স্ট্রাইকারদের মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে: সাগরিকা
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৫ | ১০:৪৪
ফুটবল খেলত বলে বাবা লিটন আলী মেয়ের সঙ্গে কথা বলাই বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এর সঙ্গে ছিল গ্রামের মানুষের কটু কথা। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন মোসাম্মৎ সাগরিকা। ঠাকুরগাঁওয়ের রাঙ্গাটুঙ্গী থেকে উঠে আসা এ ফরোয়ার্ড অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হয়েছেন সেরা ফুটবলার। নিজের সাফল্যসহ নানা বিষয় নিয়ে গতকাল সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন সাগরিকা
প্রশ্ন: সিনিয়র সাফের পর বয়সভিত্তিক সাফেও শিরোপা। কেমন লাগছে?
সাগরিকা: চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দটা একটু অন্যরকম। অপরাজিত থেকে শিরোপা জিততে পেরেছি বলে ভালোলাগা কাজ করছে।
প্রশ্ন: গোল করার পর দেখা গেল সেভাবে উদযাপন করেননি। এর কারণ কী?
সাগরিকা: কালকে (সোমবার) বাংলাদেশে এমন একটা দুর্ঘটনা (মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত) হয়েছিল, সেটি আপনারা সবাই জানেন। ছোট বাচ্চারা নিহত হয়েছে। তাদের জন্য আমাদের অনেক মন খারাপ ছিল। এটি খুব কষ্টকর ছিল। এর জন্য আমরা বেশি উদযাপন করিনি। অন্য সময় চ্যাম্পিয়ন হলে ট্রফির সঙ্গে আমরা ছবি তুলতাম। এবার কেউ ছবি তুলিনি। এই দুর্ঘটনার জন্য আমরা সবাই শান্ত ছিলাম। মাঠ থেকে সোজা হোটেলে চলে যাই।
প্রশ্ন: হ্যাটট্রিকসহ চার গোল করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে সাগরিকা কতটা খুশি?
সাগরিকা: অলিখিত ফাইনাল ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছি, তাও আবার নেপালের মতো দলের বিপক্ষে। এখানে উচ্ছ্বাসটা একটু বেশিই হওয়ার কথা। ওই যে বললাম, দুর্ঘটনার কারণে সেভাবে উদযাপন করিনি। এবার বুঝতে পারছি আমাদের স্ট্রাইকারদের সবসময় মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। যদি মাথা ঠান্ডা রাখি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও ভালো কিছু করতে পারব।
প্রশ্ন: এই নেপালের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ ছিলেন। খেলতে না পারায় জেদ কাজ করেছিল কিনা?
সাগরিকা: অবশ্যই। একটি প্লেয়ার যখন তিনটি ম্যাচ খেলতে পারবে না, তার মধ্যে এমনিতেই জেদ চলে আসবে। আমার মধ্যেও সেটি চলে আসে। আমি মনে মনে পণ করি, সুযোগ পেলে কাজে লাগাব। একটি ম্যাচ পেয়েছি, সেটি কাজে লাগিয়েছি। আমার দেশকে ভালো কিছু দিতে পারছি। আমার টিমমেটদের জেতাতে পারছি বলে ভালো লাগছে।
প্রশ্ন: সিনিয়র দলে বেশির ভাগ সময় বেঞ্চে থাকতে হয়। এই টুর্নামেন্টে তিন ম্যাচ খেলে ৮ গোল করার পর কী মনে হয় সিনিয়র দলে শুরুর একাদশে থাকতে পারবেন?
সাগরিকা: আমি কেমন পারফর্ম করছি, তা তো নিজে বলতে পারব না। এটি নির্ভর করছে কোচের ওপর। কোচের যদি মনে হয় আমি ভালো পারফর্ম করছি আমাকে সেরা একাদশে নামানো উচিত, সেটি হলে আমার বিশ্বাস অবশ্যই ভালো কিছু করতে পারব। যদি না মনে হয় তাহলে তো কিছু করার নেই। অবশ্যই আমার আত্মবিশ্বাস আছে সিনিয়র দলে খেলার। এখনও আপুদের মতো খেলতে পারি না। তবে তার চেয়ে বেটার পারফর্ম করলে অবশ্যই একদিন শুরুর একাদশে থাকতে পারব।
প্রশ্ন: দলে নিজেদের মধ্যে লড়াইটা কেমন উপভোগ করছেন?
সাগরিকা: আমি যে তিন ম্যাচ খেলিনি, আমার জায়গায় তৃষ্ণা মাঠে নেমেছিল। সে ভালো করেছে। প্রতিটি পজিশনে যদি একাধিক প্লেয়ার থাকে, তাহলে আমাদের মধ্যে ভালো করার স্পৃহা বাড়বে, জেদ কাজ করবে। তখন চিন্তা থাকবে যে তার থেকে ভালো করে আমাকে টিমে থাকতে হবে। আমরা টিমমেটরা এক হয়ে লড়াই করতে চাই।
- বিষয় :
- সাগরিকা
- নারী ফুটবল
