লেনদেন সহজ করছে বাংলা কিউআর
ওবায়দুল্লাহ রনি
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
ক্যাশলেস ব্যবস্থার পথে এগিয়ে যেতে সমন্বিত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা বাংলা কিউআর (কুইক রেসপন্স) চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফুটপাতের দোকান থেকে বড় সুপারশপ সবাইকে একক ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে গত ১ জুলাই থেকে কোডভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরে প্রতিস্থাপন বাধ্যতামূলক হয়েছে। ছাপানো নোটের ব্যবহার কমিয়ে লেনদেন আরও নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও দ্রুতগতির করতেই এমন উদ্যোগ। এ ব্যবস্থায় মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে। বাড়ছে লেনদেন। কিউআরভিত্তিক লেনদেন জনপ্রিয় করতে মার্চেন্টের ওপর বিদ্যমান ১ শতাংশ চার্জে ভর্তুকি দিতে ১০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের তৈরি করা একটি জাতীয় স্ট্যান্ডার্ডাইজড কুইক রেসপন্স (কিউআর) কোড। এটি ‘ইন্টারঅপারেবল’ বা আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেন নিষ্পত্তির সর্বজনীন ব্যবস্থা। আগে একটি দোকানে নির্দিষ্ট ব্যাংক বা এমএফএসের অ্যাপের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড রাখতে হতো। এ ব্যবস্থার ফলে একজন মার্চেন্ট বা দোকানদারকে একটি কিউআর কোড রাখলেই তিনি সবার কাছ থেকে পেমেন্ট নিতে পারেন। বাংলা কিউআর গ্রাহক ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই লেনদেন অত্যন্ত সহজ করে তুলেছে। লেনদেনে স্বচ্ছতা বাড়ানো, ঝুঁকিমুক্ত করা, কম খরচ ও দ্রুত সম্পন্ন করতে ২০২৩ সালে আন্তঃব্যাংক কোডভিত্তিক লেনদেন নিষ্পত্তির এ ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর গত ১ জুলাই থেকে সব প্রতিষ্ঠানের কোডভিত্তিক লেনদেন বাংলা কিউআরে প্রতিস্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, লেনদেন ব্যবস্থা ডিজিটালে আনতে বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ৪২টি ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের অ্যাপভিত্তিক লেনদেন সুবিধা রয়েছে। প্রতিটির কিউআর কোড না থাকলেও প্রতিষ্ঠানের অ্যাপে বাংলা কিউআর আইকন যুক্ত করতে বলা হয়েছে। বাংলা কিউআরে লেনদেন দ্রুত বাড়ছে। তিনি বলেন, যে ব্যাংক বা এমএফএসের কিউআর ব্যবহার করে দোকানে গিয়ে গ্রাহক পরিশোধ করবেন, ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাবে টাকা জমা হবে। টাকা জমা হওয়া ব্যাংক বা এমএফএস চাইলে মার্চেন্টকে ক্যাশ ব্যাকসহ নানা অফার দিয়ে আকৃষ্ট করতে পারবে।
কেন এত আগ্রহ
অপরাধমূলক লেনদেন ঠেকানো, সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানো, খরচ, সময় ও ঝুঁকি কমাতে বিশ্বের অনেক দেশ ক্যাশলেস বা লেসক্যাশ লেনদেন ব্যবস্থায় চলে গেছে। এ ব্যবস্থায় কর ফাঁকি দেওয়া কঠিন। যে কারণে শুরুতে বিভিন্ন দেশ প্রণোদনার মাধ্যমে আকৃষ্ট করেছে। বাংলাদেশে ২০২৭ সালের মধ্যে মোট লেনদেনের ৭৫ শতাংশ ক্যাশলেস করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। বাংলা কিউআর প্রবর্তন এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, নগদ টাকা ব্যবস্থাপনায় বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার মতো খরচ হয়। আবার জাল, ছেঁড়া-ফাটা নোট কিংবা ছিনতাইয়ের ঝুঁকি আছে। শাখায় গিয়ে কিংবা বুথে টাকা জমা, উত্তোলনে বাড়তি সময় দিতে হয়। আবার নগদ লেনদেনের গতিপথ বের করা কঠিন। বেশির ভাগ অপরাধমূলক পরিশোধ হয় নগদ টাকায়। ফলে লেনদেন যত ডিজিটাল হবে, নিয়ম মেনে যারা চলতে চান তারা বেশি লাভবান হবেন।
ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ
চলতি অর্থবছর থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে যেসব অ্যাকাউন্ট খোলা হয়, তাদের বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। তবে ফুটপাতের দোকানিও যেন বাংলা কিউআরে পরিশোধ নিতে পারেন, সে জন্য পার্সোনাল রিটেইল অ্যাকাউন্ট (পিআরএ) খোলায় ট্রেড লাইসেন্স জমার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ব্যবস্থায় ফুটপাত বা ভ্যানে ব্যবসা করেন এরকম একজন ব্যক্তি কেবল জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসার হিসাব খুলতে পারেন। এ ধরনের হিসাবে মাসে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা লেনদেন করা যাবে। আর জমা রাখা যাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর থেকে যেসব হিসাব খুলতে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়, তাদের কিউআরে পরিশোধ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
লেনদেন দ্রুত বাড়ছে
এখন পর্যন্ত ব্যাংক, এমএফএসসহ ৩৭টি প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআরে যুক্ত হয়েছে। এ ব্যবস্থায় লেনদেনও দ্রুত বাড়ছে। বাধ্যতামূলক হওয়ার আগে গত ২১ থেকে ২৭ জুন এক সপ্তাহে ২৪৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। পরের সপ্তাহে ২৮ জুন থেকে ৪ জুলাই তা বেড়ে ২৬১ কোটি টাকায় ওঠে। এরপরের সপ্তাহে ২৯৯ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ১২ থেকে ১৮ জুলাই লেনদেন হয় ৩৩৮ কোটি টাকা। আর ১৯ থেকে ২৫ জুলাই আরও বেড়ে ৩৫২ কোটি টাকায় ঠেকেছে। অবশ্য মার্চেন্টের ওপর বিদ্যমান ১ শতাংশ চার্জ না থাকলে এ লেনদেন আরও দ্রুত বাড়বে।
- বিষয় :
- বাংলা কিউআর