ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

আরও বড় হতে পারে না কেন

আরও বড় হতে পারে না কেন
×

ছবি- ফেসবুক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১১:০৫ | আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২৩ | ১১:৩৩

সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবালরাও বয়সভিত্তিক দলের খেলোয়াড়। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের গণ্ডি পেরিয়ে এইচপিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় দলের জন্য তৈরি হয়েছিলেন তারা। জাতীয় দলে ঢোকার পর তাদের আর কখনও পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। এক এক জন তারকা হয়ে দেশের জন্য খেলছেন ১৫-১৬ বছর হলো। গত ১৬ বছরে সাকিব, তামিম মানের ক্রিকেটার তৈরি হয়নি দেশে। 

অথচ প্রতি দু’বছর অন্তর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলা ১৬ জন করে ক্রিকেটার তৈরি করেছে বিসিবি। তাদের কেউ কেউ বয়সভিত্তিক দলে বাজিমাত করে জাতীয় দলে ঢুকে হারিয়েও গেছেন। কেউ কেউ যাওয়া-আসার মধ্যে আছেন। আবার জাতীয় দলে থাকাদের বেশির ভাগ অনিয়মিত পারফরমার। উনিশের প্রতিভাবানরা কেন আন্তর্জাতিক মানের হয়ে উঠতে পারেন না– এ বিষয়ে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেই বিসিবির।

বিদেশি কোচরা বাংলাদেশে ক্রিকেট প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হন। খুদে ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করতে দেখা যায় বয়সভিত্তিক দলে কাজ করা কোচদের। এক পর্যায়ে তারাই আবার আক্ষেপ করেন। যুবারা বড় হয়ে কেন বড় মাপের ক্রিকেটার হতে পারছেন না? 

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রকিবুল হাসানের কাছে এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “অনূর্ধ্ব-১৯ দল হলো পুকুর, জাতীয় দল সমুদ্র। এই দুয়ের মাঝে কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন, যেটা দেশে নেই। ‘এ’ দল বা হাইপারফরম্যান্স দলের হয়ে দেশে-বিদেশে খেলবে, ক্লাবের ভালো একটা পরিবেশ দিতে হবে বড় খেলোয়াড় পেতে হলে। অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও লিগ থেকে খেলোয়াড় বাছাই করে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের সঙ্গে খেলতে হবে। বিপিএলে সাতটি দলে দু’জন করে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড় দেওয়া যেতে পারে। যেখান থেকে অন্তত একজনকে খেলাতে হবে। এতে যেটা হতো, বিদেশি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করত। আলাপচারিতা হতো। ব্যাটার হলে ভালো বোলারের বিপরীতে ব্যাট করত। বোলার হলে ভালো ব্যাটারের বিপরীতে বল করত। সাহস বাড়ত, স্কিলে উন্নতি হতো। আমরা খেলোয়াড়দের জন্য সেটা করতে পারিনি। এ কারণে অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলা বেশির ভাগ ক্রিকেটার একটা সময়ে হারিয়ে যায়, কিছু খেলোয়াড় লিগে খেলে, এক-দু’জন জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও আন্তর্জাতিক মানের পারফরম্যান্স দেখতে পাই না।”

বিকেএসপিতে পড়ার কারণে এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাসদের একটা বেসিক রয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলে জাতীয় দলে ঢুকেছেন তারা। অথচ তাদের কেউই জাতীয় দলের জন্য নিজেদের অপরিহার্য করে গড়ে তুলতে পারেননি। মো. মিঠুন কিছুদিন জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেলেও তাঁর সঙ্গের অনেকেই ক্রিকেটে নেই। 

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মিঠুন বললেন, ‘অন্য দেশে অনূর্ধ্ব-১৯ এর পর খেলোয়াড়দের যেভাবে তৈরি করা হয় বা গাইড করা হয়, আমাদের এখানে তা হয় না। অন্য দেশে খেলোয়াড়দের পিক করে একটা জায়গায় নিয়ে যায়। ভারতের মহারাজ যখন আমাদের সঙ্গে একাডেমির ম্যাচ খেলেছেন, তখন খুবই সাধারণ মানের বোলার ছিলেন। ধীরে ধীরে তিনি কোথায় চলে গেছেন। আমাদের খেলোয়াড়রা ওই সময় প্রভাব বিস্তার করলেও পরবর্তী সময়ে পারেননি। ওই সময়ের উদীয়মান অনেক বড় তারকা পরবর্তী সময়ে খেলাই ছেড়ে দিয়েছেন। প্রতিভার তো ঘাটতি নেই। প্রতিভা না থাকলে অনূর্ধ্ব-১৯ বা একাডেমি পর্যায়ে তো প্রভাব বিস্তার করতে পারতেন না।’ 

মিঠুনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল প্রতিভা থাকলে জাতীয় দলে ভালো করতে না পারার কারণ সম্পর্কে। তাঁর মতে, ‘আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। বড় খেলোয়াড় না হওয়ার পেছনে কন্ডিশন ও অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধা বড় বাধা। আমরা ২০০ রানের উইকেটে খেলে বড় হয়েছি এবং এখনও খেলি। ওটাই তো শিখেছি। রাতারাতি সাড়ে তিনশ রান করব কীভাবে।’ 

বিসিবি গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সাবেক ম্যানেজার ও ক্রিকেটারদের মেন্টর নাজমুল আবেদীন ফাহিমের মতে, ‘একটা সময় ছিল ওপরের দিকে ভালো করা কঠিন ছিল। তখন আমাদের পরিকল্পনা নেওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ভালো করার। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে আমাদের বিনিয়োগটা অনেক বেশি। অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭ দল করি। ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ খেলাই। এত কিছুর পেছনে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। এর পরে কিন্তু তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই। ভারতে বয়সভিত্তিক দল থেকে জাতীয় দল পর্যন্ত একটা পরিকল্পনা আছে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড তো অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পারফরম্যান্সকে তেমন গুরুত্বই দেয় না। তারা শেখার মঞ্চ হিসেবে দেখে। তারা ধাপে ধাপে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ছেলেটাকে জাতীয় দলে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। আমাদের সেখানে বিশাল শূন্যতা। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অর্জনের মধ্য দিয়ে টার্গেট ফুল হয়ে যায়। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ছেলেদের জন্য এইচপি না। যারা ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করে, অভিজ্ঞ হয় তাদের নিতে হবে এইচপিতে। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ছেলেরা লিগে ভালো করে এইচপিতে যাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে এইচপিতে নেওয়া হলে তো উন্নতি হবেই না। কারণ তারা সব অটো পেয়ে যাচ্ছে। এই অটো সিস্টেম বন্ধ করতে হবে।’

আরও পড়ুন

×