দক্ষিণ কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্র
গতি বনাম পাওয়ার
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৩
চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় আছেন দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক সন হিউং-মিন। কিন্তু এখন সেই প্রথমবারের মতোই রোমাঞ্চ অনুভব করছেন তিনি। শুধু তাই নয়, চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের আগে সতীর্থদের চোখেও নাকি একই ভাষা দেখেছেন সন। মেক্সিকোর গুয়াদালাজারায় আজ বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। গ্রুপ ‘এ’-এর অপর দুই দল স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা, যাদের ম্যাচ দিয়ে গতকাল গভীর রাতে বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে। প্রতিটি গ্রুপের সেরা দুটি দল নকআউট পর্বে যাবে।
১২তম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। আগের ১১ আসরে ৩৮ ম্যাচ খেলে মাত্র ৭টি জয় পেয়েছে এশিয়ার দেশটি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি জয় এসেছিল ২০০২ আসরে। ঘরের মাঠে সেই আসরে ইতালি ও স্পেনের মতো পরাশক্তিকে ছিটকে দিয়ে সেমিতে খেলেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। সেই স্মরণীয় আসরে অধিনায়কত্ব করা হং মিউং-বো এবার দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ। তাঁর কোচিংয়ে সন-কিমরা আরও একটি দুর্দান্ত বিশ্বকাপ উপহার দেওয়ার প্রত্যাশায়। দারুণ ফর্মেও আছেন তারা। এএফসি বাছাইপর্বে একমাত্র অপরাজিত দল এই দক্ষিণ কোরিয়া। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৫তম দলটির বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও ভালো হয়েছে। প্রীতি ম্যাচে ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর এল সালভেদরকে লি দং-গিয়ংয়ের ফ্রি কিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে যাচ্ছে তারা।
চেক রিপাবলিকের রয়েছে সমৃদ্ধ ফুটবল ঐতিহ্য। বলকান যুদ্ধে ভেঙে যাওয়ার আগে এই অঞ্চল ছিল বিশ্বের অন্যতম উর্বর ফুটবল ভূমি। ‘চেকোস্লোভাকিয়া’ নামে ১৯৩৪ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হয়েছিল তারা। তবে দেশটি ভেঙে যাওয়ার পরই শক্তি কমে যায়। চেক রিপাবলিক নামে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামে তারা ২০০৬ সালে। জার্মানির সেই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা।
২০২২ কাতার বিশ্বকাপের উয়েফা প্লেঅফে সুইডেনের কাছে সেমিতে হেরে বাদ পড়েছিল তারা। এবারও প্লে-অফে সেই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড ও ডেনমার্ককে পেনাল্টিতে হারিয়ে নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়ে যায় চেক রিপাবলিক। সেই থেকে বিশ্বকাপ প্রস্তুতিসহ টানা ছয় ম্যাচ জিতে এসেছে চেক রিপাবলিক।
শারীরিক গঠনের কারণে চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জে পড়বে সেট পিসে। বাছাইপর্বে তাদের অর্ধেকের বেশি গোল এসেছে সেট পিস থেকে। এরমধ্যে ৭টি শুধু কর্নার থেকে। এই ‘ডেড বল’ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভয়ংকর হলেন ৬ ফিট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার চেক স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক।
৬ ফিট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার ওয়েস্টহামের মিডফিল্ডার টমাস সুসেকের আটকানো হবে কোরিয়ানদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে মূলত বায়ার্ন মিউনিখ ডিফেন্ডার কিম মিন-ঝাকে। আর আক্রমণের মূল দায়িত্বটা থাকবে অধিনায়ক সনের কাঁধে। তাঁকে এ কাজে সহায়তা করবেন উলভসের ফরোয়ার্ড হং হে-চ্যান ও পিএসজি স্ট্রাইকার লি ক্যাং।
বিশ্বকাপে এই প্রথম মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল। এর আগে তিনটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে উভয় দল একটি করে জয়ের দেখা পেয়েছে এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল। তবে ইদানীং বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েছিল তারা। গত আসরে নকআউটে শেষ হয়েছিল। গত তিন আসরেই প্রথম ম্যাচে হেরেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এসব ইতিহাস নিয়ে অবশ্য ভাবছেন না অধিনায়ক সন। জয় নিয়ে আসর শুরু করে নতুন ইতিহাস লিখতে চান তিনি।
