বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৩৪ রানের লিড নিয়ে দিন শেষ বাংলাদেশের
ছবি- এএফপি
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ১৪:৫১ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ১৭:৫৬
বৃষ্টি বিঘ্নিত মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে লড়াইটা হলো সেয়ানে সেয়ানে। পাকিস্তানের আজানের সেঞ্চুরি ও মিডল অর্ডারের ব্যাটে এক সময় মনে হচ্ছিল লিড নেবে সফরকারীরাই। কিন্তু বৃষ্টির পর দৃশ্যপট বদলে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। মিরাজের ১৪তম ‘ফাইফারে’ ৩৮৬ রানেই থামে পাকিস্তান। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। পাকিস্তান তাদের শেষ ৫ উইকেট হারায় মাত্র ৫৬ রানের ব্যবধানে।
দিনের শেষ ভাগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। তবে মাত্র ১.৫ ওভার পরই আম্পায়াররা আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধের ঘোষণা দেন। এ সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল বিনা উইকেটে ৭ রান। আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ ও পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি। তারা আরও কিছুক্ষণ খেলা চালিয়ে যেতে চাইলেও আম্পায়াররা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রান করার পর পাকিস্তান অলআউট হয় ৩৮৬ রানে। ২৭ রানের লিড হাতে নিয়ে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশের লিড এখন ৩৪ রান। উইকেটে মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম অপরাজিত আছেন। চতুর্থ দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে অর্থাৎ সকাল পৌনে ১০টায় শুরু হবে।
অলআউট পাকিস্তান, বাংলাদেশের লিড ২৭ রান
ইনিংসের ১০১তম ওভারে পাকিস্তানের শেষ উইকেটটি নিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ছয় রান করা হাসান আলীকে বোল্ড করেন তিনি। ৩৭ রানে শেষ ৫ উইকেট হারাল পাকিস্তান। ৫ উইকেটে ৩৪৯ রান করা পাকিস্তান গুটিয়ে গেছে ৩৮৬ রানে। বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড পায়।
১৪তম ‘ফাইফারে’ রেকর্ডের চূড়ায় মিরাজ
বৃষ্টির পর খেলা শুরু হতেই মিরপুরের উইকেটে স্পিনারদের রাজত্ব শুরু হয়েছে। এক সেশনেই পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে তাসের ঘরের মতো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন মিরাজ। শাহীন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ১৪তম পাঁচ উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েছেন।
ইনিংসের ৮৮তম ওভারে প্রথমে নোমান আলীকে শিকার করেন মিরাজ। তার করা একটি শর্ট ডেলিভারিতে প্রথম স্লিপে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ তুলে দেন নোমান (২)। এর কিছুক্ষণ পরই শাহীন শাহ আফ্রিদিকেও নিজের ঘূর্ণি জালে আটকান তিনি। এতেই ৫ উইকেট শিকার করেন মিরাজ। ১০০ ওভারে পাকিস্তানের রান ৯ উইকেটে ৩৮০। ক্রিজে হাসান আলির সঙ্গী মোহাম্মদ আব্বাস।
নাহিদের গতিতে সালমানের বিদায়
বৃষ্টির পর গতির ঝড় তুলেছেন নাহিদ রানা। ক্রিজে থিতু হয়ে বসা সালমান আঘাকে বিদায় করেছেন তিনি। নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ হয়ে ফেরার আগে ৯৪ বলে ৫৮ রান করেন তিনি। পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩৬৬ রান। বাংলাদেশের ৪১৩ রান থেকে তারা এখনো ৪৭ রানে পিছিয়ে আছে। ক্রিজে নোমান আলীর সঙ্গী হয়েছেন শাহীন শাহ আফ্রিদি।
বৃষ্টির পর শুরু হয়েছে খেলা
বৃষ্টির কারণে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকার পর বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে আবারও শুরু হয়েছে খেলা। চলবে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত, তবে পর্যাপ্ত আলো থাকলে আম্পায়াররা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত খেলা চালিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া চতুর্থ দিনের খেলা নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে অর্থাৎ সকাল পৌনে ১০টায় শুরু হবে।
মোহাম্মদ রিজওয়ান ফেরায় পাকিস্তান ৬ উইকেটে ৩৪৯ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছে। তাসকিন আহমেদের ‘নো’ বলে জীবন পাওয়ার পর থেকে সাবলীল ব্যাটিং করছেন তিনি। ক্রিজে তার সঙ্গী হিসেবে আছেন নোমান আলী।
রিজওয়ানের আউটের পরই বৃষ্টির বাগড়া
রিজওয়ানের বিদায়ের পরপরই বৃষ্টির বাগড়ায় বন্ধ হয়ে গেছে খেলা। ৮৯.৪ ওভারে পাকিস্তানের রান ৬ উইকেটে ৩৪৯। খেলা বন্ধ থাকায় আগেই চা বিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের চেয়ে সফরকারীরা এখনো ৬৪ রানে পিছিয়ে।
ইনিংসের ৯০তম ওভারে রিজওয়ানকে সাজঘরে ফেরান তাইজুল ইসলাম। তাইজুলের একটি ডেলিভারিকে ওপর দিয়ে ওড়াতে চেয়েছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু শটটি ঠিকঠাক না হওয়ায় মাহমুদুল হাসান জয়ের তালুবন্দি হন। ৭৯ বলে ৫৯ রান করা রিজওয়ানের বিদায়ে ভাঙে ১৫৭ বল স্থায়ী ১১৯ রানের জুটি।
এর আগে ২৩০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া পাকিস্তানকে টেনে তোলেন সালমান আলী আঘা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজনেই ব্যক্তিগত হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ব্যবধান কমিয়ে আনছিলেন। সালমান আলী ৭৮ বলে নিজের ১১তম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন। অন্যদিকে, আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৬৮ বলে ক্যারিয়ারের ১৩তম ফিফটি পান রিজওয়ান। এই দুজনের হাত ধরে পাকিস্তান দলীয় ৩০০ এবং পরে ৩৫০-এর মাইলফলক ছোঁয়ার খুব কাছে পৌঁছে যায়।
_1778405162.jpg)
চার উইকেট নিয়ে প্রথম সেশন বাংলাদেশের
মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে মাত্র ২৫ ওভার বল করে ৭২ রানে খরচায় ৪টি উইকেট তুলে নিয়েছেন তাসকিন ও মিরাজরা। ৫ উইকেটে ২৫১ রান তুলে মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে গেছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনও ১৬২ রানে পিছিয়ে আছে তারা। ক্রিজে এখন অপরাজিত আছেন সালমান আলী আঘা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান।
দিনের শুরুতেই সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইস ও অধিনায়ক শান মাসুদকে সাজঘরে পাঠান তাসকিন আহমেদ। এরপর স্পিন বিষ ছড়াতে শুরু করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সৌদ শাকিলকে শূন্য রানে ফেরানোর পর আব্দুল্লাহ ফজলকেও নিজের জালে আটকান মিরাজ। এই সেশনে তাসকিন ও মিরাজ দুজনেই ২টি করে উইকেট ভাগ করে নিয়েছেন।
তাসকিনের পর মিরাজের আঘাত
তাসকিন আহমেদের জোড়া ব্রেকথ্রুর পর এবার আঘাত হানলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইনিংসের ৬০তম ওভারে সৌদ শাকিলকে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় করেছেন এই অফ-স্পিনার। মিরাজের করা ডেলিভারিটি সুইপ করতে চেয়েছিলেন শাকিল, কিন্তু ব্যাটে-বলে সংযোগ না হওয়ায় সরাসরি তার প্যাডে আঘাত হানে।
আম্পায়ার এলবিডব্লিউর সংকেত দিলে শাকিল রিভিউয়ের আশ্রয় নেন। তবে টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাটে স্পর্শ করেনি এবং বল ট্র্যাকিং অনুযায়ী সেটি সরাসরি মিডল স্টাম্পে আঘাত করত। ফলে ৪ বল খেলে শূন্য রানেই ফিরতে হয় তাকে।
৬০ ওভারে পাকিস্তানের রান ৪ উইকেটে ২২৭। ক্রিজে ফজলের সঙ্গী সালমান আলি আগা।
তাসকিনের জোড়া শিকারে ম্যাচে ফিরল বাংলাদেশ
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৮৫ রানে অপরাজিত থাকা আজান আওয়াইস আজ সকালেই পূর্ণ করেছেন কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি। পাকিস্তানের ১৪তম ব্যাটার হিসেবে অভিষেক টেস্টেই শতক হাঁকানোর কীর্তি গড়েন তিনি। ১৫৩ বলে সেঞ্চুরি ছোঁয়ার কিছুক্ষণ পরই তাকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন আহমেদ। এতে আব্দুল্লাহ ফজলের সঙ্গে তার ১০৪ রানের জুটি ভাঙে।
আজানকে আউট করে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের ৫০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তাসকিন আহমেদ। এর কিছুক্ষণ পরেই পাকিস্তানি অধিনায়ক শান মাসুদকেও (৯) দ্রুত বিদায় করেন তিনি। তাসকিনের ডেলিভারিতে সাদমান ইসলামের হাতে ধরা পড়েন মাসুদ। ২২৬ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে সফরকারীরা। ৫৯ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ২২৬ রানে ব্যাট করছে পাকিস্তান। ক্রিজে আব্দুল্লাহ ফজলের সঙ্গী সৌদ শাকিল।
১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করল পাকিস্তান
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি হতে পারত বাংলাদেশের দিন। কিন্তু দিন শেষে সব আলো কেড়ে নিলেন পাকিস্তানের দুই তরুণ তুর্কি আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় দিনে ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে দিন শেষ করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তান ২৩৪ রানে পিছিয়ে আছে। অভিষিক্ত আজান আওয়াইস ৮৫ এবং আব্দুল্লাহ ফজল অপরাজিত আছেন ৩৭ রানে। দ্বিতীয় দিন শেষে চালকের আসনে সফরকারীরাই।
৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ৩৯তম জন্মদিনে রেকর্ড গড়া ফিফটি করে ৭১ রানে থামেন মুশফিকুর রহিম। তবে আজ বাংলাদেশের মিডল অর্ডার খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। লিটন দাস ৩৩ ও মেহেদী মিরাজ ১০ রানে বিদায় নিলে ৪০০ ছোঁয়া নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের ১৯ বলে ২৮ রানের ঝোড়ো ক্যামিওতে ৪১৩ পর্যন্ত পৌঁছায় স্বাগতিকরা। পাকিস্তানের মোহাম্মদ আব্বাস ৯২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংসের সেরা বোলার।
বোলিংয়ের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না বাংলাদেশের তিন পেসারের। ওয়ানডে মেজাজে রান তুলতে থাকা ইমাম-উল-হক ও আজান আওয়াইস উদ্বোধনী জুটিতেই ১০৬ রান যোগ করেন। অবশেষে ২২তম ওভারে স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ইমামকে (৪৫) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ব্রেক-থ্রু এনে দেন। তবে এরপর আর কোনো উইকেটের দেখা পায়নি বাংলাদেশ।
ইমাম ফিরলেও অভিষেক ম্যাচ রাঙাতে ভুল করেননি আজান আওয়াইস। মাত্র ৬৫ বলে ফিফটি করা এই তরুণ দিন শেষে ১৩৩ বলে ৮৫ রানে অপরাজিত আছেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছেন আরেক অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজল (৩৭*)। তবে আজ বাংলাদেশের ফিল্ডিং ভালো হয়নি। ২৯ রানের মাথায় আব্দুল্লাহ ফজলের সহজ ক্যাচ মিস করেন সাদমান ইসলাম। এর আগে চা-বিরতির ঠিক আগে এবাদতের বলে ক্যাচ ছেড়েছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়ও।
- বিষয় :
- বাংলাদেশ-পাকিস্তান
- টেস্ট সিরিজ
