কুমিল্লা কারাগারে যুবদলকর্মীর মৃত্যু
শহিদুল্লাহ রাসেল
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ২১:৩৩
কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা মাদক মামলায় অভিযুক্ত যুবদলকর্মী শহিদুল্লাহ রাসেল (৪১) মারা গেছেন। তিনি জেলার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের আটিটি গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি পেরুল উত্তর ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান।
পুলিশ ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে বিকেলে লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের শাসনপাড়া গ্রাম থেকে ১০২টি ইয়াবাসহ শহিদুল্লাহ রাসেলকে গ্রেপ্তার করে লালমাই থানা-পুলিশ। গত ১১ মে বিকেলে আদালতের নির্দেশে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহ আলম খান সাংবাদিকদের জানান, গত ১৯ মে কারা হাসপাতালের চিকিৎসক ওই আসামির কাশিসহ নিউমোনিয়াজনিত রোগের ওষুধ দেন। ১৫ জুন আবার তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। পরদিন হাজিরা থাকায় তাকে আদালতে নেওয়া হয়। বুধবার তিনি আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিন বিকেলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তার। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
শহিদুল্লাহ রাসেলের স্ত্রী হালিমা আক্তার অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, আমার স্বামীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মোবাইলে কল করে আটিটি বাজার থেকে শাসনপাড়া নিয়ে ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। পরে মিথ্যা মাদক মামলায় পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়।
লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টু বলেন, কারাগারে মারা যাওয়া শহিদুল্লাহ রাসেল যুবদলের নিবেদিত কর্মী ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, তাকে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারের নিকট দাবি জানিয়েছেন।
তবে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান সমকালকে বলেন, পুলিশ ওই ব্যক্তিকে মোবাইলে ডেকে নেয়নি। ইয়াবাসহ ঘটনাস্থলে তাকে পাওয়া যায়। অভিযানের ভিডিও পুলিশ ধারণ করে রেখেছে। এর সাক্ষীও আছে।
- বিষয় :
- যুবদল নেতা
- কারাগার
- নিহত
