বিদ্যুৎ খাত
অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৯:০১
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিদ্যুৎ খাতে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা ও ক্রমবর্ধমান ভর্তুকির চাপ নিয়ে তীব্র সমালোচনা থাকলেও আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনার কথা বলেছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে।
বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯৯১ মেগাওয়াট। ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা দিন ও রাতে মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি ছিল। এখন পর্যন্ত রেকর্ড সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ, সক্ষমতার একটি বড় অংশই অলস পড়ে থাকে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা প্রতিনিয়ত অব্যবহৃত থাকলেও নতুন করে প্রায় ছয় হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা যুক্তিসংগত নয়।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, সরকার আগের ভুল নীতির ধারাতেই এগোচ্ছে। তাঁর মতে, অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার বোঝা সামলাতে না পেরে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দ্রুত বাড়ছে। এই অবস্থায় সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন, বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া বেশ কিছু মেগা প্রকল্পে একতরফা ও বিতর্কিত শর্তের কারণে বিদ্যুৎ আমদানি ও ক্রয় ব্যয় বহু গুণ বেড়েছে। এর ফলে বর্তমানে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যৌথভাবে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৩৯৩ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে সামগ্রিক জ্বালানি খাত এখন গভীর চাপের মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে স্থলভাগ ও বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর জোরোলো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
- বিষয় :
- বাজেট
