ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিসিবি নির্বাচনে উপেক্ষিত নারী সংগঠক

বিসিবি নির্বাচনে উপেক্ষিত নারী সংগঠক
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১৩:৩৯

ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত একটি মাত্র এশিয়া কাপ জিতেছে বাংলাদেশ, সেটি এসেছে মেয়েদের হাত ধরে। ২০১৮ সালে ভারতকে হারিয়ে টি২০ এশিয়া কাপ জিতেছিলেন সালমা খাতুনরা। অথচ সেই নারী ক্রিকেটাররাই উপেক্ষার শিকার! বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে নারী প্রার্থী নেই একজনও। ১৮৪ জন কাউন্সিলের মধ্যে একমাত্র নারী প্রকৌশলী ফিরোজা করিম নেলী। বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলর করা হয়েছে তাঁকে। তিনিও ক্যাটেগরি-৩ থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হননি। এই ক্যাটেগরি থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটাধিকারও প্রয়োগ করতে পারছেন না নেলী। বিসিবির নীতিনির্ধারক বা কাউন্সিলর করার ক্ষেত্রে নারীদের কথা বিবেচনা করা হয়নি।

২০০৭ সালের অ্যাডহক কমিটির সদস্য ছিলেন মনোয়ার আনিস খান মিনু। ২০০৮ সালের নির্বাচনে নারী প্রতিনিধির অংশগ্রহণ ছিল না। ১৭ বছর পর ২০২৫ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কোটায় একজন পরিচালক পেয়েছিল বিসিবি। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ডে নারী ক্রিকেটের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল রুবাবা দৌলাকে। তামিম ইকবালের অ্যাডহক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তিনি নারী শাখার চেয়ারম্যানও। আশা করা হয়েছিল জ্যোতিদের চেয়ারম্যান একজন নির্বাচিত নারী পরিচালক হবেন। আগামী ৭ জুনের নির্বাচনে নারী ক্রিকেটারদের সে স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। 

এ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আয়শা আক্তার শুকতারা বলেন, ‘শুনেছিলাম নারী ক্রিকেটের পরিচালনায় নারীরা থাকবে। সেটা হলে ভালোই হতো। জেলা বিভাগ থেকে না হলেও এনএসসি থেকে একজন কাউন্সিলর করতে পারত।’ 

এই ব্যাপারে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বা রুবাবা দৌলা বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। রাশনার মতে, ‘আমি যেহেতু অ্যাডহক কমিটিতে আছি, তাই কোনো মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’ রুবাবা বলেন, ‘নতুন বোর্ড এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে মেয়েদের ক্রিকেটে নারী চেয়ারপারসন থাকলে ভালোই হয়।’

বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পাঁচজন কাউন্সিলরকে মনোনয়ন করে এনএসসি। এই কাউন্সিলরদের থেকে পরে দুজন পরিচালক মনোনয়ন দেয় তারা। সাবেক ১০ জন ক্রিকেটার ও পাঁচজন অধিনায়ক কাউন্সিলর মনোনীত হন বিসিবি সভাপতির কোটায়। সেখানেও কোনো নারী ক্রিকেটার নেই। অথচ জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক সালমা খাতুন নারী ক্রিকেটের নির্বাচক। শুকতারা মনে করেন জাতীয় দলের সাবেকদের থেকে একজন করে কাউন্সিলর করা হলে মেয়েরা সম্মানিত হতো। 

তিনি বলেন, ‘এখন তো মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। জাতীয় দল ভালো করছে। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ছেলেতে-মেয়েতে পার্থক্য কমিয়ে এনেছে। আমরাও কিছুটা উন্নতি করেছি, তবে বিসিবিতে নারী প্রতিনিধিত্ব না থাকলে ভালো দেখায় না। মেয়েদের প্রতিনিধি হিসেবে দুজন নারী ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর করলে ভালো হতো।’ যদিও বর্তমান অ্যাডহক কমিটির একজন সদস্য বলছেন, ভুলবশত নারী ক্রিকেটারদের কাউন্সিলর করা হয়নি। এনএসসি কোটায় একজন পরিচালক মনোনীত করার চেষ্টা করবেন তারা।

আরও পড়ুন

×