সাক্ষাৎকারে মারুফা
আমি বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখি
ছবি- ক্রিকইনফো
সেকান্দার আলী
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫ | ২০:০৬ | আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৫ | ২০:১২
এবারের নারী বিশ্বকাপের নতুন ‘সেনসেশন’ বাংলাদেশি পেসার মারুফা আক্তার। পাকিস্তানের বিপক্ষে সুইং ডেলিভারিতে দুজন ব্যাটারকে আউট করে পরিচিতি পেয়ে গেছেন তিনি। একেবারে রাতারাতি তারকা বনে গেছেন মারুফা আক্তার। প্রতি ম্যাচেই নিজেকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন নারীদের এই ফাস্ট বোলার। বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়া, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং জাতীয় দলের নিয়মানুবর্তিতা বোলিংয়ে উন্নতি করতে সাহায্য করেছে বলে জানান মারুফা আক্তার। বিশ্বকাপ ভেন্যু থেকে জাতীয় দলের এই পেসার একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেকান্দার আলীকে।
সমকাল: সব জায়গায় আপনার প্রশংসা হচ্ছে। লাসিথ মালিঙ্গা আপনার ভক্ত হয়ে গেছেন। কেমন লাগে বোলিংয়ের প্রশংসা শুনতে?
মারুফা: এত বড় একটি মঞ্চে বোলিং করা গর্বের। প্রথম ম্যাচে ভালো বোলিং করে দর্শকের প্রশংসা পাওয়া দারুণ ব্যাপার। লাসিথ মালিঙ্গার মতো একজন কিংবদন্তি আমার বোলিং ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে প্রশংসা করেছেন। আমার জন্য একটা বড় প্রাপ্তি। সবচেয়ে বড় কথা বোলিং ভালো হওয়ায় আমি খুশি।
সমকাল: সুইং বলে ব্যাটারদের যখন বোল্ড করেন, এলবিডব্লিউ করেন তখন অনুভূতি কেমন থাকে?
মারুফা: অনুভূতি বলে প্রকাশ করা যায় না। আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। ভালো কিছু করতে পারলে আনন্দ হয়। টিম ম্যানেজমেন্ট আশা করে আমি শুরুতে ব্রেক থ্রু দেব। গত দুই ম্যাচে সেটি করতে পারায় ভালো লাগছে।
সমকাল: এই সুইং বোলিং কার কাছ থেকে শিখেছেন?
মারুফা: সুইংটা আমার ন্যাচারাল। নিজে থেকেই করতে পারি। এই সুইংয়ের ওপর কাজ হচ্ছে আরও। জায়গাটা মেনটেইন করা। কারণ, ডেলিভারির সময় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এদিক সেদিক হয়ে যায়। আমার বোলিংয়ে এটি সমস্যা। চেষ্টা করছি জায়গা ধরে বোলিং করতে। স্পট ধরে ধারাবাহিক বোলিং করতে পারলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।
সমকাল: আপনার অনেক গল্প জানি আমরা। সেই অতীত জয় করে কীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি হলেন?
মারুফা: কোনো একটা কারণে প্রথমে বিকেএসপিতে ভর্তি হতে পারিনি। পরবর্তী সময়ে যখন খেলায় ভালো করছিলাম তখন ভর্তি করে নেয়। বিসিবি আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছিল। পিলু স্যার, ডলি ম্যাডাম আমার পাশে ছিলেন। বিকেএসপিতে নিয়মতান্ত্রিক জীবন পাওয়ায় ভালো করা সম্ভব হয়েছে। বাইরে থাকলে এখানে থাকতেও পারতাম, নাও পারতাম।
সমকাল: বিসিবির অধীনে আসার পরই কি আপনার পথচলা সহজ হয়েছে?
মারুফা: অবশ্যই। তখন নিজের কেয়ারিং ওই রকম বুঝতাম না। শিখতে হয়েছে অনেক কিছু। বিসিবির অধীনে আসার পর একটা নিয়মের মধ্যে চলতে হয়েছে। যেটা আমাকে জাতীয় দলে খেলার পথ করে দিয়েছে। এখন নিজেই বুঝতে পারি আমাকে কী করতে হবে।
সমকাল: সাধারণত ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে খেলার সুযোগ হয় না। বিশ্বকাপ সেই মঞ্চ, যেখানে সেরা দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পারছেন, এই অভিজ্ঞতা কেমন?
মারুফা: এটা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। আপনারা সেদিন নিশ্চয়ই দেখেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কতটা ভালো করেছি। সামান্য ভুলের কারণে ম্যাচটা হেরে গেছি। এই বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব। চ্যাম্পিয়নশিপে মিরপুরে ভালো করতে পারিনি। আশা করি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ভালো করতে পারব।
সমকাল: এই বিশ্বকাপে নিজেদের কোথায় দেখতে চান?
মারুফা: আমরা যেহেতু ভালো খেলছি। আশা করি বেশ কয়েকটি ম্যাচ জিততে পারব। বিশ্বকাপ থেকে ভালো কিছু নিয়ে দেশে ফিরতে পারব।
সমকাল: বোলিংকে আপনারা সব সময় এগিয়ে রাখেন। সেটি কি বৈচিত্র্যের কারণে?
মারুফা: আমাদের বোলিংয়ে অনেক রকম বৈচিত্র্য আছে। এছাড়া ফিল্ডিং ভালো করি আমরা। ব্যাটিংটা আস্তে আস্তে উন্নতি করছে। ইনশাআল্লাহ আরও অনেক ভালো করবে।
সমকাল: টেল এন্ডার ব্যাটারদের উন্নতি কেমন দেখেন?
মারুফা: মূল ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলাররাও ব্যাটিং নিয়ে কাজ করছে। এই দলটা একসঙ্গে থাকলে সামনে খুব ভালো হবে।
সমকাল: দেশের মানুষের জন্য কি বলবেন?
মারুফা: দেশের মানুষ আমাদের খেলা দেখে। আমাদের জন্য দোয়া করে। আমার চাওয়া থাকবে তারা যেন কখনও নিরাশ না হয়। ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো কিছু করব।
সমকাল: কাউকে ফলো করেন?
মারুফা: ওইভাবে কাউকে ফলো করি না। আমি নিজের সঙ্গে নিজে লড়াই করি যে, আমাকে এই জায়গায় রাখলে হবে না। সব সময় চিন্তা করি বড় কিছু করার। একা একা ভাবি যে বড় কিছুর চিন্তা না করলে সফল হওয়া যাবে না।
সমকাল: আপনি তো পরিবার থেকে সাপোর্ট পেয়েছেন। আপনাকে এই জায়গায় দেখে পরিবারের মানুষগুলো কী বলেন?
মারুফা: আমাকে নিয়ে পরিবারের সবাই গর্ববোধ করে। এরকম বিশ্বকাপে এসে পারফর্ম করলে তাদের ভালো লাগে।
