ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সাক্ষাৎকারে ফাহিম

নতুন সরকারের সময়ও এই বোর্ড থাকবে

নতুন সরকারের সময়ও এই বোর্ড থাকবে
×

নাজমুল আবেদীন ফাহিম

সেকান্দার আলী

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১২:৪১

দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সরকারি সমর্থন নিয়ে বিসিবি পরিচালক হয়েছেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম। দেড় বছর ধরে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান তিনি। এই সময়ে জাতীয় দল খুব বেশি সফলতা পায়নি। টি২০ বিশ্বকাপ বয়কট, ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ সরাসরি খেলা নিয়ে অনিশ্চতা, নাজমুল হোসেন শান্তকে অন্যায্যভাবে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব থেকে বাদ দেওয়ার মতো ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। গতকাল নাজমুল আবেদীন ফাহিমের একান্ত সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সেকান্দার আলী

সমকাল: ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, বিশ্বকাপ না খেলা সরকারের সিদ্ধান্ত না। বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্ত। আপিন কি এই বক্তব্য মেনে নিচ্ছেন?
ফাহিম:
আমার ধারণা, তিনি এটা বোঝাতে চাননি যে, এখানে সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল না। আমার ধারণা, তিনি বোঝাতে চেষ্টা করেছেন, সরকারের পাশে ছিলাম আমরা। ক্রিকেট বোর্ড এবং ক্রিকেটাররা সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেছে। তবে তিনিই হয়তো এটা পরিষ্কার করতে পারবেন।

সমকাল: বিশ্বকাপ না খেলা বাংলাদেশের জন্য কতটা হতাশার?
ফাহিম:
সত্যি বলতে, আমরা লম্বা সময় ধরে এই বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তুতি নিয়েছি। বিপিএল শেষ করে ২৮ জানুয়ারি ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। সবকিছুই প্রস্তুত ছিল। হঠাৎ করেই ঘটনাটা ঘটে গেল। সরকারকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে এবং আমরা সেটা অনুসরণ করেছি। আমার মনে হয়, যেভাবে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেটা খুব সম্মানজনক ছিল না। এই ইস্যুতে সারাদেশ দাঁড়িয়েছে। আমরাও সবাইকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি– আমরা সম্মানের জায়গাতে ছাড় দেব না। হ্যাঁ, বিশ্বকাপ খেলতে না পারার হতাশা অবশ্যই আছে। 

সমকাল: আপনি বললেন, সারাদেশ আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সেটা কি ফেসবুক দেখে মনে হয়েছে? 
ফাহিম: সারাদেশের মানুষকে পাশে পাওয়ার ব্যাপারটা তো পরে। সিদ্ধান্ত তার আগেই হয়ে গেছে। সরকার তার মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরপর দেশের মানুষ সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের পাশে ছিল।

সমকাল: জাতীয় নির্বাচনের পর বিসিবির বর্তমান কমিটি থাকবে না বলে আলোচনা আছে। আপনি কি মনে করেন আপনারা থাকবেন? 
ফাহিম:
এটা তো নির্বাচিত একটি বোর্ড। আইসিসি এবং এসিসির সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে। স্বীকৃত একটি বোর্ড স্বাভাবিক প্রক্রিয়া কাজ করবে। আশা করি, নতুন সরকারের সময়ও নির্বাচিত বোর্ড থাকবে। যদিও আমি আজ এবং কালকের কাজকে অগ্রাধিকার দিই। যেটা আমি বললাম, এটা স্বীকৃত একটি বোর্ড। কোনো ধরনের চিন্তাভাবনা না আসাই বোধ হয় ভালো। 

সমকাল: এই দেড় বছরে ক্রিকেটে কি পরিবর্তন আনতে পেরেছেন?
ফাহিম:
জাতীয় দল এবং ‘এ’ দলের কার্যক্রম পরিচালিত হয় ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের মাধ্যমে। জাতীয় দল বা ‘এ’ দলের পারফরম্যান্স অনেকটাই নির্ভর করে নিচের লেভেলে কেমন কাজ হচ্ছে তার ওপর। সে কারণে এইচপি, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের দিকেও চোখ রাখতে হয়। এই দেড় বছরে চেষ্টা করেছি খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, ম্যানেজমেন্টের মধ্যে সমন্বয় করে একটি কাঠামো দাঁড় করাতে। চেষ্টা করেছি জাতীয় দল দেশে ও বিদেশে যেন সেরা পারফরম্যান্সটা দিতে পারে। 

সমকাল: জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে আপনি কি খুশি?
ফাহিম:
সুখী হওয়ার তো কোনো শেষ নেই। আন্তর্জাতিক দল হিসেবে আমাদের যে র‍্যাঙ্কিং, তা সুখকর না। তবে আমরা টি২০তে ভালো ছিলাম না, এখন মোটামুটি ভালো করছি। সামনে দেশে ও বিদেশে যাতে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে, সে জন্য ভালো উইকেটে খেলা হচ্ছে। বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে হোম সিরিজগুলো স্লো ও লো উইকেটে খেলা পরিহার করা হয়েছে। দেশের মাঠেও এখন ভালো উইকেটে খেলার চেষ্টা করছি। 

সমকাল: লিটন কুমার দাস বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক ছিলেন। সেখানে বিশ্বকাপই খেলা হলো না। লিটন কি পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক থাকবেন?
ফাহিম:
বিশ্বকাপ পর্যন্ত লিটনকে অধিনায়ক করা হলেও তাকে রেখে দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ব্যাপারে আমরা আবার একটটা ঘোষণা দেব। কোনো সন্দেহ নেই সে অধিনায়ক হিসেবে ভালো করেছে। অত্যন্ত সফল একজন অধিনায়ক। লিটনকে পরবর্তী টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত বিবেচনা করা হতে পারে। 

সমকাল: নাজমুল হোসেন শান্তকে ওয়ানডে নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া আপনার ব্যর্থতা কিনা?
ফাহিম:
কিছু কিছু সিদ্ধান্ত বোর্ড নেয়। অধিনায়ক বোর্ড মনোনীত করা হয়। এখন ক্রিকেট বোর্ড যদি মনে করে আমরা তিন সংস্করণে তিনজন অধিনায়ক রাখব, তাহলে সেটাই কার্যকর হবে। সেটাই হয়েছিল ওই সময়ে। তবে আমি খুশি যে, শান্ত আবার টেস্টের নেতৃত্বে ফিরেছে।  

সমকাল: বাংলাদেশ ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে পারবে?
ফাহিম:
আমরা তো সর্বোচ্চ চেষ্টা করব বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে। সরাসরি খেলতে না পারলে ব্যক্তিগতভাবে আমি সেটাকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখব। সেদিক থেকে আমাদের চেষ্টা করতে হবে, আমরা যেন সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারি।

সমকাল: কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ২৭ জন ক্রিকেটারকে রাখার কারণ কী?
ফাহিম:
টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি২০ তিনটি দল আলাদা করাতে ক্রিকেটারের সংখ্যা বেড়েছে। এ কারণে ২৭ জনকে চুক্তিতে নেওয়া। আমাদের দেশের চেয়েও অনেক বেশি ক্রিকেটার কোনো কোনো দেশে চুক্তি পায়। এখন টেস্ট ম্যাচ বেশি খেলা হয়, টেস্ট ক্রিকেটারদের প্রটেক্ট করা এবং নতুনরাও যেন চুক্তিতে থাকে, সে কারণে চুক্তিতে সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। 

সমকাল: জাতীয় দল নির্বাচক প্যানেল দুজনকে দিয়ে চলছে। তৃতীয় নির্বাচক না নিতে পারার কারণ কী?
ফাহিম:
আমরা তিনজনে উন্নীত করেছিলাম। আব্দুর রাজ্জাক চলে যাওয়াতে হঠাৎ করেই দুজন হয়ে গেছে। হয়তো অচিরেই একজনকে অন্তর্ভুক্ত করব। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। জাতীয় এবং ‘এ’ দলের বাইরে অনেক কাজ করতে হয়। সবকিছু করতে গেলে তিনজন নির্বাচক লাগে। আমাদের পরিকল্পনা আছে দুই স্তরের নির্বাচক প্যানেল করা। জাতীয় দল নির্বাচক প্যানেল এবং আঞ্চলিক ক্রিকেট কমিটিতে নির্বাচক প্যানেল। এগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে।

সমকাল: এই ফেব্রুয়ারিতে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। তাঁকে কি রাখার পরিকল্পনা আছে? 
ফাহিম:
সেটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সামনে এ নিয়ে কথা বলব। আমরা তাকে অনুরোধ করতে পারি চুক্তিটা বাড়ানোর জন্য। ব্যক্তিগতভাবে আমি চাইব লিপু যেন আরও কিছুটা সময় আমাদের দেয়। 

আরও পড়ুন

×