ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রবাসীদের জন্য নতুন হিসাব এনআরসিটিএ

প্রবাসীদের জন্য নতুন  হিসাব এনআরসিটিএ
×

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) জন্য নতুন ধরনের ব্যাংক হিসাব চালুর সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসীরা দেশের ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে (ওবিইউ) নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট বা এনআরসিটিএ খুলতে পারবেন। সঞ্চয়ী, চলতি কিংবা মেয়াদি আমানত– যে কোনো ধরনের হিসাবে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ-১ থেকে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আসা বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে এনআরবিরা এ হিসাব খুলতে পারবেন। নতুন এ হিসাবের মূল ও অর্জিত সুদ বা মুনাফা বিদেশে ফেরত নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
সার্কুলার অনুযায়ী, বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ টাকা হিসেবে রূপান্তরের পর এনআরসিটিএতে জমা করা যাবে। এ ছাড়া অন্য এনআরসিটিএ থেকে স্থানান্তরিত অর্থ, হিসাবের অর্থের ওপর অর্জিত সুদ বা মুনাফা এবং নির্দিষ্ট শর্তে বিদেশি বিনিয়োগ থেকে পাওয়া প্রত্যাবাসনযোগ্য অর্থও এ হিসাবে জমা হতে পারবে। 

বাংলাদেশি কোম্পানির নতুন শেয়ারে বিনিয়োগের অর্থ ফেরতসহ অন্যান্য অনুমোদিত রিফান্ডও এ হিসাবে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এনআরসিটিএতে রাখা আমানতের মূল অর্থ ও অর্জিত সুদ বা মুনাফা অবাধে বিদেশে প্রত্যাবাসন করা যাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে বৈধ স্থানীয় খরচ মেটানো, অন্য এনআরসিটিএ বা নন-রেসিডেন্ট টাকা হিসাবে অর্থ স্থানান্তর এবং সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব বা নন-রেসিডেন্ট বৈদেশিক মুদ্রা আমানত হিসাবে স্থানান্তরের সুযোগ থাকবে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) কিংবা পোর্টফোলিও বিনিয়োগেও এসব অর্থ ব্যবহার করা যাবে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রবাসীদের আমানত দেশের শিল্প ও ব্যবসায়িক অর্থায়নেও ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষায়িত অঞ্চলের ‘টাইপ এ’ শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে এনআরসিটিএর আমানত থেকে টাকায় ঋণ দিতে পারবে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট। তবে এ ঋণ শুধু বেতন, মজুরি ও ইউটিলিটি বিলের মতো অনুমোদিত চলতি হিসাবের ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করা যাবে। ঋণ পরিশোধ করতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রপ্তানি আয় থেকে।

এনআরসিটিএতে রাখা আমানত জামানত হিসেবে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশি বা তাদের মনোনীত তৃতীয় পক্ষকে ঋণ দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ঋণ ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করা গেলেও পুনঃঋণদান, কৃষি ও প্লান্টেশন কার্যক্রম এবং রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় বিনিয়োগে ব্যবহার করা যাবে না। তবে নিজ ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি কেনা এবং দেশে প্রত্যাবাসনযোগ্য নয়– এমন প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এনআরসিটিএ থেকে দেওয়া অর্থায়নের হিসাব আলাদাভাবে সংরক্ষণ বা ‘রিং-ফেন্স’ করতে হবে। একই সঙ্গে হিসাব খোলা ও পরিচালনায় যথাযথ গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি), মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের (এএমএল/সিএফটি) নিয়ম এবং কর-সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।
প্রবাসীদের সুবিধা বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে অনলাইন ইন্টার‌্যাকটিভ ওয়েব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এনআরসিটিএ খোলার ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধাও দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এ সেবা চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে হিসাবের বৈশিষ্ট্য, পরিচালন পদ্ধতি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কমপ্লায়েন্স কাঠামো সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

আরও পড়ুন

×