ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

চতুর্থ বিশ্বকাপেও নিজেকে ‘কিশোর’ ভাবছেন সন

চতুর্থ বিশ্বকাপেও নিজেকে ‘কিশোর’ ভাবছেন সন
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৭:৫০

বয়স ৩৪ ছুঁইছুঁই। আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৪-এ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের অবিসংবাদিত ‘পোস্টার বয়’। অথচ ফুটবলবিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে যখন আবারও নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন তাঁর অনুভূতি একদম প্রথমদিনের মতো। বলছিলাম সন হিউং-মিনের কথা। আজ সকালে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে নামতেই সনের নামের পাশে যোগ হবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে খেলার অনন্য কীর্তি।

মেগাস্টার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল এলএএফসিতে যোগ দেওয়া সন এখনও কোরিয়ান ফুটবলের মূল চালিকাশক্তি। তবে এতসব অর্জন আর অভিজ্ঞতার পরও বিশ্বমঞ্চে নামার আগে রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে তাঁকে। ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সন বলেন, ‘বিশ্বকাপের মাঠে ফিরতে পেরে আমি দারুণ আনন্দিত। ছোটবেলা থেকেই এই স্বপ্ন দেখেছি। এটি আমার প্রথম বিশ্বকাপ হোক আর চতুর্থ, নিজেকে আমার সেই আগের মতো কিশোর মনে হয়। এটি তো স্বপ্নের মঞ্চ। এক কথায় এই অনুভূতি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। প্রথম, চতুর্থ কিংবা ষষ্ঠ যে বিশ্বকাপই হোক, এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার মানসিকতা সবসময় একই থাকা উচিত।’

সবশেষ কাতার বিশ্বকাপে সনের অতিরিক্ত সময়ের জাদুকরী অ্যাসিস্টেই পর্তুগালকে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে সন বলেন, ‘কাতারে আমরা আমাদের শক্তির পরিচয় দিয়েছিলাম, তবে কিছু ভুলত্রুটিও ছিল। সেই ব্যর্থতা থেকে আমরা শিক্ষা নিয়েছি। দল হিসেবে এখন আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব ও অভিজ্ঞ।’ 

পরিসংখ্যান অবশ্য কোরিয়ানদের পক্ষে কথা বলছে না। গত তিনটি বিশ্বকাপের একটিতেও নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেনি তারা। ফলে শুরুতেই বড় পাহাড় টপকানোর চাপে পড়তে হয়েছে দলটিকে। তবে এসব পরিসংখ্যান নিয়ে এখনই মাথা ঘামাতে রাজি নন দক্ষিণ কোরিয়ান অধিনায়ক, ‘প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব নিয়ে আমি এখনই ভাবছি না। আমি ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমান নিয়ে বাঁচতে পছন্দ করি। গ্রুপ পর্বে আমাদের তিনটি ম্যাচই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে জীবন বাজি রেখে লড়ব। প্রয়োজন হলে সামর্থ্যের সীমাও ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’

সনের পাশাপাশি এই বিশ্বকাপটি দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হং মিউং-বোর জন্যও এক অগ্নিপরীক্ষা। ১৯৯৮ সালের পর ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে তাঁর অধীনেই সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স করেছিল কোরিয়া। যেখানে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা। ১২ বছর পর নিজের দ্বিতীয় সুযোগে সেই ব্যর্থতা ঢাকতে কোচ বলেন, ‘২০১৪ সালে আমরা ব্যর্থ হয়েছিলাম। তবে সেই অতীত থেকে আজ পর্যন্ত আমরা অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছি। এবার আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো। আমি শুধু চাই ছেলেরা কোনো চাপ না নিয়ে ম্যাচটি উপভোগ করুক।’

আরও পড়ুন

×