উচ্চশিক্ষায় বড় অবদান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাব্বির নেওয়াজ
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নয়; বরং মূলধারার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিন দশকের বেশি সময়ে এ খাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবকাঠামো, বিষয় ও কোর্সের বৈচিত্র্য। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংকট, ভর্তি প্রতিযোগিতা ও সেশনজটের পাশাপাশি পরিবর্তনশীল কর্মবাজারের চাহিদা পূরণেও বড় অবদান রাখছে এসব প্রতিষ্ঠান।
প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন, ফার্মাসি ও আইন থেকে শুরু করে ফ্যাশন, কৃষি, সৃজনশীল শিল্প, পর্যটন ও আতিথেয়তা– বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষায়িত উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। একই সঙ্গে আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং গবেষণার ওপরও গুরুত্ব বাড়ছে।
বর্তমানে দেশে ১১৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন রয়েছে। সবগুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম চালু না থাকলেও কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ছেন বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০৩টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ছিলেন তিন লাখ ৫৮ হাজার। শিক্ষক ছিলেন ১৭ হাজার ৪৭৯ জন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রী ছিলেন প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাপ সামলাচ্ছে
দেশে প্রতিবছর উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের উপযোগী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। বিপরীতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আসন, অবকাঠামো ও শিক্ষকসংখ্যা সেই হারে বাড়েনি। ফলে ভর্তি পরীক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হতে না পেরে অপেক্ষা করছেন বা বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এই বাস্তবতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখছে। বছরে দুই বা তিন সেমিস্টারে ভর্তি নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় না। ডুয়েল সেমিস্টারে সাধারণত জানুয়ারি ও জুলাই এবং ট্রাই সেমিস্টারে জানুয়ারি-এপ্রিল, মে-আগস্ট ও সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর সময়ে ভর্তি নেওয়া হয়।
সেশনজট ও ছাত্র রাজনীতিমুক্ত পরিবেশও অনেক শিক্ষার্থী-অভিভাবককে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতি আকৃষ্ট করছে। তবে উচ্চ টিউশন ফি এখনও বড় সীমাবদ্ধতা। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও ব্যয়ের কারণে অনেকের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা কঠিন।
কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো, কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিষয় ও কোর্স চালু করা। ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মোট শিক্ষার্থীর ৪৩ দশমিক ১৭ শতাংশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়ছেন। ব্যবসায় শিক্ষায় ২২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, কলা ও মানবিকে ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ, আইনে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং ফার্মাসিতে ৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী রয়েছেন।
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই), সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিকস, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম, ডেটা সায়েন্স, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, গ্রাফিকস ডিজাইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে।
ইউজিসির তথ্যমতে, কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে চাকরির বাজারে চাহিদা রয়েছে এমন বিষয় দ্রুত চালু করা। পাশাপাশি বিভিন্ন ক্লাব, সহশিক্ষা ও অতিরিক্ত শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে যোগাযোগ, নেতৃত্ব ও নেটওয়ার্কিং দক্ষতা তৈরির সুযোগও দেওয়া হয়।
ওবিইতে বদলাচ্ছে শিক্ষার ধরন
শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়, শিক্ষার্থী কোর্স শেষে কী শিখল এবং সেই জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে কতটা প্রয়োগ করতে পারছে– এ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে উচ্চশিক্ষায় চালু হয়েছে আউটকামবেজড এডুকেশন বা ওবিই।
প্রচলিত পদ্ধতিতে পাঠ্যসূচি শেষ করা ও পরীক্ষার ফলের ওপর বেশি গুরুত্ব থাকলেও ওবিই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, নেতৃত্ব ও পেশাগত সক্ষমতাকে বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ, একজন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেওয়ার পাশাপাশি কর্মজীবনের উপযোগী করে তোলাই এ ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।
দেশের বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে ওবিইভিত্তিক কারিকুলাম বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষায় এর ব্যবহার বেশি। প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা, ইন্টার্নশিপ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে।
বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, ডেটা সায়েন্স, সাইবার নিরাপত্তা ও অটোমেশনের মতো প্রযুক্তি দ্রুত বদলে দিচ্ছে কর্মবাজার। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সিএসই, ইইই, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, মেকাট্রনিকস, বায়োটেকনোলজি ও আইসিটি-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নতুন কোর্স চালু হচ্ছে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে উঠেছে আধুনিক ল্যাবরেটরি, ইনোভেশন ল্যাব ও গবেষণাকেন্দ্র। শিক্ষার্থীদের স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ।
মেধাবীদের দেশেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ
উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বিদেশে যাচ্ছেন। তাদের একটি অংশ পড়াশোনা শেষে বিদেশেই থেকে যান। ফলে দেশের অর্থের পাশাপাশি দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তিও হারাচ্ছে বাংলাদেশ।
দেশেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ বাড়ানো গেলে এ প্রবণতা কমানো সম্ভব। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে একটি বিকল্প তৈরি করেছে। আধুনিক কারিকুলাম, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ কার্যক্রম, আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ আরও বাড়ানো গেলে বিদেশমুখী শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে দেশে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের গবেষণা ও শিক্ষাদানে যুক্ত করাও হতে পারে কার্যকর উদ্যোগ।
মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ
শিক্ষক নিয়োগেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি ইতিবাচক দিক হলো, যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা। ভালো অবস্থানে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক ফল, উচ্চতর ডিগ্রি, গবেষণা, প্রকাশনা ও পেশাগত অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশেষ করে দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ও উচ্চতর ডিগ্রিধারী শিক্ষক নিয়োগের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে একাডেমিক যোগ্যতা ও গবেষণা সক্ষমতা শিক্ষক নিয়োগের প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত– এমন একটি সংস্কৃতিও তৈরি হচ্ছে।
তবে এ ক্ষেত্রেও সব প্রতিষ্ঠানের চিত্র এক নয়। শিক্ষক ধরে রাখা, বেতন-ভাতা, চাকরির নিরাপত্তা, পদোন্নতি ও গবেষণার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশ্ন রয়েছে। তাই শুধু যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নয়, তাদের জন্য টেকসই একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন সম্ভাবনা
সাধারণ ধারার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি নির্দিষ্ট শিল্প বা জ্ঞানক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাও বেসরকারি খাতের উল্লেখযোগ্য অবদান। তৈরি পোশাক ও ফ্যাশন খাতের চাহিদা পূরণে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি), কৃষি শিক্ষায় এক্সিম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সৃজনশীল শিল্প ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান উচ্চশিক্ষায় নতুন বৈচিত্র্য এনেছে।
এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট শিল্প বা পেশার প্রয়োজন অনুযায়ী কারিকুলাম তৈরি করার সুযোগ থাকে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হতে পারে এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে কেন্দ্র করে আরও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে দৃশ্যমানতা
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতির আরেকটি সূচক আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে তাদের উপস্থিতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জায়গা
করে নিয়েছে।
কিউএস বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ের সর্বশেষ তালিকায় বাংলাদেশের শীর্ষ ১৫ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাতটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। টাইমস হায়ার এডুকেশনের ইমপ্যাক্ট র্যাঙ্কিংয়েও বাংলাদেশের তালিকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।
এতে অন্তত কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি দৃশ্যমান হয়েছে। তবে এটিকে পুরো খাতের চিত্র হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
গবেষণায়ও বাড়ছে আগ্রহ
ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ছিলেন ১৭ হাজার ৪৭৯ জন। এর মধ্যে পূর্ণকালীন শিক্ষক ১৩ হাজার ১৬৯ এবং খণ্ডকালীন চার হাজার ৩১০ জন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর গড় অনুপাত ছিল প্রায় ১:২১।
পূর্ণকালীন শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক ৯৫২, সহযোগী অধ্যাপক এক হাজার ১১৯, সহকারী অধ্যাপক তিন হাজার ৪১০ এবং প্রভাষক সাত হাজার ৪৭৮ জন। অর্থাৎ, পূর্ণকালীন শিক্ষকদের বড় অংশ অপেক্ষাকৃত জুনিয়র পর্যায়ের। তাই শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিজ্ঞ ও গবেষণায় সক্রিয় শিক্ষক তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি গবেষণার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যুক্তরাজ্যের এসওএএস, ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের সঙ্গে যৌথভাবে ‘পলিটিক্যাল ইকোনমি অব ডেভেলপমেন্ট’ বিষয়ে পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু করেছে। এর মাধ্যমে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পিএইচডি শিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রোগ্রামটিতে দুর্নীতি দমন, রাজনৈতিক অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি খাতের জবাবদিহিতা, ব্যবসায়িক পরিবেশ, সরকারি সেবা, দুর্যোগ, নারী অধিকার, সামাজিক আন্দোলন, শ্রমবাজারসহ উন্নয়ন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ থাকছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে হলে সরকারি-বেসরকারি উভয় বিশ্ববিদ্যালয়কেই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং গবেষণার সক্ষমতা তৈরি করা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, পিএইচডি চালুর ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সক্ষমতা, সুপারভাইজার শিক্ষকের মান এবং শিক্ষার্থীর যোগ্যতা– এই তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অবকাঠামো, যোগ্য অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনা এবং গবেষণার পরিবেশও বিবেচনায় থাকবে।
সামনে সুযোগ যেমন, দায়িত্বও তেমন
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের উচ্চশিক্ষার বিস্তারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা এখন অনস্বীকার্য। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেই উচ্চশিক্ষার মান বাড়বে না। বরং সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মান নিশ্চিত করা।
ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে কীভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ দেওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী যাতে পড়ালেখা শেষ করেই চাকরির বাজারে ঢুকতে পারে, সেই বিষয়টিকে প্রাধান্য দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী দিনে দেশের উচ্চশিক্ষার বড় একটি অংশের চাহিদা পূরণ করতে হবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কেই। তবে সেই ভূমিকা শুধু আসন বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণায় বিনিয়োগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ওবিই বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব, আধুনিক ল্যাবরেটরি, বিশেষায়িত শিক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর দিকে জোর দিতে হবে।
অর্থাৎ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এখন শুধু আরও বেশি শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার দায়িত্ব নয়; বরং দেশের মেধা ধরে রাখা, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে।
- বিষয় :
- উচ্চশিক্ষা