ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লিটনের বিশ্বকাপ দল প্রস্তুত

লিটনের বিশ্বকাপ দল প্রস্তুত
×

ছবি- বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১০:২৯

চট্টগ্রামের কন্ডিশন ও রাতের শিশিরের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রথম ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন লিটন কুমার দাস। ওই ম্যাচেই হেরে গিয়েছিল দল। বাকি দুই ম্যাচেও পরে ব্যাট করতে হয় লিটনদের। এবার আয়ারল্যান্ডের পছন্দে। তবে রান তাড়া করায় এবার তেমন ভুল হয়নি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতায় ফেরেন লিটনরা। গতকাল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে একপেশে খেলেন তারা। আইরিশদের দেওয়া ১১৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৮ উইকেটে ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। লিটনের নেতৃত্বে হার দিয়ে বছর শুরু করলেও শেষটা হলো জয়ে।

গত মে মাসে আরব আমিরাতের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হার ছিল হতাশ করা। পাকিস্তান সফরে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ। লিটনের ভাগ্যের শিকে ছিড়ে শ্রীলঙ্কা সফরে। পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে টাইগাররা। এই সিরিজ জয়ের ধারা বহাল ছিল আফগানিস্তান বিপক্ষে সিরিজ পর্যন্ত। তবে অক্টোবরে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়া ছিল চিন্তার বিষয়। আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে সেই দুশ্চিন্তার ভারমুক্ত হলেন লিটনরা। 

সদ্য সমাপ্ত সিরিজ নিয়ে লিটন বলেন, ‘শুরুতে বলেছিলাম, চাপের মধ্যে খেলে ম্যাচগুলো যেন জিততে পারি। প্রথম ম্যাচে ভালোই চাপে পড়েছিলাম। দুর্ভাগ্য জিততে পারিনি। সেখান থেকে টানা দুটি ম্যাচ জিতে অন্তত সিরিজটা জিততে পেরেছি। আমাদের এই দলটা খুব ভালো ফিল্ডিং করছিল না। এবারের তিনটি ম্যাচে দারুণ সব ক্যাচ নিয়েছি। ফিল্ডিংয়ের দিক দিয়ে বলতে পারি অনেক উন্নতি দেখা গেছে।’

আয়ারল্যান্ড শেষ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে সুবিধা করতে পারেনি। বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিং-ফিল্ডিংয়ের সামনে ১১৭ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা। পেস-স্পিনের সমন্বিত আক্রমণের মুখে কোমর সোজা করা সম্ভব হয়নি আইরিশদের। সফরকারী ওপেনার পল স্টারলিং সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন। আয়ারল্যান্ডকে কম রানে বেঁধে ফেলার বড় কারিগর ছিলেন বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তিন ওভারে ১১ রান দিয়ে তিনটি উইকেট শিকার করেন তিনি। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন চার ওভারের কোটা সম্পন্ন করেন ২১ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে। শরিফুল ইসলাম দুটি, শেখ মেহেদী ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট শিকার করেন। জবাবে তানজিদ হাসান তামিমের হাফ সেঞ্চুরিতে ১৩.৪ ওভারে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নেয়। ৩৬ বলে ৫৬ রান করেন তানজিদ তামিম। পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৩ রান। ৭৩ রানের হার না মানা জুটি তাদের। ম্যাচসেরা মুস্তাফিজ, সিরিজ সেরা শেখ মেহেদী। লিটনের কথায়,  ‘এই সিরিজের আগেই বিশ্বকাপের দল গোছানো হয়ে গেছে। এশিয়া কাপ থেকেই দল প্রস্তুত ছিল। এই খেলোয়াড়রাই টানা খেলছে। এখন খেলোয়াড়রা বিপিএলে খেলবে। তারা যেখানেই খেলুক জাতীয় দলে এসে বিশ্বকাপে ভালো করলেই আমি খুশি।’

বিশ্বকাপের আগে শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ হওয়ায় ব্যাটিং অর্ডারে কিছুটা ওপর নিচ করে পরিস্থিতি বোঝার সুযোগ করে দেয় টিম ম্যানেজমেন্ট। পারভেজ হোসেন ইমনকে পরিকল্পিতভাবেই চার নম্বরে খেলানো হয়েছে বলে জানান অধিনায়ক, ‘সাইফকে চারে যথেষ্ট দেখা হয়েছে। চিন্তা করে দেখলাম ইমনকেও পরখ করে দেখি। কারণ ভিন্ন পজিশনে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলে নেতিবাচক চিন্তা করবে না। আমার মনে হয় সব মিলিয়ে ইমন ভালো খেলেছে।’

বিপিএলে ভালো করে অন্যদেরও বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ আছে বলে জানান লিটন। তবে বাস্তবতা তেমন না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ অধিনায়ক পছন্দের ১৫ জনের বাইরে কাউকে নিতে চাইবেন না। প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু তা ভালো করেই বুঝে গেছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারীকে বাদ দিয়ে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে প্রথম দুই ম্যাচের দলে নিয়ে।

আরও পড়ুন

×