'সিরিজ মিস করব, এটা আমার জন্য বড় শাস্তি'
মুশফিকুর রহিম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২০ | ২১:৪৫
সাতবারের চেষ্টায় বিপিএল ফাইনালে এসেছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু ক্যারিবিয়ান দানব আন্দ্রে রাসেলের দাপটে ট্রফি জিততে পারেননি তিনি। শিরোপা জিততে না পারলেও এবারের বিপিএল বেশ ভালো কেটেছে মুশফিকের। খুলনার ফাইনালে ওঠার অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি। ৪৯১ রান করে রান সংগ্রহে দ্বিতীয় হয়েছেন। শুক্রবার রাতে ফাইনাল শেষে ধন্যবাদ জানিয়েছেন খুলনা টাইগার্সের সতীর্থ ও টিম ম্যানেজমেন্টকে। একই সঙ্গে কথা বলেছেন আরও অনেক বিষয় নিয়ে। যেখানে ছিল পাকিস্তান সফরে তার না যাওয়ার ব্যাখ্যা, বিপিএলের পারিশ্রমিক বাড়ানো, বিপিএলের উইকেট, চার দিনের টেস্টসহ নানা বিষয়। পাঠকদের জন্য মুশফিকের বলা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো তুলে ধরা হলো...
পাকিস্তান না যাওয়া প্রসঙ্গে
বিসিবিকে এ ব্যাপারে আমি আগেই জানিয়েছি। আমি অফিসিয়ালি চিঠিও দিয়েছি। তারা সেটা মেনে নিয়েছে। শুধু টি২০ নয়, পাকিস্তানেই যাচ্ছি না। কারণটা পারিবারিক। আমার পরিবার পাকিস্তান যাওয়ার ইস্যুতে ভীত। এমন মানসিক অবস্থায় আমি গিয়ে খেলতে পারি না। এটা অবশ্যই হতাশার। বাংলাদেশ দলের একটি সিরিজ মিস করব, এর চেয়ে বড় শাস্তি আমার জন্য আর কিছু হতে পারে না। আমার সামনে সুযোগ ছিল পিএসএল খেলার। আমি কিন্তু প্রথমেই না করে দিয়েছি। কেননা, আমি জানি, এবার পুরো টুর্নামেন্ট পাকিস্তানে হবে। আমি তখনই বলেছি, যেহেতু আমার পরিবার চাচ্ছে না, তাই আমি যাব না। জীবনের চেয়ে কখনই ক্রিকেট আগে নয়। পাকিস্তানের অবস্থা হয়তো আগের চেয়ে ভালো। তবে আমি চাই, আরও দু-তিন বছর ধারাবাহিকভাবে অন্য দলও সেখানে যাক, তখন ব্যক্তিগতভাবে সেই আত্মবিশ্বাস আমার কাছে আসবে। আমি কিন্তু ২০০৮ পাকিস্তান সফর করেছি। পাকিস্তানে সুযোগ-সুবিধা অনেক ভালো। সেখানকার উইকেট অনেক ভালো। সেদিক থেকে অনেক মিস করব।
রিপ্লেসমেন্ট
বাংলাদেশে রিপ্লেসমেন্ট হতে এক ঘণ্টা সময় লাগে না। অবশ্যই অনেকে বেশ ভালো খেলছে। বিপিএলেও অনেকে ভালো খেলেছে। এটা একটা সুযোগও। টিম ম্যানেজমেন্ট নতুন ক্রিকেটার বের করে আনার চেষ্টা করছে। আমার জায়গায় যে আসবে, তার জন্য সুযোগ নিজেকে মেলে ধরার। আর ভারতে তো আমি ছিলাম, টেস্ট দুটি আড়াই দিন-তিন দিনে হেরেছি। আমরা পাঁচ সিনিয়র থাকা অবস্থায় অনেক ম্যাচ হেরেছি। আবার অনেকে না থাকা অবস্থায় অনেক ম্যাচ জিতেছি। এটা বলতে পারেন, থাকলে ভালো করার সুযোগ ছিল।
বিপিএল পারিশ্রমিক বাড়ানোর দাবি
পার্থক্য যদি বলেন (অন্যবারের সঙ্গে) তা শুধু পারিশ্রমিকে। এ ছাড়া তো আর দেখি না। মান তো ভালো। আইপিএলের পর এটি বিশ্বের সেরা লিগগুলোর একটি। এখানে অনেক বড় বড় ক্রিকেটার খেলেন। বিশ্বমানের ক্রিকেটারদের সঙ্গে খেলে আমাদেরও অনেক উন্নতি হয়েছে। এবার উইকেটগুলো ভালো ছিল। স্থানীয়রা ভালো করেছে। অনেক ইতিবাচক দিক আছে। পরের মৌসুম থেকে আমাদের পারিশ্রমিক যদি আরেকটু বাড়ে, তাহলে আরও ভালো কিছু হবে আশা করি।
বিপিএলের উইকেট
কিউরেটরদের অভিনন্দন জানাই। দু-একটি ম্যাচ ছাড়া টুর্নামেন্টজুড়ে আমরা ভালো উইকেট পেয়েছি। যদি অন্য বিপিএলের সঙ্গে তুলনা করেন, ব্যাটসম্যানদের স্ট্রাইক রেট দেখেন, বোলারদের ইকোনমি দেখেন...। দেশের বাইরে ভালো করতে হলে এমন উইকেটে খেলতে হবে। ব্যাটসম্যানদের জন্য রান থাকবে, বোলারদের জন্য উইকেট নেওয়ার, রান আটকানোর চ্যালেঞ্জ থাকবে। কেবল স্পোর্টিং উইকেটে খেলেই সম্ভব সেসব চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নেওয়া। এবার যে উইকেটে খেলা হয়েছে, ভবিষ্যতেও যদি বেশির ভাগ সময় এমন উইকেটে বিপিএল হয়, তাহলে আমাদের ক্রিকেটের জন্য সহায়ক হবে।
টেস্টে ম্যাচ ফি বাড়ানো
আমার মনে হয়, এটি অবশ্যই ভালো ইঙ্গিত। শুধু সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবেই নয়, বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার হিসেবেও বলতে হবে, এটি অনেক বড় একটি পদক্ষেপ। আমাদের ক্রিকেটেকে এটি ঊর্ধ্বমুখী করবে। তখন ক্রিকেটাররা যখন দেখবে, টি২০ ক্রিকেট জাঁকজমকপূর্ণ হলেও টেস্ট খেলে ওইরকম ভালো পারিশ্রমিক পাওয়া যায়, সঙ্গে মর্যাদা তো এটির মতো কোনোটিই নেই, তখন তাদের ইচ্ছা বেশি জাগবে (টেস্ট খেলার)। তারা ভাববে, বাংলাদেশের পক্ষে ১০০ টেস্ট খেলব, ১০ হাজার রান করব, ৩০০ উইকেট নেব। এই আকাঙ্ক্ষাগুলো অনেকটাই কমে যাচ্ছিল। এদিক থেকে হলেও মানসিকতা বদলাবে।
চার দিনের টেস্টে বিপক্ষে
চার দিনের টেস্ট হওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। অন্য যারা পাঁচ দিনের টেস্টকে সমর্থন করেছেন, আমিও তাদের সঙ্গে একমত। টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই পাঁচ দিনে। আমার তো ইচ্ছে করে ছয়-সাত দিন টেস্ট খেলতে। বেশিরভাগ ম্যাচেই কিন্তু পঞ্চম দিন চা-বিরতির পরে গিয়ে ফল হয়েছে। চার দিনের হলে তো ফল হওয়ার সুযোগ অনেক কম থাকবে। হয়তো খেলার ধরনে কিছু পরিবর্তন থাকবে। আমি মনে করি, টেস্ট ক্রিকেট পাঁচ দিন হওয়া উচিত।
- বিষয় :
- ক্রিকেট
- মুশফিকুর রহিম
