ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্পিন দুর্গে সাইফ-সৌম্যর হানা

স্পিন দুর্গে সাইফ-সৌম্যর হানা
×

সাইফ হাসানের ফিফটি উদযাপন। পাশে দাঁড়িয়ে সৌম্য। ছবি: বিসিবি

সুমন মেহেদী

প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | ১৩:০৭

কাদম্বিনী ‘মরিয়া’ প্রমাণ দিয়েছিলেন তিনি মরেননি। সৌম্য সরকার ব্যাট হাতে দারুণ সব শট ‘মারিয়া’ প্রমাণ দিলেন তিনি ফুরাননি। সেটাও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের স্পিন দুর্গে। স্বর্গ খ্যাতি পাওয়া উইকেটে। সৌম্যর সঙ্গে দুর্দান্ত খেলেছেন সাইফ হাসানও। দুজনের ব্যাটে নতুন দিনের সম্ভাবনা জাগলেও মিস করেছেন দুয়ারে উঁকি দেওয়া সেঞ্চুরির সুযোগ। সাইফের ৭২ বলে ৮০ রানের ইনিংসে তবু সান্ত্বনা আছে। ৮৬ বলে ৯১ রানের ইনিংস থামায় সৌম্য মাঠেই মাথায় হাত দিয়ে  আক্ষেপে পুড়েছেন।

অথচ এশিয়া কাপ দিয়ে দলে ফিরে ফর্ম দেখানো সাইফ মিরপুরের উইকেটে এসেই যেন খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। ব্যাটে রান খরা শুরু হয়ে গিয়েছিল। ওই সাইফ সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে প্রথম ওভারে পরপর নিখুঁত শটে দুই চার মেরে নিজের ওপর ভর করা চাপ কমান। তৃতীয় ওভারে তিনি হাঁকান নির্ভার এক ছক্কা। সৌম্য প্রথম কিছু বল দেখেছেন। এজড হয়ে পাওয়া প্রথম বাউন্ডারিতে তাঁকে একটু নড়বড়েই দেখাচ্ছিল। এরপর দুই রিভার্স সুইপে চার আদায় করে পুরো চাপটা প্রতিপক্ষের ওপর দিয়ে দেন। প্রথম ম্যাচের ব্যবহৃত উইকেটে সৌম্য-সাইফের ব্যাটিং দেখে তখন দ্বিধা– তবে কি সময়ের সঙ্গে ব্যাটিংবান্ধব হবে টমি হেমিংয়ের বানানো কালো মাটির উইকেট?  

সাইফ ইনিংসের ২৫.২ ওভারে শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন। ওপেনিংয়ে দেন ১৭৬ রানের জুটি। তাঁর ছয়টি চারের সঙ্গে ছয়টি ছক্কার শট থেকেই পরিষ্কার– সাহস ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলেছেন। সৌম্যর জন্য এটি ছিল কামব্যাকের সিরিজ। সাতটি চারের সঙ্গে হাঁকানো চারটি ছক্কার শট দিয়ে বাঁ-হাতি ব্যাটার বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি অফফর্মে ছিলেন না। বরং কখনও মিরপুর কখনও দুবাইয়ের ‘বাজে’ উইকেটে এক-দুই ম্যাচ খারাপ করলেই তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারও ইনজুরি বা বিশ্রামজনিত কারণে নির্বাচকদের হাতে টান পড়লে ডেকে পাঠানো হয়েছে তাঁকে।

এই যেমন গত বছর আফগানিস্তানের বিপক্ষে শারজায় কঠিন উইকেটে তিন ম্যাচেই তিনি সেট হয়ে আউট (যথাক্রমে– ৩৩, ৩৫ ও ২৪ রান) হয়েছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পরের সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ খারাপ গেলেও শেষ ম্যাচটায় খেলেছিলেন ৭৩ বলে ৭৩ রানের ইনিংস। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে খানিকটা দৃষ্টিকটুভাবে শূন্য করে আউট হওয়ায় ওয়ানডের সঙ্গে টি২০ দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়েছিল। 
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি এবারের দলে ফেরেন মূলত লিটন দাস, পারভেজ হোসেন ও নাঈম শেখের ইনজুরির কারণে। ম্যাচ খেলার সুযোগ পান তানজিদ তামিমের অফ ফর্মের কারণে। পাঁচ মাস পরের পরবর্তী ওয়ানডে সিরিজ পর্যন্ত তাঁকে মনে রাখা হবে কিনা– সম্ভবত নিশ্চিত নন সৌম্যও।

অথচ সাইফ-সৌম্য আউট হওয়ার পরে ক্রিজে আসা বাংলাদেশের ব্যাটাররা বুঝেছেন কালো মাটির এই পিচে রান করা, বাউন্ডারি মারা সহজ ছিল না। ওপেনিং জুটির সুবিধা নিয়ে ৩২তম ওভারে ২০০ রান করা বাংলাদেশ তাই শেষ পর্যন্ত হাতে তিন উইকেট রেখেও ৩০০ রান করতে পারেনি। বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। চার স্পিনারের ৩০.১ ওভারে ১১৭ রানে ১০ উইকেট হারানো তারই প্রমাণ।  

আরও পড়ুন

×