ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

১০ ফুটবলার এক স্ট্যাচু: রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপ বিসর্জন দিচ্ছে পর্তুগাল?

১০ ফুটবলার এক স্ট্যাচু: রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপ বিসর্জন দিচ্ছে পর্তুগাল?
×

কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে একেবারে নিষ্প্রভ ছিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বুধবার হিউস্টনে। ছবি: এএফপি

দ্য ইনডিপেনডেন্ট

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ২০:২৭ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ | ২০:৪১

লিওনেল মেসি যা করতে পেরেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তা পারেননি। মেসিকে ঘিরে আলবিসেলেস্তেরা যখন টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছে, তখন ক্রিস্টিয়ানোই কি পর্তুগালের অগ্রযাত্রার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন?

বুধবার রাতে কঙ্গোর বিপক্ষে ড্র দেখিয়ে দিয়েছে, ১০ জন খেলোয়াড় ও এক ‘স্ট্যাচু’ বা মূর্তি নিয়ে বিশ্বকাপ জেতার চেষ্টা কতটা কঠিন। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট দলের জন্য এটি ছিল হতাশাজনক সূচনা।

হিউস্টনের এই ব্যর্থতার পেছনে পর্তুগালের সমস্যা ছিল অথবা রোনালদো নিজেই সমস্যার কারণ। তাঁর নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সের কারণে পর্তুগাল জয়ের বদলে ড্র করেছে। ফলে কানসাস সিটিতে কোয়ার্টার-ফাইনালে মেসির সঙ্গে তাঁর সম্ভাব্য আরেকটি লড়াই অনিশ্চিত হয়ে গেছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলে তাদেরকে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে এগোতে হবে।

ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মাঠে নামলেও রোনালদো এখনো সব আসরে গোল করা প্রথম ফুটবলার হতে পারেননি। কঙ্গোর বিপক্ষে সে লক্ষ্য পূরণের সুযোগ ছিল, কিন্তু হয়নি।

ম্যাচের মূল স্রোতের অনেকটাই বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন রোনালদো। ছবি: এএফপি

পর্তুগাল ম্যাচের প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখেছিল। অথচ প্রত্যাশিত গোল ছিল মাত্র ০.৬৯ শতাংশ। এতে মনে হতে পারে, ফরোয়ার্ড হিসেবে রোনালদো যথেষ্ট সমর্থন পাননি। কিন্তু যখন একজন খেলোয়াড়ের আর ডিফেন্ডারদের পেছনে দৌড়ানোর গতি থাকে না কিংবা তাদের ফাঁকি দেওয়ার মতো নড়াচড়া নেই, তখন সমস্যা শুধু ‘সাপ্লাইয়ের’ নয়।

রক্ষণভাগ ভাঙতে গিয়ে পর্তুগাল এমন এক স্ট্রাইকারকে নিয়ে খেলছিল, যিনি কার্যত বক্সে অদৃশ্য ছিলেন। তিনি প্রেসিং করতে পারছিলেন না, প্রতিপক্ষকে অবস্থান থেকে সরাতেও পারছিলেন না। ফলে রোনালদো ম্যাচের মূল স্রোতের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এমনকি একটি ক্রস থেকে যখন হেডে গোল হলো, প্রথমে সেটিকে রোনালদোর ‘ট্রেডমার্ক’ গোল মনে হচ্ছিল। কিন্তু প্রকৃত গোলদাতা ছিলেন মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস।

ম্যাচের শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড তিনটি শট নিতে পেরেছিলেন। কিন্তু একটিও লক্ষ্যে ছিল না। এর মূল্যও দিতে হয়েছে পর্তুগালকে। প্রথম শটের ক্ষেত্রে ৪১ বছর বয়সী রোনালদো বলটি বাইরে মারেন। অথচ তাঁর ঠিক পেছনে সম্পূর্ণ ‘ফ্রি’ ছিলেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। 

ম্যাচের একটি মুহূর্ত। ছবি: এএফপি

রোনালদো ম্যাচজুড়েই মাঠে ছিলেন। এক অর্থে এর পক্ষে যুক্তি আছে। দলের যখন গোল দরকার তখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড ১৪৩ গোল এবং পেশাদার ক্যারিয়ারে প্রায় ১ হাজার গোলের মালিক একজন খেলোয়াড়কে কেন তুলে নেওয়া হবে? কিন্তু মাঠে দেখা গেল তাঁর নিষ্প্রাণ উপস্থিতি। যা দলে তাঁর বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অপবাদকে আরও জোরালো করেছে। 

বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে রোনালদোর গোলখরা ১০ ম্যাচ ও ৮০১ মিনিটে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই গোলহীন ধারাবাহিকতা আর কত দীর্ঘ হলে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ ‘সিআর সেভেনকে’ একাদশের বাইরে রাখবেন বা ম্যাচের মাঝপথে তুলে নেবেন? 

অবশ্য এটাও সত্য, বর্তমানে পর্তুগালের হাতে খুব বেশি মানসম্পন্ন সেন্টার-ফরোয়ার্ড নেই। তবে বদলি হিসেবে নামা উইঙ্গার রাফায়েল লিয়াউ ও  ফ্রান্সিসকো কনসিকাও অন্তত গতি, উদ্যম এবং ডিফেন্ডারদের সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার মানসিকতা দেখিয়েছেন।

ব্রুনো ফার্নান্দেজ সাধারণত তাঁর চারপাশে দৌড়াতে পারে এমন খেলোয়াড় পছন্দ করেন। কিন্তু পর্তুগালের শুরুর একাদশে এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা ছিল খুবই কম। ভিতিনিয়া ও জোয়াও নেভেস নিখুঁত পাসিংয়ে পারদর্শী হলেও তাদের সামনে গতিময় খেলোয়াড় দরকার। বার্নার্ডো সিলভা দ্রুত ওয়ান-টু পাসে খেলতে পছন্দ করেন। কিন্তু রোনালদোকে নিয়ে কি তা সম্ভব?

সতীর্থদের সঙ্গে রোনালদো। ছবি: এএফপি

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ার কারণে রোনালদোর এই ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু তারকাদের প্রতি ফিফা ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অনুরাগের কারণে সম্ভবত তাঁর শাস্তি স্থগিত হয়। কিন্তু রোনালদো যদি এই ম্যাচে খেলতে না পারতেন, তাহলে পর্তুগাল বাধ্য হতো তাঁকে ছাড়া খেলার উপায় খুঁজতে। সেক্ষেত্রে অন্য কোনো স্ট্রাইকারকে সুযোগ দিতো অথবা সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিতো।

কঙ্গো অসাধারণ খেলেছে। এমন দলের বিপরীতে পর্তুগাল রোনালদোকে ছাড়া খেললে জিতে যেত সে নিশ্চয়তা নেই। আর তাই, ২০২৪-এর ইউরোর মতো এবারও রোনালদোর ‘ইগোর’ বেদীতে নিজেদের আরেকটি সম্ভাব্য গৌরবময় অভিযান বিসর্জনের ঝুঁকিতে আছে পর্তুগাল।

আরও পড়ুন

×