ক্রিকেটারদের স্বার্থে খেলার পক্ষে সুজন, সায় তামিমেরও
বিসিবির বোর্ড সভা। ছবি: বিসিবি
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:১২
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ থেকে ঢাকা লিগ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল সমমনা ৪৩টি ক্লাব। লিগ বয়কট করার বিষয়টি বিসিবিকে গতকাল লিখিতভাবে জানিয়েছে ক্লাবগুলো। প্রিমিয়ার, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের ৪৩টি ক্লাব অফিসিয়ালের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামউদ্দিন চৌধুরীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও এই চিঠিতে তামিম ইকবাল ও খালেদ মাহমুদ সুজন স্বাক্ষর করেননি। জাতীয় দলের সাবেক এ দুই অধিনায়ক লিগ খেলার পক্ষে বলে জানা গেছে। কাল থেকে অনুষ্ঠেয় প্রথম বিভাগের দলবদলে (৫ ও ৬ নভেম্বর) অংশগ্রহণ করতে পারে তাদের ক্লাব ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব ও শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। তবে কঠোর অবস্থানে বিসিবিও।
বয়কটকারীদের রেলিগেট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল ৪৩ ক্লাব লিগ বয়কটের চিঠি দেওয়ার পরই প্লেয়িং কন্ডিশনে নতুন একটি ধারা যোগ করার জন্য সিসিডিএমকে (ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশ) নির্দেশ দিয়েছে বিসিবি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয়, বিভাগ, তৃতীয় বিভাগ ও বাছাইপর্বে এ নিয়ম কার্যকর হবে। কোনো দল আংশিক বা পূর্ণভাবে লিগ বয়কট করলে সঙ্গে সঙ্গে তাদের ডিসকোয়ালিফাইড ঘোষণা করে রেলিগেটেড করা হবে। কোনো দল যদি এক বা দুটি ম্যাচ খেলে তারপর লিগ বয়কট করে, তখন অংশ নেওয়া ওই ম্যাচগুলোর পয়েন্ট প্রতিপক্ষকে দেওয়া হবে।
ঢাকা লিগের চারটি বিভাগে ৭৬টি ক্লাব খেলে। প্রিমিয়ার লিগে ১২টি ক্লাবের মধ্যে আবাহনী, মোহামেডানসহ আটটি দল লিগে না খেলার পক্ষে স্বাক্ষর করেছে। গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব, ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব ও অগ্রণী ব্যাংক লিগ বয়কটের বিপক্ষে। যদিও অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব আগে থেকেই লিগে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম বিভাগ লিগের ২০টি ক্লাবের মধ্যে আটটি লিগ বয়কটে সমমনাদের সঙ্গে স্বাক্ষর করেছে। বিসিবি চাইলে ১২টি ক্লাব নিয়ে প্রথম বিভাগ লিগ আয়োজন করতে পারবে।
শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব, উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব, বাংলাদেশ পুলিশ ক্রিকেট ক্লাব, শেখ জামাল ক্রিকেটার্স, লালমাটিয়া ক্লাব, বসুন্ধরা রাইডার্স, প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব, ওল্ডডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব, ঢাকা স্পার্টানস ক্রিকেট ক্লাব, ব্লুজ ক্রিকেটার্স, বারিধারা ডেজলার্স ও বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লিগে খেলার পক্ষে। এর মধ্যে শাইনপুকুর ও ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের সভাপতি খালেদ মাহমুদ সুজন।
লিগে খেলার পক্ষে সুজনের যুক্তি হলো, ‘আমি জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও অধিনায়ক। আমার পক্ষে লিগ বয়কট করা সম্ভব না। মানছি ক্লাবগুলোর সঙ্গে খুব খারাপ কিছু হয়েছে নির্বাচনে। এ কারণে লিগ বয়কট করা কোনো সমাধান নয়। প্রথম বিভাগের ক্রিকেটাররা এক-দুই লাখ টাকা সম্মানী পায়। লিগ না হলে তাদের রুটিরুজি বন্ধ হয়ে যাবে।’
যার নেতৃত্বে প্রতিবাদস্বরূপ নির্বাচন বয়কট করেছিলেন ক্লাব কর্মকর্তারা, সেই তামিম ইকবাল লিগে খেলার পক্ষে। তাঁর কাছের একজন সমকালকে বলেন, ‘বিসিবির এই পরিচালনা পর্ষদকে অবৈধ মনে করলেও লিগ খেলার পক্ষে থাকবে তামিম।’ প্রথম বিভাগের ১০টি ক্লাবের বেশির ভাগ বিসিবির বর্তমান পরিচালকদের। দ্বিতীয় বিভাগের ২৪টি ক্লাবের মধ্যে ১৩টি ক্লাব লিগ না খেলার পক্ষে স্বাক্ষর করেছে। আর তৃতীয় বিভাগের ২০টি ক্লাবের ১৪টি লিগ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। এতে প্রিমিয়ার, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগের লিগ আয়োজন কঠিন হতে পারে।
ঢাকা লিগের ক্লাবগুলোর দিক থেকে এমন বিদ্রোহ হতে পারে ধরে নিয়ে তৃতীয় বিভাগের পরিবর্তে প্রথম বিভাগ দিয়ে লিগ মৌসুম শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিল সিসিডিএম। প্রথম বিভাগের ১৬টি ক্লাবের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভাও হয়েছে। যেখানে একই বছর দুবার লিগ করার সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিল কিছু ক্লাব। পরে ২৬ অক্টোবর ২০টি ক্লাবকে চিঠি দিয়ে দলবদল ও লিগ আয়োজনের তারিখ জানিয়ে দেয় সিসিডিএম। এই কমিটির চেয়ারম্যান আদনান রহমান দিপন সমকালকে বলেছিলেন, ‘নির্ধারিত সময়ে দল বদল ও লিগ মাঠে গড়াবে।’
- বিষয় :
- বিসিবি
- জাতীয় ক্রিকেট লিগ
