ঢাকা শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

মূলধারায় সৃজনশীল অর্থনীতি

মূলধারায় সৃজনশীল অর্থনীতি
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ০৮:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতের বরাদ্দ সামান্য বাড়লেও সৃজনশীল অর্থনীতি, ক্রীড়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট খাতের বিকাশে একাধিক নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব উদ্যোগের কথা জানান।

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের জন্য ৮২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে মাত্র দুই কোটি টাকা বেশি। প্রস্তাবিত বরাদ্দের মধ্যে পরিচালন ব্যয়ের জন্য ৪৮৫ কোটি টাকা এবং উন্নয়নের জন্য ৩৪১ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মূল বাজেট ছিল ৮২৪ কোটি টাকা, যা সংশোধিত বাজেটে কমে ৭৫৩ কোটি টাকায় নেমে আসে।

মোট জাতীয় বাজেটের মাত্র ০.০৯ শতাংশ সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর আগে দেশের সাংস্কৃতিক সংগঠন ও কর্মীরা জাতীয় বাজেটে সংস্কৃতি খাতে অন্তত ২ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, সামাজিক সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ, জাতীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক অগ্রগতির স্বার্থে এ খাতে আরও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন।
এদিকে সরকার এবারের বাজেটে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ (সৃজনশীল অর্থনীতি)-কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের মেধা ও মনন কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্বে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে বাজেটে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এ খাতে মোট ৮০০ কোটি টাকার সম্ভাব্য তহবিল গঠনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

সৃজনশীল শিল্প ও ডিজিটাল কনটেন্ট খাতকে উৎসাহিত করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর ও শুল্ক সুবিধারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল মিডিয়ায় ব্যবহৃত সংগীতের মানোন্নয়ন এবং নতুন সৃজনশীল সংগীত তৈরিতে সহায়তার লক্ষ্যে গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও এর যন্ত্রাংশ আমদানির ওপর আরোপিত ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে এসব বাদ্যযন্ত্রের দাম কমে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র ও ক্রিয়েটিভ মিডিয়ার কারিগরি সক্ষমতা বাড়াতে উচ্চ প্রযুক্তির সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা, প্রজেক্টর ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানির শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ক্রীড়া খাতকে একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক খাতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদন বা প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়; বরং কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ, পর্যটন, গণমাধ্যম এবং ক্রীড়াসামগ্রী শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত। কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করে দীর্ঘমেয়াদি বৃত্তি দেওয়া হবে।
তবে সংস্কৃতি খাতের বরাদ্দ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী (একাংশ)। বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, এবারের বাজেটেও সংস্কৃতি খাতকে প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়নি। সংস্কৃতিকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা না করে এখনও একটি গৌণ খাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×