বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় দূরদর্শী উদ্যোগ
ড. জাহিদুল ইসলাম
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচনে তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও সময়োপযোগী উদ্যোগের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ১৯৯২ সালে। সে বছর তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আইন করেছিলেন।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর আধিক্য ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আসনসংখ্যার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিপুলসংখ্যক তরুণকে উচ্চশিক্ষার সুযোগের আওতায় আনার লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া।
বিশেষত বিশ্বায়নের যুগে যুগোপযোগী, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ছিল অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সুদূরপ্রসারী। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান জাতি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।
১৯৯২ সালের প্রস্তাবিত আইনের কাঠামোতে সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংযোজনের মাধ্যমে পরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ প্রণীত হয়। বর্তমানে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই আইনি কাঠামোর আওতায় তাদের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা, দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষাকে আরও যুগোপযোগী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার প্রয়োজনীয়তা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই চেতনাকে ধারণ করে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যে নতুন ধারণা, উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক নীতির সংযোজন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি। এ ধরনের উদ্যোগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসক, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং বেসরকারি উদ্যোক্তারা সম্মিলিতভাবে উচ্চশিক্ষার প্রচার ও প্রসার, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
আমি বিশ্বাস করি, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতা আরও বাড়ানো গেলে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি একটি জ্ঞানভিত্তিক, দক্ষ, উদ্ভাবনী ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উচ্চশিক্ষার সুযোগকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী করার মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলাই হবে আমাদের আগামী দিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
লেখক: অধ্যাপক ও ডিআইইউ ভিসি
- বিষয় :
- বেসরকারি শিক্ষক