ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ক্রিকেটারদের হয়ে লড়বেন মিঠুন

ক্রিকেটারদের হয়ে লড়বেন মিঠুন
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৯:৪৭

দুপুর থেকেই মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে উৎসবের আবহ। সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের আড্ডা-হাসি-খুনসুটিতে যেন জমজমাট এক মিলনমেলা! উপলক্ষ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) বার্ষিক সাধারণ সভা ও নির্বাচন। সেই নির্বাচনে সভাপতি পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে শেষ বিকেলে একাডেমি ভবন থেকে হাসিমুখে বেরিয়ে আসেন মোহাম্মদ মিঠুন। খানিক পর একাডেমি ভবনের সামনে তাঁকে পাশে নিয়েই নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান।

১১টি পদের মধ্যে ১০টিতে একক প্রার্থী থাকায় তারা নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। শুধু সভাপতি পদে হয়েছে ভোট। সেখানেও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মিঠুনের জয় অনুমিতই ছিল। তাঁর সঙ্গে লড়াই জমাতে পারেননি জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার সেলিম শাহেদ। ২১৫ জন ভোটারের মধ্যে সশরীরে ও অনলাইনে ভোট দিয়েছেন ১৯০ জন। সেখানে মিঠুন পেয়েছেন ১৫৪ ভোট ও সেলিম শাহেদ পেয়েছেন ৩৪ ভোট। অবশিষ্ট দুটি ভোট বাতিল হয়েছে। 

২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোয়াবের কোনো পদে নির্বাচন হলো। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অনেক দিন পর সংগঠনটি যেন গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে। প্রায় ১১ বছর ধরে কোয়াবের সভাপতি ছিলেন সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় ও সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল। তাদের সময়ে সংগঠন অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ক্রিকেট বোর্ডেও পরিবর্তন আসে। সেই ধাক্কা লাগে কোয়াবে। সরে দাঁড়ান দুর্জয় ও দেবব্রত। সেলিম শাহেদকে প্রধান করে একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির একান্ত প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ফসল এ নির্বাচন।

গতকাল নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজনটি রূপ নিয়েছিল ক্রিকেটারদের মিলনমেলায়। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ, নিয়ামুর রশিদ রাহুল, খালেদ মাসুদ পাইলট, তামিম ইকবাল, শামসুর রহমান শুভ, তাইজুল ইসলাম, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুস্তাফিজুর রহমান, সৌম্য সরকারদের সঙ্গে নিগার সুলতানা জ্যোতি, রুমানা আহমেদরা এসেছিলেন ভোট দিতে। 

সেই ভোটে জিতে অভিনন্দনের জোয়ারে ভাসতে ভাসতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মিঠুন বলেছেন, ক্রিকেটারদের স্বার্থে প্রয়োজনে বোর্ডের মুখোমুখি হতেও তিনি পিছপা হবেন না। নবনির্বাচিত কোয়াব সভাপতি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি পরিবারের মতো। বিসিবি আমাদের অভিভাবক। আমরা আমাদের যে কোনো প্রয়োজন, যে কোনো দাবি তাদের কাছে জানাতেই পারি। আশা করি, বিসিবি সেটা ইতিবাচকভাবেই নেবে। দাবি আদায়ের দুটি পথ আছে। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব সমঝোতার মাধ্যমে যতটা সৌহার্দপূর্ণভাবে সম্ভব সবকিছু করতে। কিন্তু যদি কখনও অন্যরকম কিছুর প্রয়োজন হয়, যেহেতু আমি ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি, ক্রিকেটারদের স্বার্থই আমাদের দেখতে হবে। প্রয়োজন পড়লে ক্রিকেটারদের জন্য কঠিন পথও বেছে নিতে হতে পারে।’ 

সিনিয়র সহসভাপতি পদে জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ, সহসভাপতি পদে উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আটটি পদের জন্য আটজন মনোনয়ন কেনায় এখানেও কোনো নির্বাচন হয়নি।

আরও পড়ুন

×