ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

পুঁজিবাজার সংস্কারে মহাপরিকল্পনা

পুঁজিবাজার সংস্কারে মহাপরিকল্পনা
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৯:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের শিল্প ও ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন পুঁজিবাজার থেকে আসছে–এটা দেখতে চান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের নীতিগত বদলের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

সংসদে গতকাল বৃহস্পতিবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থনীতিকে ব্যাংকনির্ভরতা থেকে বের করে এনে পুঁজিবাজারমুখী করার লক্ষ্যে ব্যাপক সংস্কার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এই বাজারে বিনিয়োগকারীর হারানো আস্থা পুনরুদ্ধার এবং একে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের একটি শক্তিশালী মাধ্যমে রূপান্তর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

অর্থমন্ত্রীর ভাষায়, পুঁজিবাজারকে শেয়ার কেনাবেচার জায়গা থেকে বের করে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ, অবকাঠামো অর্থায়ন, সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তর এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত করা হবে।

শুধু বেসরকারি খাত নয়, সরকারের প্রকল্প, স্থানীয় সরকারের উন্নয়নে অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে পুঁজিবাজারকে ব্যবহারের লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন তিনি। বিগত সরকারের আমলে পুঁজিবাজারে যে বিপর্যয় নেমে এসেছিল, তা থেকে উত্তরণে এবার বাজারকে গভীর, বৈচিত্র্যময়, স্বচ্ছ ও আস্থাশীল করে তুলতে একগুচ্ছ পদক্ষেপের রূপরেখা দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী এমন সময় এ পদক্ষেপ নিলেন, যখন বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং ‘অলিগার্ক’ নামে-বেনামে ভুয়া ঋণ নিয়ে দেশের ব্যাংক খাত লুট করে পুরো অর্থনীতিকে বড় সংকটের মুখে ফেলেছে।

ডিজিটাইজেশন ও আইপিও প্রক্রিয়ায় সংস্কার
অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট প্রস্তাবে আইপিও প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এখন থেকে আবেদন জমা, ডিউ ডিলিজেন্স, অনুমোদনসহ যাবতীয় কার্যক্রম একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং সময় ও খরচ কমাবে। এছাড়া, ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে শর্তাবলি আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিনিয়োগ পণ্যের বৈচিত্র্য ও নতুন উদ্যোগ
বাজারের গভীরতা বাড়াতে অর্থমন্ত্রী শুধু শেয়ার কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পণ্যের বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা এবং করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড ও সুকুকের মতো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ উপকরণের বিকাশ। এমনকি স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে ‘পৌর বন্ড’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ও লেনদেন নিষ্পত্তি
বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় পেনশন ফান্ড, বীমা কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীর সুবিধার্থে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় বর্তমানের টি+২ বা দুই দিন থেকে কমিয়ে পর্যায়ক্রমে টি+১ এবং পরে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন সাপেক্ষে টি+০ বা একই দিনে নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া অনিবাসী বাংলাদেশির বিনিয়োগ সহজ করতে নিটা হিসাব পরিচালনা পদ্ধতি আরও সহজ করা হবে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ
বাজারের মধ্যস্থতাকারী যেমন–নিরীক্ষক, ইস্যু ম্যানেজার ও ব্রোকারদের দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা হবে এবং প্রয়োজনে পেশাগত দায়বদ্ধতা বীমা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনালকে আবার সক্রিয় করা, প্রয়োজনে নতুন দ্রুত নিষ্পত্তি আদালত গঠনের সম্ভাবনা যাচাই করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
 

আরও পড়ুন

×