্যই দ্রত শক্তি অর্জন করার এই বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্মাণ খাতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সময়মতো কাজ সম্পন্ন করা। কংক্রিট শক্ত হতে দীর্ঘ সময়ের কারণে একদিকে যেমন কাজের গতি কমে যায়, অন্যদিকে ব্যয় বাড়ে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, সম্ভব হলে তার আগেই কাজ শেষ করতে পারলে ব্যবহারিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে। এই ভাবনা থেকেই র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্টের আবির্ভাব। বাংলাদেশেও মেগা প্রজেক্ট, দ্রুত নগরায়ণ ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের ফলে র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্টের ব্যবহার বাড়ছে। দেশে কয়েকটি সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট বাজারে এনেছে। তাদের মধ্যে মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) সর্বপ্রথম ‘ঢালাই স্পেশাল সিমেন্ট’ নামে আর ক্যাটেগরির র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট বাজারে নিয়ে আসে। র্যাপিড হার্ডেনিং সিমেন্ট প্রথম দুই দিনেই ওপিসি সিমেন্টের সমান অর্থাৎ ২০ এমপিএ দৃঢ়তা অর্জন করা এবং ১৪ দিন পরেই শাটারিং খুলে ফেলা সম্ভব হয়। প্রচলিত সিমেন্টের ক্ষেত্রে যা সাধারণত ২১-২৮ দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। ঢালাই স্পেশাল সিমেন্ট ব্যবহারে নির্মাণকাজের সময় ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ও খরচ ১৮ শতাংশ সাশ্রয় করা সম্ভব।
- বিষয় :
- সিমেন্ট
