ক্রিকেটে আর্থিক ধাক্কা
ছবি-সংগৃহীত
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:০৭ | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৪:১৯
বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি চার দিন। তার আগেই মাঠের বাইরের উত্তাপে গরম এই আসর। প্রথমে বাংলাদেশকে এই আসরে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া এবং তার প্রতিবাদে আইসিসির (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) বিরুদ্ধে পিসিবিপ্রধানের দ্বিচারিতার অভিযোগ এবং সর্বশেষ পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের ডাক। সব মিলিয়ে বিশ্বক্রিকেটে একটি থমথমে অবস্থা; যা নিয়ে এরই মধ্যে আইসিসি একটি বিবৃতি দিয়েছে; যেখানে সংস্থাটি পাকিস্তানকে তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা বলে মৃদু হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। ‘জাতীয় নীতির বিষয়ে আইসিসি সরকারের ভূমিকাকে সম্মান করে, তবে এই সিদ্ধান্তটি বিশ্বক্রিকেটের স্বার্থে কিংবা পাকিস্তানসহ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থকের কল্যাণের অনুকূলে নয়। আইসিসি আশা করে যে পিসিবি নিজ দেশে ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করবে। কারণ এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যার অংশীদার ও সুবিধাভোগী পিসিবি নিজেও।’
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কট ঘোষণা দেওয়ার পর আইসিসি এভাবেই প্রতিক্রিয়া দেয়; যেখানে সংস্থাটি শঙ্কা প্রকাশ করেছে ‘ভারত-পাকিস্তান’ ম্যাচ মাঠে না গড়ালে বিশ্বক্রিকেটের ইকোসিস্টেমে ধাক্কা লাগতে পারে। যার সঙ্গে জড়িয়ে ক্রিকেটার, বোর্ড, ম্যাচ অফিসিয়াল, স্পন্সর, ব্রডকাস্টার মিলিয়ে বিশাল এক বলয় ।
আইসিসির জরুরি বোর্ড মিটিং
যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড থেকে ভারত ম্যাচ বয়কটের অফিসিয়াল বার্তা দেইনি আইসিসির কাছে। তারপরেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্তাটিকেই আমুলে এনে আইসিসি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিও সুপারের খবরটি নিয়ে গতকাল আইসিসি ভার্চুয়ালি তাদের এপেক্স বোর্ডের সভা করেছে। তবে ভারতীয় মিডিয়া নিউজ এইটিন-এর খবর সভাটি আজ অথবা বৃহস্পতিবার হওয়ার কথা; যেখানে পাকিস্তানের এমন সিদ্ধান্তের পর কী করা যেতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এমনই এক বোর্ড মিটিংয়েই বাংলাদেশের ব্যাপারে ভোটাভুটি হয়েছিল।
আইসিসির আর্থিক ক্ষতি কত
ওয়েব সাইট ‘ক্রিকবাজ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি মাঠে না গড়ালে ২০০ কোটি রুপির সম্ভাব্য আয় হারাবে আইসিসি। তাদের তথ্যমতে, সাধারণত ভারতের বিপক্ষে যে কোনো ম্যাচের সার্বিক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি রুপি। সেখানে পাকিস্তানের বিপক্ষে তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যায়। ভারতের রিভ স্পোর্টজ-এর তথ্য মতে, এই ম্যাচটির বাজার মূল্য ৩৮ মিলিয়ন ইউএস ডলার। রুপিতে যা প্রায় ৩৪৮ কোটি। ভারতের এনডিটিভির হিসাব মতে–সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপনের হার, স্পন্সরশিপ, টিকিট এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড মিলিয়ে এই ম্যাচের মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ইউএস ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৬ হাজার ১২০ কোটি। তবে আইসিসির আর্থিক লাভ বা ক্ষতি মানেই তা সদস্য দেশগুলোরও লাভ বা ক্ষতি। এই আর্থিক ক্ষতি আইসিসি তাদের সদস্য বোর্ডগুলোর রাজস্ব বণ্টন কমিয়ে দিয়ে পুষিয়ে নিতে পারে। সবচেয়ে বেশি সংকটের পড়বে সহযোগী দেশ ও ছোট পূর্ণ সদস্যরা। যারা আইসিসির ওপরই নির্ভরশীল।
ভারতের আর্থিক ক্ষতি কতটা
আইসিসি আয়ের প্রায় ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ পায় ভারতীয় বোর্ড। সেখানে ক্ষতি হলেও সেই পরিমাণই হবে। যদিও ভারতীয় বোর্ডের আয়ের বড় খাত আইপিএল এবং নিজেদের দেশে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ। অন্যদিকে পাকিস্তান আইসিসি থেকে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ পেয়ে থাকে; যা বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৪৫ কোটি ডলার। অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে চুক্তি প্রতিপালন ও টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের শর্ত থাকায় ভারত ম্যাচ বজর্নের প্রভাব পড়তে পারে তাদের আয়ে। তাছাড়া বিশ্বকাপেও ভারতের একক আধিপত্য ছিল। টি২০ বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত ৮ ম্যাচের সাতটিতেই জিতেছে ভারত, ওয়ানডে বিশ্বকাপেও আট ম্যাচের সবক’টিতে হেরেছে পাকিস্তান। তবে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে পারে সুনাম রক্ষা করতে না পারা। সম্প্রচার সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অনিশ্চয়তার কারণে আগ্রহ হারাতে পারে।
পাকিস্তানের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের স্বেচ্ছায় ভারত ম্যাচ বর্জন করার বিষয়টি ‘ফোর্স মাজিউর’ বা অনিবার্য ঘটনার আওতায় পড়বে না। ফলে আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই তাদের। ক্ষতিপূরণ বা জরিমানার দায়ভার পুরোপুরি বহন করতে হতে পারে পিসিবির। আইসিসির ‘মেম্বার পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট’ ভঙ্গের অভিযোগে টুর্নামেন্টের পাওনা অর্থ আটকে যাওয়া বা জরিমানার ঝুঁকিও আছে তাদের। পিটিআই জানাচ্ছে, পিসিবিকে জরিমানা করা কিংবা আইসিসির রাজস্ব থেকে পিসিবির ভাগ কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। এর বাইরেও নিষেধাজ্ঞাও জারি হতে পারে। শীর্ষ চারটি দলের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সিরিজ বাতিল করা, পিএসএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র না দেওয়ার মতো নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। ভবিষ্যতে পাকিস্তানে আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনেও বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে ২০২৮ সালে পাকিস্তানে যখন নারী বিশ্বকাপ হওয়ার কথা রয়েছে।
