প্রভাবশালী বিড়াল
প্রধানমন্ত্রী যায় আসে, ‘ল্যারি দ্য ক্যাট’ থাকে বহাল
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রভাবশালী বিড়াল হিসেবে পরিচিত ল্যারি দ্য ক্যাট। ছবি: সংগৃহীত
এএফপি
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৩৩ | আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৪৬
লন্ডনের ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের বহুল পরিচিত কালো রঙের দরজার সামনে প্রায়ই একটি বিড়াল দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমন্ত্রিত অতিথিরাও বিড়ালটি কোলে নিয়ে আদর করেন। ধীরে ধীরে খ্যাতি পাওয়া সেই বিড়াল যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ‘চিফ মাউসার’ বা প্রধান ইঁদুর শিকারি হিসেবে ১৫ বছর কাটিয়ে দিল।
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত এই বিড়ালটির নাম ‘ল্যারি’। অনেকে একটু বাড়িয়ে ডাকেন ‘ল্যারি দ্য ক্যাট’ নামে। গত কয়েক বছরে ব্রিটিশরা কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী বদল দেখলেও ল্যারি ঠিকই তাঁর দায়িত্বে বহাল আছে। স্থানীয় সময় রোববার এটি বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বসবাসের ১৫ বছর পূর্ণ করেছে।

বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু রাজনীতিবিদের মন জয় করে নেওয়া বিড়ালটি সম্পর্কে চারটি উল্লেখযোগ্য তথ্য নিচে দেওয়া হলো;
আছে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি
ইঁদুরের উপদ্রব সামলাতে ল্যারিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নেওয়া হয় ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। লন্ডনের বিখ্যাত পশু আশ্রয়কেন্দ্র ‘ব্যাটারসি ডগস অ্যান্ড ক্যাটস হোম’ থেকে এটিকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল। তখন বয়স ছিল আনুমানিক চার বছর। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ডেভিড ক্যামেরন।
সেই থেকে সাদা ও তামাটে রঙের বিড়ালটিকে ডাউনিং স্ট্রিটের ওয়েবসাইটে ‘চিফ মাউসার টু দ্য ক্যাবিনেট অফিস’ বা মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরের প্রধান ইঁদুর শিকারি হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

ডাউনিং স্ট্রিটের ওয়েবসাইটে ল্যারির জীবনীতে বলা হয়েছে, ‘ইঁদুর নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও ল্যারি দিনের বেশিরভাগ সময় জুড়ে বাড়িতে আসা অতিথিদের অভ্যর্থনা জানায়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করে। কখনো কখনো ঘুমিয়ে সময় কাটায়।’
ছয়জন প্রধানমন্ত্রী
ক্যামেরন থেকে শুরু করে কিয়ার স্টারমার পর্যন্ত মোট ছয়জন প্রধানমন্ত্রীর শাসনামল দেখেছে ল্যারি। সাক্ষী হয়েছে ব্রেক্সিট, করোনা মহামারি, পার্টিগেট কেলেঙ্কারি, লিজ ট্রাসের ৪৯ দিনের শাসনকাল এবং ঋষি সুনাকের অপেক্ষাকৃত সুশৃঙ্খল দিনগুলো। কিন্তু এত পরিবর্তনেও ল্যারি একজন ঝানু রাজনৈতিক নেতাদের মতো পাড়ি দিয়েছে এক সংকট থেকে আরেক সংকটময় সময়।

ধারণা করা হয় বিড়ালটির বয়স এখন ১৯ বছর। যখনই ডাউনিং স্ট্রিটে কোনো বিদেশি নেতা এসেছেন, ল্যারি তখনই আলোকচিত্রীদের ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে লন্ডন সফর করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তখনও বিখ্যাত কালো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে জেলেনস্কিকে স্বাগত জানায় ল্যারি।
‘ক্যাট-ফ্লুয়েন্সার’
ল্যারির একটি ‘এক্স’ (আগের টুইটার) অ্যাকাউন্টও আছে। যেটির ফলোয়ার সংখ্যা ৮ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি। কিন্তু সেটি কে চালায় তা জানা যায়নি। অ্যাকাউন্টটিতে প্রায়ই ল্যারিকে নিয়ে ছবি আপলোড করা হয়। কখনও বৃষ্টিতে ভিজছে, আবার কখনও তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের দিকে।

বিড়ালটির দায়িত্ব পালনের প্রথম কয়েক মাস নিয়ে ২০১১ সালে ‘দ্য ল্যারি ডায়েরিজ’ নামে একটি বইও প্রকাশ হয়। বর্তমানে ডাউনিং স্ট্রিটে ল্যারির সঙ্গী হয়েছে স্টারমার পরিবারের বিড়াল ‘জোজো’ ও ‘প্রিন্স’। কিন্তু ল্যারির ভক্তরা এ নিয়ে তেমন একটা চিন্তিত না। কারণ, ডাউনিং স্ট্রিটে ল্যারি অনেকটা স্থায়ী সরকারি কর্মচারীর মতো। প্রধানমন্ত্রীদের মতো তাকে বিদায় নিতে হয় না।
আরও যত বিখ্যাত বিড়াল
রাজনীতিবিদদের সঙ্গী হিসেবে ল্যারি একমাত্র বিড়াল নয়। এক সময় ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরে ‘অসাধারণ কূটনীতিক বিড়াল’ ছিল পালমারস্টন। ২০২০ সালে এটি অবসর নেয়। গত শনিবার বারমুডায় সেটি মারা গেছে। এ ঘটনায় নিজেদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে ল্যারি তার ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছে, ‘পুরনো বন্ধু, তোমাকে বিদায়’।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে ছিল সাদা-কালো রঙের বিড়াল ‘সকস’। বেলজিয়ামে, ‘ম্যাক্সিমাস’ নামের একটি বিড়ালও প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভারের সামাজিক মাধ্যমের জনসংযোগে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
- বিষয় :
- বিড়াল
- লন্ডন
- ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
- যুক্তরাজ্য
