ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টেক্সটাইল বিকাশের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন আইএসইউর টেক্সটাইল প্রকৌশলীরা

টেক্সটাইল বিকাশের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন  আইএসইউর টেক্সটাইল প্রকৌশলীরা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের দ্রুত অগ্রসরমাণ গার্মেন্ট শিল্পে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে চাকরির বাজারে বর্তমানে যে কয়টি বিষয়ের গ্র্যাজুয়েটদের সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে, তার মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। 
টেক্সটাইল সেক্টরের বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে টেকনিক্যাল ও ম্যানেজারিয়াল পজিশন এবং বায়িং অ্যান্ড মার্চেন্ডাইজিং ও শিক্ষকতায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে বিড়ম্বনায় শিকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। 

দেখা যায়, অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ থাকলেও শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। যার কারণে পিছিয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ওপর বাড়তি নজর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে, যার মধ্যে অন্যতম ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি (আইএসইউ)। 
ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি (আইএসইউ) মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সরকার ও ইউজিসি কর্তৃক অনুমোদিত এবং ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০’ অনুযায়ী ২০১৮ সালে ৩ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়। ‘স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ’-এর এই দুই কর্ণধার আইএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম মোশাররফ হুসাইন ও ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. আতিকুর রহমান সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। 
আইএসইউর উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আব্দুল আউয়াল খান। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন ও ডিপার্টমেন্ট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বুটেক্সের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ আবুল কাসেম।

গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে স্পিনিং মিল, উইভিং ফ্যাক্টরি, ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিল, গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি, কম্পোজিট মিল, ডেনিম প্রজেক্ট, ওয়াশিং প্লান্ট, বায়িং হাউস, মার্চেন্ডাইজিংসহ বেসরকারি সেক্টরে কাজ করতে পারছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি পলিটেকনিক ও কলেজগুলোতেও টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে শিক্ষকতার সুযোগ রয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুল আউয়াল খান বলেন, শিক্ষাজীবন শেষে চাকরির বিষয়টি পরিবারের অপরিহার্য চাওয়া। চাকরির সেক্টর বাড়াতে দরকার সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগ। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ উচ্চশিক্ষার সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সে সুযোগ বেশি। 
আইএসইউ প্রতিষ্ঠাতারা বলছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ (প্রতিষ্ঠাতাদের) ১৯টি টেক্সটাইলবিষয়ক ইন্ডাস্ট্রিতে আছে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ। এ ছাড়া নিজেদের ৩০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানে থাকছে ইন্টার্ন এবং চাকরির ব্যবস্থা। বিশ্বমানের টেক্সটাইল শিল্পের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের এ শিল্পও দ্রুত এগিয়ে নিতে অবদান রাখছে এ বিশ্ববিদ্যালয়।
ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটির (আইএসইউ) প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন এবং ডিপার্টমেন্ট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেয়ারপারসন মোহাম্মদ আবুল কাসেম বলেন, ‘টেক্সটাইল শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এই খাতে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার বিকল্প নেই। আইএসইউ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে আমরা শিল্পের চাহিদানুযায়ী পাঠক্রম, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগ্য প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলছি।’ 

মোহাম্মদ আবুল কাসেম বলেন, ‘বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের টেক্সটাইলবিষয়ক ইন্ডাস্ট্রিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অর্থাৎ ইউনিভার্সিটি ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ এডুকেশনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা, যারা দেশ-বিদেশের টেক্সটাইল খাতে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’
মোহাম্মদ আবুল কাসেম বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর এ যুগে শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনও জরুরি। আইএসইউ সবসময় শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্বমানের প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞান ও শিল্প ক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’ তিনি আরও বলেন, দেশকে প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর আইএসইউ সেই দিকেই দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। আইএসইউর প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা একদিন দেশ-বিদেশে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পরিচয় দেবে এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রাখবে।
 

আরও পড়ুন

×