ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

নির্মল মতিহার উদ্যানে রাসিকের ভাগাড়

ভ্যান ও ট্রাক ভরে ময়লা ফেলা হয়

নির্মল মতিহার উদ্যানে রাসিকের ভাগাড়
×

ফাইল ছবি

 রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৯:৪০ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ | ১০:৪৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বদ্ধভূমির পাশ ঘেঁষে পূর্বদিকের রাস্তা ধরে হাঁটলে চোখে পড়ে সবুজের সমারোহ। সেখানে ঘন গাছপালা শীতল ছায়া দেয়। ঝাঁক বেঁধে এসে বসে পাখি। জায়গাটির নাম রাখা হয়েছে ‘মতিহার উদ্যান’। এই উদ্যানের ভেতর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সব বর্জ্য ফেলছে। এতে নির্মল পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে আবর্জনার দুর্গন্ধে। উদ্যানের মধ্য দিয়ে আসা সড়কে হাঁটতে গেলে নাক-মুখ ঢাকতে হয় রুমালে। চার বছর ধরে এ অবস্থা চলছে। এখান থেকে ভাগাড় সরাতে কোনো উদ্যোগ নেই।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রাসিকের ৩০টি ওয়ার্ডে মোট ১৯টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) রয়েছে। এতে গৃহস্থালি বর্জ্য সাময়িকভাবে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরে ট্রাকে শহরের বাইপাস এলাকার ল্যান্ডফিলে নেওয়া হয়। নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের এসটিএসটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরসংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায়। তবে ২০২২ সালে তালাইমারি থেকে কাটাখালি পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণের সময় ভাঙা পড়ে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের এসটিএসটি। এতে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কোনো এসটিএস নেই। ফলে গত প্রায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে মতিহার উদ্যানের এক পাশজুড়ে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, চৌদ্দপাই এলাকা থেকে মতিহার উদ্যানের মধ্য দিয়ে একটি রাস্তা প্রবেশ করেছে ক্যাম্পাসের ভেতরে। ভারী যানবাহন চলায় সড়কের অবস্থা বেহাল। সড়কে প্রবেশের পরেই উত্তর পাশের অন্তত ১০০ মিটার জায়গায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে বাসাবাড়ির ব্যবহৃত আবর্জনা। 

এই রাস্তা ব্যবহার করে নিয়মিত যাতায়াত করেন বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র রেদওয়ানুজ্জামান সিফাত। সে বলে, আমরা গত কয়েক বছর থেকেই দেখছি এখানে ভ্যান ও ট্রাক ভরে ময়লা ফেলা হয়। সব সময় দুর্গন্ধ আসে। আমরা এখান দিয়ে ভালোভাবে হাঁটতে পারি না।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা বলেন, এখানকার পাখি, সবুজ প্রকৃতি সবকিছুই খুব সুন্দর। কিন্তু সিটি করপোরেশন এখানে ভাগাড় বানিয়ে ফেলছে, যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর। দুর্গন্ধ অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই সড়ক দিয়ে হাঁটাচলা এখন কঠিন। এর একটি সমাধান প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী মুসলিম রেজা বলেন, আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের পাশে সায়েন্স ল্যাব এলাকার বিপরীতে একটি এসটিএস ছিল, যেখানে বর্জ্য ফেলা হতো। এখন বর্জ্য ফেলার জন্য নির্ধারিত কোনো স্থান নেই। তাই আমাদের এখানে বর্জ্য আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলিম সমকালকে বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। একটি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভেতরে সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ফেলা অনুচিত। এ ছাড়া মতিহার উদ্যান আমাদের ক্যাম্পাসের সবচেয়ে সুন্দর জায়গাগুলোর একটি। সেখানে বাইরের আবর্জনা ফেলা ক্যাম্পাসের পরিবেশের জন্যও ক্ষতিকর। আমরা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করব।’

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কারণে আগের এসটিএস ভেঙে ফেলতে হয়। আমরা ইতোমধ্যে নতুন একটি এসটিএসের জন্য স্থান নির্বাচন করেছি। তবে বর্তমানে ওই ওয়ার্ডে কোনো নির্বাচিত কাউন্সিলর নেই।’ 

আরও পড়ুন

×