উদ্যোক্তাদের দাবি
সরবরাহ পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক রং শিল্পের জন্য বড় সমস্যা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০৭:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
পেইন্ট বা রং অত্যাবশ্যক পণ্য। বাড়িঘর, মূল্যবান আসবাব ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র, জাতীয় সম্পদ, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি রক্ষণাবেক্ষণ, ক্ষয়রোধ ও দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য এবং পরিবেশ সুরক্ষাসহ শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রতিনিয়ত রং ব্যবহার করা হচ্ছে। রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা ও চলাচলের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য রাস্তাঘাট মার্ক করার কাজে, হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশ সুরক্ষায়, শিল্প ক্ষেত্রে মূল্যবান স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, ক্ষয়রোধ ও দীর্ঘস্থায়ীর জন্য রং ও রং জাতীয় পণ্য ব্যবহার হয়।
তবে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা-৫৫ অনুযায়ী রং বিলাসবহুল পণ্য, অত্যাবশ্যক নয় এবং সামাজিকভাবে অনভিপ্রেত, জনস্বার্থে কর আরোপযোগ্য কিছু কিছু পণ্য বা সেবা। এ কারণে এর ওপর বিভিন্ন পর্যায়ে কর আরোপিত রয়েছে। চলতি অর্থবছরে পেইন্টস এবং ভার্নিসের সরবরাহ পর্যায়ে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়। রং উৎপাদনকারীরা সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট বৈঠকে বলেছেন, বাড়তি সম্পূরক শুল্ক তাদের বেশ বিপাকে ফেলেছে। এর ফলে স্থানীয় উৎপাদিত রং আমদানি করা তৈরি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
রং উৎপাদনকারীরা তাদের বাজেট প্রস্তাবে এনবিআরকে জানিয়েছেন, রং ও রং জাতীয় পণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করায় এই শিল্পের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রং ও রং জাতীয় পণ্য উৎপাদনের জন্য ৯৯ শতাংশ কাঁচামাল বহির্বিশ্ব থেকে আমদানি করতে হয়। কাঁচামালের অনেকাংশ কাস্টমস ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, অগ্রিম আয়কর, অগ্রিম কর, ভ্যাট সংযোজিত হয়ে সর্বনিম্ন ৩২.৭৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৯১.৮৮ শতাংশ পর্যন্ত সরকারের কোষাগারে দিতে হয়।
এই খাতের উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিকভাবে কাঁচামাল আমদানিতে শিপিং চার্জ চার থেকে পাঁচ গুণ হওয়ায় পণ্যের দাম আরও বেড়েছে। এ ছাড়া রঙের কাঁচামাল রাসায়নিক পদার্থ হওয়ায় অন্যান্য খরচ যেমন– বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানি অনুমোদনসহ আনুষঙ্গিক খরচ, আমদানি পণ্যের নির্ধারিত মূল্যের ওপর অনৈতিকভাবে মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে কর আরোপিত করায় আমদানি কাঁচামালের দাম দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায়। এতে স্থানীয়ভাবে রং ও রং জাতীয় পণ্য উৎপাদনের খরচ বিশ্বে স্থানীয়ভাবে রং ও রং জাতীয় পণ্যের উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেকাংশে বেড়েছে। এর ওপর রং ও রং জাতীয় পণ্য বাজারজাতকরণে সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ করায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের দাম আমদানি করা পণ্যের চেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে বাজার প্রতিযোগিতায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের টিকে থাকা অত্যন্ত কষ্টকর। এতে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার সম্মুখীন।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে রং ও রং জাতীয় পণ্যের ব্যবহার পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে অনেকাংশে কম। বাংলাদেশে মাথাপিছু রঙের ব্যবহার দেড় কেজি। শ্রীলঙ্কায় যা তিন কেজি এবং ভারতে চার কেজি। দেশের মূল্যবান স্থাপনা ও সম্পদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রং ও রং জাতীয় পণ্য ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। রক্ষণাবেক্ষণে মনোযোগ বাড়ালে রং ও রং জাতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়বে। মাথাপিছু রঙের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের রাজস্বের পরিমাণও বাড়বে। দেশের মূল্যবান স্থাপনা সঠিক রক্ষণাবেক্ষণে খরচ কমানোর লক্ষ্যে এবং অপচয় রোধে সরবরাহ পর্যায়ে ১০ শতাংশ সম্পূক শুল্ক প্রত্যাহার করা অত্যাবশ্যক।
- বিষয় :
- সমৃদ্ধি
