ব্রাজিলের স্টেডিয়ামে করোনার চিকিৎসা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২০ | ২১:৫০
দেয়ালে পিঠ ঠেকলে যা হয়! ক্রমেই আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে করোনাভাইরাস। সারা বিশ্ব দিনরাত এক করেও কার্যকর প্রতিষেধকের দেখা পাচ্ছে না। তাতে আগুনের মতো বাড়ছে এর প্রভাব। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ব্রাজিলও চরম বিপর্যয়ে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সব ধরনের খেলা। তাই স্টেডিয়ামগুলো এক অর্থে বেকার। আর এই সুযোগে দারুণ একটা উদ্যোগ নিল দেশটির প্রথম সারির ক্লাবগুলো। সবাই মিলে শলাপরামর্শ করে দু-দুটি স্টেডিয়াম করোনায় আক্রান্তদের সেবার জন্য হস্তান্তর করেছে ব্রাজিলের লিগ কর্তৃপক্ষ। যার একটি সাও পাওলোর এস্তাদিও মুনিসিপাল পাওলো, আর রিও ডি জেনেরিওর মারাকানা স্টেডিয়াম।
এ নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন ফ্ল্যামেঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ল্যান্ডিম বলেন, 'এ অবস্থায় স্টেডিয়ামটা কাজে লাগাতে পেরে ভালো লাগছে। সবাইকে আমার অনুরোধ, আমাদের বয়স্ক যারা আছেন, তাদের প্রতি আলাদা নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এদিকে সাও পাওলো-ব্রাজিলের জনবহুল নগরীর একটি। সেখানকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেডিয়ামটি এই সময়ে তাদের অনেক কাজে দেবে। মাঠ আর ড্রেসিংরুম মিলিয়ে প্রায় ২০০ বেড বসানো যাবে। যেটা এখনকার সময়ে প্রশংসা পাওয়ার মতো উদ্যোগ। এদিকে সান্তোসের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, তাদের ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের ভেতরের লাউঞ্চকে অস্থায়ী ক্লিনিক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এখন পর্যন্ত ব্রাজিলে এক হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত। যার মধ্যে ১৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী লুইজ হেনরিক ধারণা করছেন, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এই ভাইরাস শক্তি বাড়াতে পারে। তারপর দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এবং সংক্রমণ ঠেকাতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে ব্রাজিলের। কিন্তু দেশটির জন্য বেশি ঝুঁকি প্রতিবেশীরা। তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থাও দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। যার ঢেউ লাগতে পারে সাম্বার দেশেও। তেমনটা হলে আরও বিপদ। যদিও এরই মধ্যে অনেকেই কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন। সুদূর ফ্রান্স থেকে উড়ে আসা এই সময়কার অন্যতম তারকা ফুটবলার নেইমারও অনেকটা বন্দি।
২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়েছিল এই মারাকানায়। যে ফাইনালে একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে জার্মানি। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের ওই ঝলমলে মঞ্চ থেকে এবার শোনা যাবে আহাজারির শব্দ। হয়তো কেউ সুস্থ হয়ে ফিরবে বাড়ি। আবার কেউ সেখানেই দেবেন শেষ ঘুম।
